উত্তর : জমির মালিকের স্পষ্ট অনুমতি কিংবা প্রথাগত সম্মতি (উর্ফ) ছাড়া জমি থেকে নাড়া (খড়/নাড়াশেষ) কেটে আনা জায়েয নয়। কারণ কোন মুসলিমের সম্পত্তি তার সন্তুষ্টি ছাড়া গ্রহণ করা শরী‘আতে হারাম। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন মুসলিমের ধন-সম্পদ তার মনের সন্তুষ্টি ব্যতীত গ্রহণ করা হালাল নয়’ (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্, হা/২২৮৯৭; বায়হাক্বী, হা/১৬৭৫৬; আলবানী, ইরওয়াউল গালীল, হা/১৪৫৯, সনদ ছহীহ)। জমিতে গরু-ছাগল চরানো এবং কেটে বাড়িতে নিয়ে আসার মধ্যে শরঈ তফাৎ রয়েছে। চারণভূমির ক্ষেত্রে সাধারণ প্রথা বা নীরব সম্মতি থাকে যে, মাঠ খালি থাকলে সেখানে হাঁস-মুরগী বা গবাদিপশু বিচরণ করতে পারে। কিন্তু জমির নাড়া কেটে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়া বা বাড়িতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে মালিকের স্বত্ব যুক্ত থাকে। মালিক হয়তো জমিতে নাড়া পচিয়ে সার বানাতে চান কিংবা নিজের গবাদিপশুর জন্য রাখতে পারেন (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ৪২/২৬২ পৃ.)।
অতএব, স্থানীয় সাধারণ প্রথা যদি এমন হয় যে, ধান কাটার পর নাড়া যে কেউ কেটে নিয়ে গেলে মালিক এতে কিছু মনে করেন না, তবে তা কেটে আনা জায়েয হবে। কিন্তু মালিক যদি অসন্তুষ্ট হন বা নিষেধ করেন, কিংবা এমন প্রথা সর্বজনীন না হয়, তবে অবশ্যই মালিকের স্পষ্ট অনুমতি নিয়ে নাড়া কাটতে হবে। অনুমতি ছাড়া নিয়ে আসলে তা অন্যের হক নষ্ট করার শামিল হবে (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ২৮/২৬৪ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : আবুল আসাদ, দিনাজপুর।