বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২৮ অপরাহ্ন
উত্তর : ছাদাক্বাহ অর্থ হল, যাকাত, দান, খয়রাত এবং নেকীর কাজ। অন্যের জন্য কল্যাণ, উপকার বা সুবিধা পৌঁছে দেয়াকে ছাদাক্বাহ বলা হয় (ইবনু তায়মিয়াহ, শারহুল আরবাঈন আন-নাবুবিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ২০৩)। ছাদাক্বাহ শব্দটি ফরয যাকাত এবং সাধারণ ছাদাক্বাহ (দান) দু’টিকেই শামিল করে (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ, ২৬তম খণ্ড, পৃ. ৩২৩)। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ছাদাক্বাহ দু’ প্রকার। (১). ফরয ছাদাক্বাহ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلۡفُقَرَآءِ وَ الۡمَسٰکِیۡنِ ‘নিশ্চয় ফকীর ও মিসকীনদের জন্য যাকাতের মাল’ (সুরা আত-তওবা : ৬০)। (২). নফল বা সাধারণ ছাদাক্বাহ। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ ‘যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন হতে খেজুর ছাদাক্বাহ করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪১০)। তবে এ দু’প্রকার ছাদাক্বার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। যেমন- ১. যাকাত শব্দটি খাছ আর ছাদাক্বাহ শব্দটি ‘আম (শারহুল আরবাঈন আন-নাবুবিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ২০৪)। ২. যাকাত শব্দটি শুধুমাত্র নিছাব পরিমাণ সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৮৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩১০)। কিন্তু ছাদাক্বাহ শব্দটি সম্পদসহ সকল নেক কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট (ছহীহ বুখারী, হা/৬০২১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৭৫)। আর ছাদাক্বাহ পাওয়ার হক্বদার হল আট শ্রেনীর মানুষ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

اِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلۡفُقَرَآءِ وَ الۡمَسٰکِیۡنِ وَ  الۡعٰمِلِیۡنَ عَلَیۡہَا وَ الۡمُؤَلَّفَۃِ قُلُوۡبُہُمۡ وَ فِی الرِّقَابِ  وَ الۡغٰرِمِیۡنَ وَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَ ابۡنِ السَّبِیۡلِ ؕ فَرِیۡضَۃً مِّنَ  اللّٰہِ ؕ وَ اللّٰہُ  عَلِیۡمٌ  حَکِیۡمٌ

‘ছাদাক্বাহ হল কেবল ফকীর, মিসকীন, যাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক্ব এবং তা দাস-মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে (ব্যয়ের জন্য) আর মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত ফরয। আর আল্লাহ তা‘আলা সর্বজ্ঞ, মহাবিজ্ঞানী’ (সূরা আত-তওবা : ৬০)।

তবে এ ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি যদি নিজে অসহায় হয় তাহলে  সে নিজেই ছাদাক্বার বেশি হক্বদার (আবূ দাঊদ, হা/১৬৯১; নাসাঈ, হা/২৫৩৫)। অতঃপর গরীব আত্মীয়-স্বজন (ছহীহ বুখারী, হা/২৭৬৯, ৫৬১১; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৯৮) এবং মিসকীন (ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৫৫; নাসাঈ, হা/২৬০৪)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল হান্নান, দিনাজপুর।




প্রশ্ন (২৪) : ছালাতে কেউ রুকূ‘ পেল কিন্তু সূরা ফাতিহা পড়তে পারল না। এমতাবস্থায় তার উক্ত রাক‘আত গণ্য হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮): হাঁটুর উপর কাপড় উঠালে কি ওযূ নষ্ট হবে? আর ওযূ করে খাবার খেয়ে কি ছালাতে দাঁড়ানো যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ওযূ করার সময় যদি বার বার মনে হয় যে, বায়ু নির্গত হয়েছে। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : কুরআনের আয়াত বাংলা ভাষায় উচ্চারণ করে পড়া বা লিখা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : সন্তানের উপর হজ্জ ফরয হলে সেই টাকা দিয়ে পিতা-মাতাকে হজ্জে পাঠানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ইসলামী শরী‘আতে বিবাহের পদ্ধতি কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : আল্লাহ তা‘আলা যে আমাদের রিযিক্ব লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, সেটা কি আমাদের চেষ্টা বা কৃতকর্মের উপরে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, না-কি আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ রেখেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : আল্লাহকে ‘খোদা’ বলে ডাকা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর নবী (ﷺ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : নিজের বোনের মেয়ের মেয়েকে (বোনের নাতনী) কি বিয়ে করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কতিপয় মানুষ রাসূল (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠের জন্য اللهم صل على نبينا محمد طب القلوب ودواء العافية এটা পড়ে থাকে। এটা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ছালাত ব্যতীত আল্লাহর প্রশংসায় সিজদা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ