উত্তর : সম্মিলিত মুনাজাত ও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ঈছালে ছাওয়াবের নিয়মটি শরী‘আতসম্মত নয়, বরং এটি একটি বিদ‘আত। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুস্পষ্ট নির্দেশ, مَنْ أَحْدَثَ فِيْ أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)। যেহেতু সম্মিলিতভাবে নির্দিষ্ট সূরা-দুরূদ পাঠ করে মুনাজাতের এই বিশেষ পদ্ধতিটি সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়, তাই এই আমলটি প্রত্যাখ্যাত। শাইখ আব্দুল আযীয ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
أما ما يفعله بعض الأئمة بعد السلام من صلاة الفريضة من رفع يديه ورفع المأمومين أيديهم يدعون جميعاً، فهذا ليس له أصل، بل هو بدعة، لم يفعله النبي صلى الله عليه وسلم ولا خلفاؤه الراشدون رضى الله عنهم
‘ফরয ছালাতের সালামের পর কিছু ইমাম যা করেন- হাত তোলেন এবং মুক্তাদিরাও হাত তুলে সবাই মিলে দু‘আ করে- এর কোনো ভিত্তি নেই, বরং এটি বিদ‘আত। নবী (ﷺ) এবং খোলাফায়ে রাশেদীন তা করেননি’ (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব, ১/১১৫; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১১/১৬৮ পৃ.)। শায়খ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, و كل عبادة لم يشرعها الله ورسوله فإنها باطلة مردودة ‘আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যে ইবাদতকে শরী‘আতসম্মত করেননি, তা বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত’ (ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ৩৮৫)। যেহেতু এই পদ্ধতির কোন শরঈ দলীল নেই, তাই এটি নিছক স্থানীয় প্রথা, মানুষের মনগড়া বা সমাজে প্রচলিত একটি ভুল নিয়ম, যা পরবর্তীতে দ্বীনের অংশ হিসাবে গৃহীত হয়েছে। তাই এটি বাতিল বলে গণ্য হবে। মৃতদের জন্য ঈসালে ছাওয়াবের সর্বোত্তম ও শরী‘আতসম্মত পন্থা হলো: তাদের জন্য একাকী দু‘আ ও ক্ষমা চাওয়া। তাদের পক্ষ থেকে ছাদাকা বা দান-খয়রাত করা। হজ বা উমরাহ করানো।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মদ রেজাউল হক, গংগাচড়া রংপুর।