উত্তর : নবী-রাসূলদের চিত্রায়ণ, অভিনয় বা অ্যানিমেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা এবং দেখা বৈধ নয়। এখানে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ যেমন:
(১) নবীদের মর্যাদা রক্ষা করা ফরয। মহান আল্লাহ বলেন,
ذٰلِکَ ٭ وَ مَنۡ یُّعَظِّمۡ شَعَآئِرَ اللّٰہِ فَاِنَّہَا مِنۡ تَقۡوَی الۡقُلُوۡبِ
‘যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান রক্ষা করে, তা অন্তরের তাক্বওয়ার পরিচয়’ (সূরা আল-হাজ্জ : ৩২)। নবী-রাসূলগণ আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ বান্দা ও তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি। তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করা ঈমানের দাবি।
(২) কুরআনই তাঁদের কাহিনীর জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, لَقَدۡ کَانَ فِیۡ قَصَصِہِمۡ عِبۡرَۃٌ لِّاُولِی الۡاَلۡبَابِ ‘তাদের ঘটনাবলিতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে’ (সূরা ইউসুফ : ১১১)। যেহেতু আল্লাহ নিজেই কুরআনে নবীদের ঘটনা সর্বোত্তম পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন, তাই শিক্ষা দেয়ার নামে কল্পনানির্ভর নাটক বা অ্যানিমেশনের প্রয়োজন নেই।
(৩) কোন নবীর প্রকৃত চেহারা, কণ্ঠস্বর, হাঁটা-চলা, আবেগÑ কোনটিই আমাদের জানা নেই। অতএব অ্যানিমেশনে যা দেখানো হয়, সবই শিল্পীর মিথ্যা কল্পনা। ফলে দর্শকের মনে নবীর একটি কাল্পনিক চিত্র স্থায়ী হয়ে যায়, যার কোন শারঈ ভিত্তি নেই।
(৪) এতে অবমাননা ও উপহাসের দরজা খুলে দেয়া হয়। ইসলামী ফিক্বহের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো- যে মাধ্যম হারামের দিকে নিয়ে যায়, সেটিও বন্ধ করা হবে’। আজ যদি নবীদের কার্টুন বৈধ বলা হয়, কাল তা ব্যঙ্গচিত্র, কৌতুক বা বাণিজ্যিক বিনোদনের মাধ্যম হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই অধিকাংশ আলেম এ পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করেছেন।
সঊদী আরবের স্থায়ী কমিটির ফাতাওয়া বোর্ডের ফাতওয়া হল, নবী-রাসূলদের চরিত্রে অভিনয়, চলচ্চিত্র বা অনুরূপ উপস্থাপনাকে নিষিদ্ধ বলা হয়েছে; কারণ এতে তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়া, বাস্তবতা বিকৃত হওয়া এবং মানুষের অন্তরে তাঁদের সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্মানোর আশঙ্কা রয়েছে (ফাতওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমাহ, ১/৬৯৪-৬৯৭, ফৎওয়া নং-২০৪৪)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) তিনি নবীদের অভিনয় ও চিত্রায়ণকে হারাম বলেছেন এবং এটিকে তাঁদের সম্মানের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, সাক্ষাৎকার নং: ৬৭, প্রশ্ন নং: ০৮)।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ রাকিবুল ইসলাম, মোল্লাহাট, বাগেরহাট।