বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন

উত্তর : আসলে চাকরিজীবিরা শতকরা হারে যে অর্থ ফান্ডে জমা করেন, তা মূলত ঋণ স্বরূপ এই কোম্পানীকে দেয়া হয়ে থাকে। আর ঋণ দিয়ে বেশি নেয়া স্পষ্টত সূদ। এই অর্থকে চক্রবৃদ্ধিকারে কাজে লাগিয়ে অবসর গ্রহণকালে কর্মচারীকে বিশাল অঙ্কের টাকা প্রদান করা হয় (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ১৩/৫২০ পৃ.)। সুতরাং যদি জমা করার বিষয়টি স্বেচ্ছাধীন হয়, তবে জমা করা যাবে না। আর যদি বাধ্যতামূলক হয়, সেক্ষেত্রে জমাকৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব রাখতে হবে এবং এককালীন টাকাটা পাওয়ার পর মূলধন থেকে সূদটা বিয়োগ করে স্বীয় দায়িত্বে সহায়হীন, দুরবস্থাপন্ন, নিঃসম্বল ও প্রতিবন্ধী মানুষদের মাঝে ছাওয়াবের নিয়তে বিতরণ করে দিতে হবে (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা, ২/৪০৬-৪০৭ পৃ.)। কেননা ইসলাম সকল প্রকারের সূদকে হারাম করেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন’। আল্লাহ‌ সূদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন কর এবং সূদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হও। অতঃপর যদি তোমরা না কর তবে আল্লাহ‌ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা নাও। আর যদি তোমরা তাওবা কর তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা যুলুম করবে না এবং তোমাদের উপরও যুলুম করা হবে না (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৭৫-২৭৯)।

অনেকে বলেন যে, এটা তো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি অবসর উপহার, যা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পাথেয় স্বরূপ দেয়া হয়ে থাকে। যদি তাই হয়, তাহলে যে সমস্ত কর্মচারীরা প্রভিডেন্ট ফান্ডে অর্থ জমা করেন না, তাদের কেন দেয়া হয় না, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার বা কোম্পানী কেন ভাবে না। মোটকথা এগুলো হারামকে হালাল করার ঘৃণিত অপচেষ্টা মাত্র। সর্বোপরি কর্মচারী চাইলে তার একাউন্টকে পুরোপুরি সূদমুক্ত রাখার আবেদন করতে পারে। বিধায় ইচ্ছা করলে সে সূদের একটি টাকাও ভক্ষণ করতে বাধ্য নয়। তাই কোন যুক্তিতে প্রভিডেন্ট ফান্ডের সূদকে হালাল বলার উপায় নেই। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি অন্যত্র বলেন, যেহেতু এটা শুধু তাদেরই দেয়া হয়, যারা প্রভিডেন্ট ফান্ডে অর্থ জমা করে, তাই একে উপহার বলা যাবে না (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩/৫১০-৫১৫ পৃ.)। নিঃসন্দেহে সূদ কাবীরা গুনাহ বা মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে মুমিনগণ! তোমরা বহুগুণ বৃদ্ধি করে চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খাবে না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও’ (সূরা আলে-ইমরান : ১৩০)। নবী (ﷺ) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা ও তার লেখককে অভিসাম্পত করেছেন এবং বলেছেন, ‘ওরা সবাই সমান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮; আবূ দাঊদ, হা/৩৩৩৩; তিরমিযী, হা/১২০৬; ইবনু মাজাহ, হা/২২৭৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪২৬৩)।



প্রশ্নকারী : আতাউর রহমান, হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট।






প্রশ্ন (২৪) : এটাচড টয়লেটে ওযূ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : কুরবানীর দিন দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে থাকা সুন্নাত। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : আমি সুইডেনের প্রবাসী। রাষ্ট্র থেকে ভাতা পেয়ে থাকি। বাড়ি স্কুল ও বাজার থেকে অনেক দূরে হওয়ায় গাড়ি কিনতে হয়েছে। আমার কিছু প্রতিবেশী গাড়িতে করে তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে টাকা দেয়। অথচ সুইডেনের শ্রম আইন অনুযায়ী এই কাজটি অবৈধ। আমার এখনও রেসিডেন্স পারমিট না থাকায় আমি এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে পারি না। প্রশ্ন হলো, আমার এই কাজটি কি ইসলামে হারাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর উপর সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী ব্যক্তি কে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মুসাফির অবস্থায় স্টেশনে বা বাসস্ট্যান্ডের পাশের কোন মসজিদে জামা‘আত চলাকালীন প্রবেশ করলে জামা‘আতে শামিল না হয়ে একা একা ক্বছর আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : কোন ব্যক্তি জ্বিনের আছর বা বদনযরে আক্রান্ত কি-না সেটা কিভাবে জানা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : কুরআনের আয়াত পড়ে অনেকেই বলে থাকে, اَتِمُّوا الصِّیَامَ اِلَی الَّیۡلِ ‘তোমরা রাত্রি পর্যন্ত ছিয়াম পূর্ণ কর’। তাই রাত্রি না হওয়া পর্যন্ত ইফতার করা যাবে না। অতএব দেরী করাই উত্তম। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আমার বাবা ছোট কাল থেকে এক বাড়িতে দত্তক পুত্র হিসাবে থাকে, তাদের সব ধরনের দেখাশুনা করে এবং তাদের যেকোন আর্থিক প্রয়োজনে সাহায্য করে। এখন তারা তাদের ওয়ারিছদের কিছু সম্পত্তি দিয়ে বাকীগুলো আমার বাবাকে লিখে দিয়েছে। প্রশ্ন হল- আমার বাবার পক্ষে এই সম্পত্তি গ্রহণ করা কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : আদম এবং হাওয়া (আলাইহিমাস সালাম)-এর বিয়ে কে পড়িয়েছেন এবং তাদের বিয়ের মোহর কত ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ‘ছালাতুর রাগায়েব’ পড়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : দীর্ঘ ৪/৫ বছর ধরে দুই বোনের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। কারণ এক বোনের ছেলেরা তার মাকে তাদের খালার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা আবার সম্পর্ক রাখতে চায়। কিন্তু সমস্যা হল- অন্য বোনের মেয়েরা তার মাকে বলছে যে, খালা তার ছেলেদের কথায় আমাদের সাথে সম্পর্ক রাখেননি এখন তুমিও খালার সাথে সম্পর্ক রাখবে না। কিন্তু তিনি তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাচ্ছেন না। তখন তার মেয়েরা বলছে, হয় খালার সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে, না হয় মেয়েদের সাথে। এই বলে মেয়েরা মায়ের উপর রাগ করে দীর্ঘদিন কথা বলে না। প্রশ্ন হল- মেয়েরা কী ধরনের গুনাহ করছে? এই ক্ষেত্রে মায়ের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘আদম সন্তানের সৌভাগ্য তিনটি আর দুর্ভাগ্যও তিনটি। সৌভাগ্য তিনটি হলো, দ্বীনদার-নেককার স্ত্রী, ভালো বাসস্থান, ভালো সওয়ারী বা বাহন। আর দুর্ভাগ্য তিনটি হলো, খারাপ স্ত্রী, খারাপ বাসস্থান ও খারাপ সওয়ারী’ (মুসনাদে আহমাদ)। হাদীছটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ