উত্তর : দু‘আর ক্ষেত্রে দুই হাত তোলা একটি সুন্নাত ও আদব। তবে যেকোন প্রয়োজনে যেকোন স্থানে হাত তুলে দু‘আ করার ক্ষেত্রে হাদীছের স্পষ্ট নির্দেশনা ও মূলনীতি অনুসরণ করতে হবে। যেসব স্থানে নবী করীম (ﷺ) থেকে হাত তুলে দু‘আ করার প্রমাণ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে হাত তুলে দু‘আ করা সুন্নাত। যেমন: ইস্তিছক্বা বা বৃষ্টির জন্য দু‘আ (ছহীহ বুখারী, হা/১০১৪), কুনূতে নাযেলাহ পড়ার সময় (ছহীহ বুখারী, হা/৪৫৫৮), আরাফার মাঠে (ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮), ক্ববর যিয়ারতের সময় ক্ববরকে পেছনে রেখে ক্বিবলামুখী হয়ে দু’আ করার ক্ষেত্রে (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭৭), ছাফা ও মারওয়া পাহাড়ে (ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮) এবং জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপের পর (ছহীহ বুখারী, হা/১৭৫৩)।
এছাড়া যেকোন সাধারণ ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে একাগ্রতার সাথে একাকী দুই হাত তুলে দু‘আ করা জায়েয ও দু‘আ কবুলের অন্যতম মাধ্যম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়ালু। যখন কোন বান্দা তাঁর দরবারে দুই হাত তুলে দু‘আ করে, তখন তিনি খালি হাতে তা ফিরিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন’ (আবূ দাঊদ, হা/১৪৮৮; তিরমিযী, হা/৩৫৫৬, সনদ ছহীহ)। তবে যেসব ইবাদতের নির্ধারিত রূপ রয়েছে এবং শরী‘আতে সেখানে হাত তোলার প্রমাণ নেই, সেসব ক্ষেত্রে হাত তুলে দু’আ করা বিদ‘আত। যেমন: ফরয ছালাত শেষে ধারাবাহিকভাবে সর্বসাধারণের জন্য সম্মিলিত দুই হাত তুলে দু‘আ করা, খুত্ববার সময় খত্বীব ও মুক্তাদীদের হাত তুলে দু‘আ করা (ইস্তিসক্বার খুত্ববা ব্যতীত), কিংবা ছালাতের তাশাহহুদে বসা অবস্থায় হাত তোলা। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যেসব স্থানে রাসূল (ﷺ) ও ছাহাবীগণ নিয়মিত দু‘আ করেছেন কিন্তু হাত তোলেননি, সেসব ক্ষেত্রে হাত তোলার বিধান নেই। আর সাধারণ দু‘আর ক্ষেত্রে হাত তোলা বৈধ ও সুন্নাত (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২২/৫১২ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : আসাদুজ্জামান, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।