উত্তর : বর্তমান যুগে খেলাধুলা, বিনোদন ও নানা ব্যস্ততার কারণে মানুষের সময় নষ্ট হওয়ার বড় আশঙ্কা রয়েছে। ফুটবল বৈধ বিনোদনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে যদি তা দ্বীনী দায়িত্ব ও ইলম অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা ক্ষতির কারণ হয়। তাই একজন মুমিনের উচিত সময়ের সঠিক ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত উপায়গুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. ইলমের গুরুত্ব হৃদয়ে ধারণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, یَرۡفَعِ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ ۙ وَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ دَرَجٰتٍ ‘আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তাদের মর্যাদা বহু স্তরে উন্নীত করবেন’ (সূরা আল-মুজাদালাহ : ১১)। যে ব্যক্তি বুঝতে পারবে যে, ইলম তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করবে, তার কাছে ফুটবলসহ অন্যান্য দুনিয়াবী বিষয় দ্বিতীয় স্থানে চলে আসবে।
২. সময়ের মূল্য বুঝতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, نِعْمَتَانِ مَغْبُوْنٌ فِيْهِمَا كَثِيْرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ ‘দু’টি নে‘মতের ব্যাপারে অনেক মানুষ উদাসীন: সুস্থতা ও অবসর সময়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৪১২)। ফুটবল বা অন্য কোন কাজে এত সময় দেয়া উচিত নয়, যাতে কুরআন, ছালাত ও দ্বীনি শিক্ষা পিছিয়ে যায়।
৩. প্রতিদিন ইলমের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা। যেমন: ফজরের পর কুরআন তিলাওয়াত ও তাফসীর, প্রতিদিন কিছু হাদীছ অধ্যয়ন, একজন আলেমের কাছে নিয়মিত পড়াশোনা, অবসর সময়ে উপকারী লেকচার শোনা। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّيْنِ ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭১)।
৪. ভালো সঙ্গ গ্রহণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ کُوۡنُوۡا مَعَ الصّٰدِقِیۡنَ ‘তোমরা সত্যবাদীদের সঙ্গী হও’ (সূরা আত-তাওবাহ : ১১৯)। যারা ইলম, আমল ও আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, তাদের সঙ্গ ইলম অর্জনে সাহায্য করে।
প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, ঢাকা।