বুধবার, ২২ Jul ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন
উত্তর : কোন মুসলিমকে যদি ভোট দিতে যেতে বাধ্য করা হয় সেক্ষেত্রে তিনি যেতে পারেন। অতঃপর অবশ্যই তিনি তুলনামূলকভাবে সৎ ব্যক্তির পক্ষে এবং অসৎ প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দিবেন অথবা চাইলে ভোট নষ্ট করেও দিতে পারেন। কিন্তু যদি এর কোনটাই তার পক্ষে করা সম্ভবপর না হয় এবং অসৎ ও আল্লাহদ্রোহী প্রার্থীকেই ভোট দিতে বাধ্য করা হয় অথবা তিনি যদি নির্যাতিত হওয়ার আশঙ্কা করেন, তাহলে আমরা আশা করছি এমতাবস্থায় তার কোন গুনাহ হবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘কেউ বিশ্বাস করার পরে আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং অবিশ্বাসের জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখলে তার উপর আপতিত হবে আল্লাহর ক্রোধ এবং তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। তবে তার জন্য নয়, যাকে অবিশ্বাসে বাধ্য করা হয়েছে, অথচ তার চিত্ত বিশ্বাসে অবিচল’ (সূরা আন-নাহল : ১০৬)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতকে ভুল, বিস্মৃতি ও জবরদস্তির গুনাহ হতে নিষ্কৃতি দেয়া হয়েছে’ (ইবনু মাজাহ, হা/২০৪৩, ২০৪৪, ২০৪৫, সনদ ছহীহ)। দ্বিতীয়তঃ ঈমানদাররা সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর আইনের চেয়ে উত্তম কোন আইন নেই। আল্লাহর আইন বিরোধী সকল বিধানই জাহিলী বিধান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তবে কি তারা প্রাগ-ইসলামী (জাহিলিয়্যাত) যুগের বিচার-ব্যবস্থা পেতে চায়? খাঁটি বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ অপেক্ষা বিধান প্রদানে কে শ্রেষ্ঠতর’? (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫০)‌।

আল্লাহর উপর ঈমান ও রাসূলগণের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে সেগুলোর প্রতি ঈমান আনার পর আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে অন্য কোন আইন গ্রহণ করার প্রবণতাকে আল্লাহ তা‘আলা ‘বিস্ময়কর’ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা ধারণা (ও দাবী) করে যে, আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তাতে তারা বিশ্বাস করে? অথচ তারা ত্বাগূতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, যদিও তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর শয়তান তাদেরকে ঘোর বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত করতে চায়’ (সূরা আন-নিসা : ৬০)। ইমাম শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা উল্লেখ করেছেন যে, যারা আল্লাহ্র আইন বাদ দিয়ে অন্য আইন দ্বারা শাসনকার্য পরিচালনা করে, আল্লাহ তাদের ঈমানের দাবীর প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কারণ ত্বগূতের কাছে বিচার ফয়সালা চাওয়ার পরেও ঈমানের দাবী- মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়। এমন মিথ্যা সত্যিই বিস্ময়কর’ (আযওয়াউল বায়ান ফী ইযাহুল কুরআন বিল কুরআন, ৩/২৫৯ পৃ.)। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সত্তার শপথ করে বলছেন, কোন ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূল (ﷺ)-কে বিচারক হিসাবে না মানা পর্যন্ত ঈমানদার হবে না। রাসূল (ﷺ) যে বিধান দিয়েছেন সেটাই হক্ব, প্রকাশ্যে ও গোপনে উভয়াবস্থাতেই সেটাকে মেনে নিতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘কিন্তু না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা বিশ্বাসী (মুমিন) হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচারভার আপনার উপর অর্পণ না করে। অতঃপর আপনার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে নেয়’ (সূরা আন-নিসা : ৬৫)।

অতএব পূর্বোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করে না তাকে নির্বাচিত করা হারাম। কারণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে হারামের প্রতি সন্তুষ্টি ও হারাম কাজে সহযোগিতা করা হল (বিস্তারিত দ্র. : ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৩০৪০; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৮/২০৭ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৮) : কোন নারী তার সব সম্পত্তি ওয়াকফ করে দিতে পারবে কি? উল্লেখ্য, তার স্বামী, সন্তানেরা ধনী হওয়ার কারণে এ কাজে তাদের কোন আপত্তি নেই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ইমামের কুরআন তেলওয়াত শুদ্ধ না হলে, মুক্তাদির ছালাত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : একজন ব্যক্তি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মাযারে/খানকায়/কবরে ফুল দেয়া শিরক জেনেও যদি এরকম অপরাধ বার বার করেই চলে, তাহলে সে কি ক্ষমা পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একবার দাবা খেলায় রত কিছু মানুষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, এই মুর্তিগুলো কী, যাদের সামনে তোমরা বসে আছ? এগুলো স্পর্শ করার চেয়ে জলন্ত অঙ্গার নির্বাপিত হওয়া পর্যন্ত তাতে হাতে রেখে দেয়া ভাল (সুনানে কুবরা, বায়হাক্বী, ১০/২১২)। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে দাবা খেলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, সেটা ‘নারদ’ (নামক খেলা) থেকে নিকৃষ্ট (সুনানে কুবরা, বায়হাক্বী, ১০/২১২)। ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ছাত্র ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘দাবা খেলা, পাশা খেলা এবং এ জাতীয় খেলাগুলোতে কোন কল্যাণ নেই’। উপরিউক্ত দলীলের আলোকে লুডু, তাস, ক্যারাম ইত্যাদি খেলাকেও হারাম বলা হয়। প্রশ্ন হল, ছাহাবী বা তাবেঈ কি কোন জিনিস হারাম করতে পারেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ফজরের সুন্নাত ছালাত বাড়িতে পড়ার পর মসজিদে গিয়ে সময় থাকলে কি তাহিইয়াতুল মসজিদ/দুখুলুল মসজিদের দু’রাক‘আত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : হাদীছে এসেছে যে, কোন ব্যক্তি যদি সূরা বাক্বারাহ পড়ে তাহলে তার ঘরে শয়তান প্রবেশ করে না। কিন্তু সূরাটি যদি মোবাইল বা কম্পিউটারে বাজানো হয় তাহলে কি এই ফযীলত পাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : নবী (ﷺ)-এর ছাহাবী দাহিয়া কালবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তার নিজের মেয়েকে নিষ্ঠুরভাবে পর্বতে নিয়ে হত্যা করেছিল। এই বিষয়টি তিনি ইসলাম গ্রহণের পর নবী (ﷺ)-এর কাছে বর্ণনা করেন। উক্ত ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : বৃদ্ধ অসুস্থ ব্যক্তি ছিয়াম পালন করতে না পারলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ‘বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল’-এর একটি প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানে কোন এক কোম্পানি একটি ট্রেনিং করাতে যাচ্ছে, যার অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্ব ব্যাংক। এই ট্রেনিং থেকে অর্জিত অর্থ কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আমরা জানি, দাদার আগে যদি বাবা মারা যান তাহলে নাতি/নাতনিরা দাদার সম্পত্তির অংশ পাবে না, সেক্ষেত্রে দাদা ওসিয়ত করতে পারবেন। আমার প্রশ্ন দাদা যদি ওসিয়ত করে না যান সেক্ষেত্রে নাতি/নাতনিরা কি কিছুই পাবে না? আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ওসিয়ত যে করা যায় এই বিষয়টা অনেকে জানেন না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : যে ব্যক্তি রামাযান মাসের শেষ জুমু‘আয় দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ছালাত আদায় করবে তার ঐ বছরের ছুটে যাওয়া ছালাতের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ