মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ছালাতে বা ছালাতের বাইরে অর্থ বুঝে তেলাওয়াত করা উচিত। বিশেষ করে ছালাতের মধ্যে তেলাওয়াত করার সময় অর্থ বোঝা ছালাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা আত্মিক সংযোগ ও মনোযোগকে বৃদ্ধি করে। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘অর্থ বুঝুক বা না বুঝুক মানুষ কুরআন তেলাওয়াতের জন্য ছাওয়াব পাবে। তবে মুমিনের জন্য এটা উচিত নয় যে, সে আমলের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েও কুরআন তেলাওয়াত করবে অথচ তার অর্থ বুঝবে না। উদাহরণস্বরূপ: যদি কেউ চিকিৎসাবিদ্যা শিখতে চায় এবং সে চিকিৎসা বিষয়ক বই পড়ে, তবে যতক্ষণ না সে তার অর্থ বুঝবে এবং তার ব্যাখ্যা শিখবে, ততক্ষণ সে তা থেকে উপকৃত হতে পারবে না। বরং সে এর অর্থ বুঝার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে, যাতে করে সে তা বাস্তবায়ন করতে পারে। তাহলে আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে কী বলা যায়, যা অন্তরের রোগের জন্য শিফা এবং মানুষের জন্য উপদেশ? মানুষ কি তা না বুঝেই এবং গভীরভাবে চিন্তা না করেই পড়বে? এজন্যই ছাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) দশ আয়াত অতিক্রম করতেন না, যতক্ষণ না তাঁরা তার এবং এর মধ্যকার জ্ঞান ও আমল শিখে নিতেন। সুতরাং তাঁরা কুরআন, জ্ঞান ও আমল সবকিছু একসাথে শিখতেন। অতএব, মানুষ কুরআন তিলাওয়াতের জন্য ছাওয়াব পাবে, তা সে অর্থ বুঝুক বা না বুঝুক। তবে তার উচিত সর্বাত্মক চেষ্টা করা এর অর্থ বুঝার জন্য এবং এই অর্থ নির্ভরযোগ্য আলিমদের কাছ থেকে গ্রহণ করা, যাদের জ্ঞান ও আমানতদারিতে তারা বিশ্বস্ত’ (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ র্দাব, ৫/২ পৃ.)। ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

مَا مَنَعَ الْفَهْمَ وَشُهُوْدَ الْقَلْبِ بِحَيْثُ يَصِيْرُ الرَّجُلُ غَافِلًا فَهَذَا لَا رَيْبَ أَنَّهُ يَمْنَعُ الثَّوَابَ

‘যা উপলব্ধিকে এবং অন্তরের উপস্থিতিকে বাধা দেয়, যাতে মুছল্লী গাফেল প্রমাণিত হয়, তাহলে তা যে ছওয়াবকে বাধা প্রদান করবে- তাতে কোন সন্দেহ নেই’ (ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ ২২/৬১২ পৃ.)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وَهَذَا بِإِجْمَاعِ السَّلَفِ أَنَّهُ لَيْسَ لِلْعَبْدِ مِنْ صَلَاتِهِ إِلَّا مَا عَقَلَ مِنْهَا وَحَضَرَهُ بِقَلْبِهِ

‘এটা সালাফদের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত যে, বান্দাকে ছালাতের নেকী ততটুকুই দেয়া হবে, ছালাতের যতটুকু সে উপলব্ধি করবে এবং অন্তর দিয়ে নিজেকে যতটুকু উপস্থিত রাখবে’ (বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ ২/১৯৬ পৃ.)। ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) উদাসীন মুছল্লী সম্পর্কে বলেন, وَإِمَّا عَنِ الْخُشُوْعِ فِيْهَا وَالتَّدَبُّرِ لِمَعَانِيْهَا ‘ছালাতে একাগ্রতা না থাকা এবং ছালাতের অর্থ গভীরভাবে অনুধাবন না করা’ (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৮/৪৯৩ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : আবূ রুক্বাইয়্যাহ, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (২৫) : প্রথম স্ত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মোহরনা কি একই হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : আক্বীদা ও মানহাজার মধ্যে পার্থক্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : জনৈক আলেম বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির এক হাযার বছর পূর্বে সূরা ‘ত্বা-হা’ ও ‘ইয়াসীন’ পাঠ করলেন। তখন ফেরেশতারা শুনে বললেন, ধন্য সেই জাতি, যাদের উপর এটা নাযিল হবে, ধন্য সেই পেট যে সেটা ধারণ করবে এবং ধন্য সেই মুখ যে সেটা উচ্চারণ করবে’। তাঁর উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : মৃত ব্যক্তির ছওয়াবের উদ্দেশ্যে গরু যব্হ করে জনগণকে খাওয়ানো হয় ও নিজেরা খায়। এটা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : স্বামীর একার উপার্জনে দুই সন্তানসহ, মা-বাবা, অবিবাহিত বোন এবং একজন ভাগ্নের মোট ৮ জনের সংসার চলে। স্বামীর উপার্জন দিয়ে সবার খরচ মেটাতে গিয়ে স্ত্রীকে ন্যূনতম প্রয়োজন (মৌলিক পোশাক-প্রসাধনী) থেকেও বঞ্চিত করা হয়। অথচ অন্যদের জন্য বিলাসবহুল ভাবেই মেটানো হয়। স্বামীর বাবার ব্যাংকে ৩০ লক্ষ টাকা জমা আছে। প্রতি মাসে নতুন করে সেখানে প্রায় ১৫ হাজার টাকা জমা করা হয়। স্বামীর সংসারে তাঁর বাবা কোন খরচ করেন না। পরিবারের সমস্ত ব্যয়ভার স্বামীকে একাই বহন করতে হয়। প্রশ্ন হল- স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে বাবার টাকা ব্যাংকে জমিয়ে পরিবারের সকল সদস্যের ব্যয় বহন করা কি স্ত্রী ও সন্তানদের উপর যুলম নয়? স্বামীর পক্ষে এত বড় সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে খুবই কষ্ট হয়। কিন্তু তার বাবা-মায়ের অভিশাপের ভয়ে অমানসিক কষ্ট সহ্য করতে হয়। কারণ বাবা-মাকে কিছু বললেই তারা সংসারে অশান্তি তৈরি করেন। এই বিষয়ে ইসলাম কী বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : অন্যের খরচে হজ্জ আদায় করলে সেই হজ্জটি কি ইসলামের ফরয হজ্জ হিসাবে আদায় হবে? অথচ তিনি তার হজ্জের জন্য নিজের সম্পদ থেকে কিছুই ব্যয় করেননি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : লোন বা কিস্তিতে বাইক কেনা যাবে কি? যদি কোনো বাইকের শোরুম কিস্তিতে বাইক দেয় তাহলে তা নেয়া হারাম হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : লাশ কবরে রাখার সঠিক নিয়ম কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কিভাবে নফসের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমার স্ত্রী ২০২২ এর মার্চ মাসে সন্তান প্রসব করেন, সে জন্য এপ্রিলে ছিয়াম রাখতে পারেননি। পরের বছর সন্তানের বয়স কম থাকায় এবং বাচ্চা যথেষ্ট বুকের দুধ পাবে না, এই জন্য ২০২৩ এর ছিয়াম ও রাখেননি বা রাখতে পারেননি। এমতাবস্থায় আবার সে কনসেপ করে এবং এই রামাযানের (২০২৪) পরেই ডেলিভারি সম্ভব্য সময়। সে জন্য এই বছরের (২০২৪) ছিয়াম রাখতেও পারবে না। তাহলে তার মোট ৩ বারের ছিয়াম ক্বাযা হচ্ছে। এই অবস্থায় শারঈ বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কিভাবে বিয়ে পড়াতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : বেহেস্তী যেওরের মধ্যে আশরাফ আলী থানভী লিখেছেন, কোন মহিলার স্বামী নিখোঁজ হয়ে গেলে ৯০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, অতঃপর স্ত্রী অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? এক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ