বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইমাম ইবনু সীরীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বপ্নে কুরআন তিলাওয়াত করেন, তিনি যদি দ্বীনদার হয়ে থাকেন, তবে এটা তার মযবুত ঈমান ও তাক্বওয়ার নিদর্শন। সত্যিই যদি ঐ মহিলা আল্লাহর অনুগত বান্দী হয়, তবে তা তার মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধির প্রতিও ঈঙ্গিত বহন করে। আর যদি ঐ মহিলা দ্বীনদার না হয়ে গুনাহগার হয়, তবে এর মাধ্যমে তাকে তওবাহ ও সৎকর্মের দিকে আহ্বান করা হচ্ছে। পাপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বচ্ছ ও পবিত্র জীবনযাপন করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। শরী‘আত ও সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরতে বলা হচ্ছে। স্বপ্নে যে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করা হয়েছে সেগুলো যদি কুরআনের সাথে মিলে যায়, তবে তার উপর আমাল করা উচিত। আর যদি ভুল হয় তবে তা বর্জনীয়। এর মাধ্যমে শয়তান তাকে ভ্রষ্টতার দিকে ধাবিত করতে চাইছে (https://www.coffeear.com/woman-reads-koran-dream.htm)।

উল্লেখ্য যে, স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা শরী‘আত সম্মত। কিন্তুু সব ব্যাখ্যাকে শরী‘আত মনে করা উচিত নয়। কেননা ব্যাখ্যা ভুলও হতে পারে। যেমনটি আবূ বকর ছিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে হয়েছিল। তিনি একটি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে চাইলে, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, ‘ঠিক আছে তুমি এর ব্যাখ্যা দাও’। ব্যাখ্যা করার পর যখন তিনি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বললেন, আচ্ছা আমাকে বলুন, আমি ঠিক ব্যাখ্যা করেছি, না ভুল? নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কিছু ঠিক বলেছ। আর কিছু ভুল বলেছ। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আল্লাহর কসম! আপনি অবশ্যই আমাকে বলে দিবেন যা আমি ভুল করেছি। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কসম কর না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭০৪৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২২৬৯)। এ জন্যই ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) ‘ভুল ব্যাখ্যাকারীর ব্যাখ্যাকে প্রথমেই চূড়ান্ত বলে মনে না করা’ মর্মে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন (অধ্যায় নং-৯১, অনুচ্ছেদ নং-৪৭)।

ইসলামী শরী‘আতে স্বপ্ন তিন প্রকার। যথা : মনের কল্পনা, শয়তানের তরফ থেকে ভয় দেখানো এবং আল্লাহর তরফ হতে সুসংবাদ। তাই কেউ যদি অপসন্দনীয় কিছু দেখে তবে সে যেন তা কারো কাছে বর্ণনা না করে। বরং উঠে যেন ছালাত আদায় করে নেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭০১৭)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। তাই এ সময় আল্লাহর প্রশংসা করতে হয়। আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। তখন তা অন্যের কাছে প্রকাশ না করে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হয় (ছহীহ বুখারী, হা/৭০৪৫)।


প্রশ্নকারী : খাদীজা মীম, নারায়ণগঞ্জ।




প্রশ্ন (১৭) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করেছেন কি-না? দলীলসহ জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : পিতা-মাতার দিকে রহমতের নযরে তাকালে একটি কবুল হজ্জের ছওয়াব পাওয়া যায়। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মৃত ব্যক্তির নামে ইফতার মাহফিল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা বৃদ্ধির জন্য তাবীয-কবয করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৯) : বাসর রাতের স্বামী স্ত্রী কি জামা‘আত করে ছালাত আদায় করবে, না-কি একাকী আদায় করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২): পিতা যদি ভুলের উপর থাকেন এবং ছেলে সঠিক হয় তাহলে সন্তানের বিরুদ্ধে পিতার বদদু‘আ কবুল হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ওয়াহহাবী কারা? এটা কি কোন মাযহাব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : হাদীছে এসেছে, ‘আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন’। প্রশ্ন হল- মানুষ কীভাবে, কোন্ উপায়ে আল্লাহকে সাহায্য করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জুমু‘আর খুতবাহ চলাকালীন খত্বীব কর্তৃক হাত তুলে দু‘আ করা এবং মুক্তাদীগণের হাত তুলে আমীন আমীন বলা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক বক্তা বলেন, ক্বদরের রাতে মানুষের বার্ষিক রিযিক, হায়াত, মউত ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : সাধারণ বিদ‘আত কিংবা কুফরী বিদ‘আত; যেকোনো বিদ‘আতে লিপ্ত থাকা ব্যক্তির তাওবা এবং অন্যান্য আমল কবুল হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : আমাদের এলাকায় একটি হাদীছ প্রচলিত রয়েছে যে, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযূ করে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে তার কোন মুসলিম ভাইকে দেখতে যাবে, তাকে জাহান্নাম হতে ষাট বছরের পথ দূরে রাখা হবে’ (আবুদাঊদ, হা/৩০৯৭, ‘জানাযা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৭)। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ