বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
উত্তর : কোন মুসলিমকে যদি ভোট দিতে যেতে বাধ্য করা হয় সেক্ষেত্রে তিনি যেতে পারেন। অতঃপর অবশ্যই তিনি তুলনামূলকভাবে সৎ ব্যক্তির পক্ষে এবং অসৎ প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দিবেন অথবা চাইলে ভোট নষ্ট করেও দিতে পারেন। কিন্তু যদি এর কোনটাই তার পক্ষে করা সম্ভবপর না হয় এবং অসৎ ও আল্লাহদ্রোহী প্রার্থীকেই ভোট দিতে বাধ্য করা হয় অথবা তিনি যদি নির্যাতিত হওয়ার আশঙ্কা করেন, তাহলে আমরা আশা করছি এমতাবস্থায় তার কোন গুনাহ হবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘কেউ বিশ্বাস করার পরে আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং অবিশ্বাসের জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখলে তার উপর আপতিত হবে আল্লাহর ক্রোধ এবং তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। তবে তার জন্য নয়, যাকে অবিশ্বাসে বাধ্য করা হয়েছে, অথচ তার চিত্ত বিশ্বাসে অবিচল’ (সূরা আন-নাহল : ১০৬)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতকে ভুল, বিস্মৃতি ও জবরদস্তির গুনাহ হতে নিষ্কৃতি দেয়া হয়েছে’ (ইবনু মাজাহ, হা/২০৪৩, ২০৪৪, ২০৪৫, সনদ ছহীহ)। দ্বিতীয়তঃ ঈমানদাররা সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর আইনের চেয়ে উত্তম কোন আইন নেই। আল্লাহর আইন বিরোধী সকল বিধানই জাহিলী বিধান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তবে কি তারা প্রাগ-ইসলামী (জাহিলিয়্যাত) যুগের বিচার-ব্যবস্থা পেতে চায়? খাঁটি বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ অপেক্ষা বিধান প্রদানে কে শ্রেষ্ঠতর’? (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫০)‌।

আল্লাহর উপর ঈমান ও রাসূলগণের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে সেগুলোর প্রতি ঈমান আনার পর আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে অন্য কোন আইন গ্রহণ করার প্রবণতাকে আল্লাহ তা‘আলা ‘বিস্ময়কর’ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা ধারণা (ও দাবী) করে যে, আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তাতে তারা বিশ্বাস করে? অথচ তারা ত্বাগূতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, যদিও তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর শয়তান তাদেরকে ঘোর বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত করতে চায়’ (সূরা আন-নিসা : ৬০)। ইমাম শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা উল্লেখ করেছেন যে, যারা আল্লাহ্র আইন বাদ দিয়ে অন্য আইন দ্বারা শাসনকার্য পরিচালনা করে, আল্লাহ তাদের ঈমানের দাবীর প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কারণ ত্বগূতের কাছে বিচার ফয়সালা চাওয়ার পরেও ঈমানের দাবী- মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়। এমন মিথ্যা সত্যিই বিস্ময়কর’ (আযওয়াউল বায়ান ফী ইযাহুল কুরআন বিল কুরআন, ৩/২৫৯ পৃ.)। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সত্তার শপথ করে বলছেন, কোন ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূল (ﷺ)-কে বিচারক হিসাবে না মানা পর্যন্ত ঈমানদার হবে না। রাসূল (ﷺ) যে বিধান দিয়েছেন সেটাই হক্ব, প্রকাশ্যে ও গোপনে উভয়াবস্থাতেই সেটাকে মেনে নিতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘কিন্তু না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা বিশ্বাসী (মুমিন) হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচারভার আপনার উপর অর্পণ না করে। অতঃপর আপনার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে নেয়’ (সূরা আন-নিসা : ৬৫)।

অতএব পূর্বোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করে না তাকে নির্বাচিত করা হারাম। কারণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে হারামের প্রতি সন্তুষ্টি ও হারাম কাজে সহযোগিতা করা হল (বিস্তারিত দ্র. : ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৩০৪০; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৮/২০৭ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২১) : ‘আরাফার ময়দানে হাজ্জীগণ ছালাত ক্বছর করবে, না-কি পুরো ছালাত আদায় করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪২) : জনৈক বক্তা বলেন, মসজিদের ইমাম তার মসজিদের আশেপাশের চল্লিশ ঘর লোকের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে এবং তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : খিযির (আলাইহিস সালাম) কি নবী ছিলেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : যদি কেউ কোন কথা আমানত রাখতে বলে আর  অন্য কেউ সেই বিষয় জানতে চায়, তাহলে ‘আমি জানি না’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কারো বিয়েতে যদি ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় মোহর না দেয়া হয় তবে পরবর্তীতে স্ত্রীকে মোহর হিসাবে জমি বা টাকা দিতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : জনৈক ইমাম বলেন, আযানের ধ্বনি যারা শুনবে তারা সবাই মুয়াযযিনের জন্য ক্বিয়ামতে মাঠে স্বাক্ষী দিবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : প্রসিদ্ধ চার ইমামের জন্ম ও মৃত্যু তারিখ জানিয়ে বাধিত করবেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : যারা সমকামিতার সাথে জড়িত তাদের শারঈ হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : স্ত্রী সুস্থ থাকার পরও সহবাস করতে না চাইলে জোর করে সহবাস করলে কী তার উপর যুলম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : জুমু‘আর খুত্ববায় মিম্বার তৈরির আগে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লাঠি নিয়ে খুত্ববাহ দিতেন। কিন্তু মিম্বার তৈরি হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লাঠি নিতেন না। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : মাওলানা আবদুল মতীন বিন হুসাইন প্রণীত ‘জান্নাতের দুই রাস্তা : তাকওয়া ও তওবা’ শীর্ষক বইয়ে ‘আওলিয়াগণ আল্লাহপাকের ‘শানে-মাগফেরাত’-এর তাজাল্লীগাহ’ আলোচনায় বলা হয়েছে, আল্লাহওয়ালারা আল্লাহপাকের ‘ছিফাত‘-এর মাযহার’ তথা আল্লাহপাকের গুণাবলীর প্রকাশস্থল। এই কথার ভেতরে কি শিরক আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ছালাতে সিজদা থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর যদি সন্দেহ হয় একটা সিজদা হয়েছে না-কি দু’টি সিজদা হয়েছে? এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ