উত্তর : কেবল দ্বিতীয় বিয়েতে বাধা দেয়া বা অসম্মতি জানানোর কারণে স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দেয়া শরী‘আতসম্মত নয়। যদিও পুরুষের জন্য একাধারে চারটি পর্যন্ত বিবাহ করা শরী‘আতে বৈধ (সূরা আন-নিসা : ৩)। তবে বহুবিবাহের মূল পূর্বশর্ত হল- স্ত্রীদের মধ্যে সকল ক্ষেত্রে সমান খোরপোশ, আবাসন ও সময় বণ্টনে পূর্ণ সমতা ও ন্যায়বিচার (আদল) কায়েম করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যদি তোমাদের আশঙ্কা হয় যে, তোমরা ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে মাত্র একজনকে (বিবাহ করো)’ (সূরা আন-নিসা : ৩)। সতীন বা দ্বিতীয় স্ত্রীর উপস্থিতি প্রথম স্ত্রীর জন্য স্বাভাবিক মানবীয় ঈর্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক কষ্টের কারণ হতে পারে। তাই প্রথম স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়েতে বাধা দিলে বা অপসন্দ করলে তা স্বভাবজাত অনুভূতি হিসাবে গণ্য করা হয়।
আর ত্বালাক্ব হল ইসলামী শরী‘আতে চরম অপ্রয়োজনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়, যা কেবল বাধ্য হলেই প্রয়োগ করা হয়। যদি স্ত্রী তার স্বাভাবিক দায়িত্ব ও আনুগত্য পালন করে এবং কেবল দ্বিতীয় বিয়ের ভয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে, তবে এতে স্ত্রীর কোন শারঈ অপরাধ প্রমাণিত হয় না। কারণ সতীনের প্রতি ঈর্ষা মানুষের একটি স্বাভাবিক ফিতরী ও মানসিকভাবে স্বাভাবিক অনুভূতি। উম্মাহাতুল মুমিনীন তথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহধর্মিণীগণের মধ্যেও এমন ঈর্ষা বিদ্যমান ছিল (ছহীহ বুখারী, হা/৫২২৫)। সুতরাং স্ত্রী কেবল দ্বিতীয় বিয়ের বিরোধিতা করলেই তাকে ত্বালাক্ব দেয়া জায়েয যাবে না; বরং তাকে বুঝিয়ে রাখা এবং সহনশীলতা প্রকাশ করাই শরী‘আতের নির্দেশ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ৩২/২৯৩ পৃ.; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমা, ১৯/২৫১ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।