উত্তর : ‘আখলাকুন নবী’ (أخلاق النبي) বলতে রাসূল (ﷺ)-এর মহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, উত্তম নৈতিকতা, শিষ্টাচার, আচার-আচরণ ও মানবিক গুণাবলির সমষ্টিকে বোঝায়, যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে দান করেছিলেন এবং যা তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করে মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর কথা, কাজ, আচরণ, লেনদেন, বিচার, দাওয়াত, ইবাদত, পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধু ও শত্রু সর্বত্রই মহান চরিত্রের উজ্জ্বল প্রকাশ ঘটেছে। তাই ইসলামে ‘আখলাকুন নবী’ বলতে কেবল ভদ্র ব্যবহার নয়; বরং একজন মুমিনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ চরিত্রব্যবস্থাকে বোঝায়। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় নবী (ﷺ) সম্পর্কে বলেন, وَ اِنَّکَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیۡمٍ ‘নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী’ (সূরা আল-ক্বলাম : ৪)। ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
أي: وإنك لعلى خلق عظيم، أي على دين عظيم، وآداب كاملة، وطبع كريم
‘আপনি মহান চরিত্র, পরিপূর্ণ শিষ্টাচার ও মহৎ স্বভাবের অধিকারী’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, সূরা আল-কলাম : ০৪ এর তাফসীর দ্রষ্টব্য)। উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, كان خلقه القرآن ‘তাঁর চরিত্রই ছিল কুরআন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৪৬)। অর্থাৎ কুরআনে যেসব আদর্শ চরিত্র, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলীর শিক্ষা দেয়া হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেগুলোর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন, لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰہِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ ‘নিশ্চয় তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব : ২১)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, إِنَّمَا بُعِثْتُ لأُتَمِّمَ صَالِحَ الأَخْلاَقِ ‘আমি তো প্রেরিত হয়েছি উত্তম চরিত্রকে পরিপূর্ণ করার জন্য’ (আহমাদ, হা/৮৯৩৯; আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/২৭৩; সনদ ছহীহ, ছহীহুল জামে‘, হা/২৩৪৯)।
প্রশ্নকারী : শরীফুল ইসলাম, ফেনী।