উত্তর : ইসলামে মূর্তি পূজা নিষিদ্ধ হওয়ার অনেক দলীল রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’ (সূরা আল-মায়িদাহ: ৯০)। অন্যত্র তিনি বলেন, فَاجۡتَنِبُوا الرِّجۡسَ مِنَ الۡاَوۡثَانِ وَ اجۡتَنِبُوۡا قَوۡلَ الزُّوۡرِ ‘কাজেই তোমরা বেঁচে থাকো মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে এবং বর্জন কর মিথ্যা কথা’ (সূরা আল-হাজ্জ: ৩০)। তিনি আরো বলেন, ‘আর যা মূর্তি পূজার বেদীর উপর বলি দেয়া হয় তা এবং জুয়ার তীর দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করা, এ সব পাপকার্য’ (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩)। মূর্তিপূজা অপবিত্র শয়তানের কাজ, তাই মুসলিমরা কখনো মূর্তির সাথে কোন সম্পর্ক রাখতে পারে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কতগুলো নারীমূর্তিকে আহ্বান করে আর তারা কেবল অবাধ্য শয়তানকে আহ্বান করে’ (সূরা আন-নিসা: ১১৭)। রাসূল (ﷺ) বলেন, অচিরেই আমার উম্মতের কতক সম্প্রদায় মূর্তি পূজায় লিপ্ত হবে আর আমার উম্মাতের কতক গোত্র মুশরিকদের সাথে যোগ দিবে’ (ইবনু মাজাহ, হা/৩৯৫২)। মূর্তি পূজারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা তো আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তির পূজা করছ আর মিথ্যা বানাচ্ছ। নিশ্চয় আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা কর তারা তোমাদের জন্য রিযিক্ব দানের কোন ক্ষমতা রাখে না। তাই আল্লাহর নিকট রিযিক্ব তালাশ কর আর তাঁরই ইবাদত কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে’ (সূরা আল-আনকাবূত: ১৭)।
ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তাঁর সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেন, ‘আর (স্মরণ কর) যখন ইবরাহীম তার পিতা আযরকে বলেছিল, ‘আপনি কি মূর্তিগুলোকে ইলাহ রূপে গ্রহণ করছেন? নিশ্চয় আমি আপনাকে ও আপনার জাতিকে স্পষ্টভাবে গোমরাহীতে নিমজ্জিত দেখছি’ (সূরা আল-আন‘আম: ৭৪)। যখন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তার পিতা ও তার জাতিকে বলেছিল, তোমরা কিসের ইবাদত কর? তারা বলল, আমরা মূর্তির পূজা করি। অতঃপর আমরা নিষ্ঠার সাথে তাদের পূজায় রত থাকব। সে বলল, যখন তোমরা ডাক তখন তারা কি তোমাদের সে ডাক শুনতে পায়? অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে? তারা বলল, বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, তারা এরূপই করত। ইবরাহীম বলল, ‘তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, তোমরা যাদের পূজা কর। তোমরা এবং তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষেরা? সকল সৃষ্টির রব ছাড়া অবশ্যই তারা আমার শত্রু’ (সূরা আশ-শু‘আরা: ৬৯-৭৭)।
এজন্য নবী (ﷺ) মূর্তি ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) যখন (মক্কা বিজয়ের দিন) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন কা‘বা ঘরের চারপাশে তিনশ’ ষাটটি (৩৬০) মূর্তি ছিল। নবী (ﷺ) নিজের হাতের লাঠি দিয়ে মূর্তিগুলোকে আঘাত করতে থাকেন আর বলতে থাকেন,جَآءَ الۡحَقُّ وَ زَہَقَ الۡبَاطِلُ ؕ اِنَّ الۡبَاطِلَ کَانَ زَہُوۡقًا ‘সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল’ (সূরা বানী ইসরাঈল: ৮১; ছহীহ বুখারী, হা/২৪৭৮, ৪৭২০)। আমর ইবনু আবাসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (ﷺ)-কে বলেন, ‘আপনি কী নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন? তিনি বললেন, ‘আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, মূতি ভাঙ্গা এবং আল্লাহ্র একত্ব প্রতিষ্ঠা ও তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা নিয়ে’ প্রেরিত হয়েছি’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮৩২)।
মূর্তি পূজা শিরক, যার পরিণাম জাহান্নাম। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমর ইবনু আমের সর্বপ্রথম মূর্তির নামে উটনি মুক্ত হস্তে ছেড়ে দেয় এবং মূর্তি সমূহের ইবাদত করে। আমি তাকে দেখেছি সে তার নাড়িভুঁড়ি জাহান্নামের মধ্যে টেনে নিয়ে যাচ্ছে’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/৪৩৪৬; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৬৭৭)।
প্রশ্নকারী : রহম আলী, আসাম, ভারত ।