উত্তর : জীবিত থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তি তার নিজের সম্পত্তির পূর্ণ মালিক। তাই সে যদি সুস্থ মস্তিষ্কে ও স্বেচ্ছায় কাউকে কোন সম্পত্তি দান (হিবা) করে দেয়, তবে গ্রহীতার জন্য তা গ্রহণ করা জায়েয (আল-মুগনী, ইবনু ক্বুদামাহ, ৬/৫৮ পৃ.)। তবে শরী‘আতের মূলনীতি অনুযায়ী, ওয়ারিছদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে কিংবা তাদের ক্ষতি সাধনের নিয়তে কোন বেওয়ারিছকে সম্পত্তি লিখে দেয়া গুনাহের কাজ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমা, ১৬/১৬১ পৃ.)। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে যেহেতু ঐ ব্যক্তিরা তাদের অন্যান্য ওয়ারিছদের কিছু সম্পত্তি দিয়েছেন এবং আপনার বাবা ছোটবেলা থেকে তাদের সেবা-শুশ্রƒষা ও আর্থিক দেখাশুনা করেছেন, সেহেতু তাদের সেবার প্রতিদান হিসাবে কিংবা ভালোবাসার খাতিরে জীবিত অবস্থায় এই সম্পত্তি লিখে দেয়াকে ‘হিবা’ (দান) হিসাবে গণ্য করা হবে। যেহেতু এই লিখে দেয়ার কাজটি ঐ মালিকের জীবনদ্দশায় ও সুস্থ মস্তিষ্কে হয়েছে এবং তিনি ইতিমধ্যে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাই এটি বেওয়ারিছ ব্যক্তির জন্য ওছিয়্যাত (মরণোত্তর ওছিয়্যাত)-এর স্থলাভিষিক্ত না হয়ে সরাসরি জীবিত অবস্থার হেবা হিসাবে কার্যকর হবে। সুতরাং আপনার বাবার জন্য উক্ত সম্পত্তি গ্রহণ ও ভোগদখল করা জায়েয (মাজমূঊ ফাতাওয়া বিন বায, ২০/৪৩-৪৪ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : আসাদুল্লাহ, দিনাজপুর।