রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
উত্তর : যালিমের জন্য বদ-দু‘আ করা জায়েয। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘মন্দ কথা প্রকাশ করাকে আল্লাহ তা‘আলা পসন্দ করেন না, তবে যার উপর যুলুম করা হয়েছে তার কথা স্বতন্ত্র (সূরা আন-নিসা: ১৪৮)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘কারোর জন্য বদ-দু‘আ করা আল্লাহ পসন্দ করেন না। তবে হ্যাঁ, মাযলূম ব্যক্তি যালিমের জন্য বদ-দু‘আ করতে পারে। এক্ষেত্রে আল্লাহ ছাড় দিয়েছেন, তবে ধৈর্যধারণ করা অধিক উত্তম’ (তাফসীর ইবনে কাছীর, ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৪৮৪১৬)। পক্ষান্তরে সামাজিক কলহ, ঝগড়া ও মতবিরোধের কারণে কোন মুসলিম ভাইকে বদ-দু‘আ বা অভিশাপ দেয়া জায়েয নয়। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর পরস্পরকে আল্লাহ তা‘আলার অভিসম্পাত, তাঁর গযব ও জাহান্নামের বদ-দু‘আ করো না’ (তিরমিযী, হা/১৯৭৬; সিলসিলা ছহীহাহ্ হা/৮৯৩)। তিনি আরো বলেন, ‘মুমিন কখনো দোষারোপকারী, নিন্দাকারী এবং অভিসম্পাতকারী হতে পারে না, আর অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না’ (তিরমিযী, হা/১৯৭৭)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ)-কে বলা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি মুশরিকদের উপর বদ-দু‘আ করুন’। তিনি বললেন, ‘আমি তো অভিশাপকারীরূপে প্রেরিত হইনি, বরং আমি রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছি’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯৯)। অন্যত্র রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘একজন সত্যবাদীর জন্য অভিসম্পাতকারী হওয়া সমীচীন নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯৭)।

তাছাড়া কেউ যদি কারোর বিরুদ্ধে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করে, অপবাদ আরোপ করে কিংবা ক্ষতি সাধনে প্রয়াসী হয়, তবে তাকে শাস্তি দেয়া দায়িত্ব আল্লাহ্ তা‘আলার, অবশ্যই তাকে জবাবদিহি করতে হবে এবং কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তাহলে অভিশাপ দিয়ে কী লাভ? কারণ, রাসূল (ﷺ) বলেন, বান্দার দু‘আ সর্বদা গৃহীত হয়, কিন্তু যদি সে অন্যায় ও অবৈধ উদ্দেশ্যে অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করার জন্য অথবা দু‘আতে তাড়াহুড়া করে, তবে তার দু‘আ গৃহীত হয় না (ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৩৫; ছহীহুল জামি‘, হা/৭৭০৫)। তাই এক মুসলিমের উচিত অপর মুসলিমের জন্য কল্যাণ ও হিদায়াতের দু‘আ করা।

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) সামনে একজন লোক বাতাসকে অভিসম্পাত করছিল। তিনি বললেন, ‘বাতাসকে অভিশাপ প্রদান করো না। কারণ, সে তো হুকুমের গোলাম। যে ব্যক্তি কোন এমন জিনিসকে অভিসম্পাত করে যেটা তার উপযুক্ত নয়, তবে তা অভিশাপকারীর উপর ফিরে আসে’ (তিরমিযী, হা/১৯৭৮)। আবূ দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যখন কোন বান্দা কোন বস্তুকে অভিশাপ দেয় তখন ঐ অভিশাপ আকাশের দিকে অগ্রসর হয়। অতঃপর সেই অভিশাপ আকাশে উঠার পথকে বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন তা পুনরায় দুনিয়ায় প্রত্যার্বতনের জন্য রওয়ানা হয়, কিন্তু দুনিয়াতে আসার পথও বন্ধ করে দেয়া হয়, ফলে সে ডানে বামে যাওযার চেষ্টা করে। অবশেষে অন্য কোনো পথ না পেয়ে যাকে অভিশাপ করা হয়েছে তার নিকট ফিরে আসে। তখন সেই বস্তু যদি ঐ অভিশাপের যোগ্য হয়, তাহলে তার উপর ঐ অভিশাপ পতিত হয়, অন্যথায় অভিশাপকারীর উপরই তা পতিত হয়’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৯০৫, সনদ হাসান)। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, অভিশাপ দিলেই তা কার্যকর হয়ে যায় না। বরং যাকে অভিশাপ দেয়া হয়েছে সে এর যোগ্য না হলে, তা অভিশাপকারীর উপরেই আপতিত হয়। আবূ দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, অভিসম্পাতকারীরা ক্বিয়ামত দিবসে সাক্ষী ও সুপারিশকারী হতে পারবে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯৮)। রাসূল (ﷺ) দু‘আতে বলতেন,

اللَّهُمَّ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ سَبَبْتُهُ أَوْ لَعَنْتُهُ أَوْ جَلَدْتُهُ فَاجْعَلْهَا لَهُ زَكَاةً وَرَحْمَةً.‏

‘হে আল্লাহ! আমি তো একজন মানুষ। সুতরাং আমি কোন মুসলিমকে গাল-মন্দ করলে কিংবা তাকে অভিশাপ করলে অথবা আঘাত করলে তুমি তার জন্য সেটা পবিত্রতা ও রহমত অর্জনের উপায় বানিয়ে দিয়ো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০০-২৬০২)।


প্রশ্নকারী : ইলিয়াস, পাবনা।





প্রশ্ন (৩৩) : যে ব্যক্তি রামাযান মাসের শেষ জুম‘আয় ক্বাযা ছালাতগুলো আদায় করবে, তার জীবনের ৭০ বছরের ছুটে যাওয়া প্রত্যেক ছালাতের ক্ষতি পূরণের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। উক্ত বক্তব্যের কোন প্রমাণ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জুম‘আর দিন আছর ছালাতের পর উক্ত স্থানে বসে ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি‘আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মী ওয়া ‘আলা আলিহী ওয়া সাল্লিম তাসলীমা’ এ দরূদটি ৮০ বার পাঠ করলে আল্লাহ ৮০ বছরের ছগীরা গোনাহ মাফ করে দেন এবং তার আমলনামায় ৮০ বছরের নফল ইবাদতের ছওয়াব লিপিবদ্ধ করেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ছালাতে আমীন বলতে হবে ইমামের সাথে, না-কি ইমামের পরে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কুরআন মাজীদ পড়ার সুন্নাতী আদবগুলো কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ছালাতে সিজদা থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর যদি সন্দেহ হয় একটা সিজদা হয়েছে না-কি দু’টি সিজদা হয়েছে? এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর মাতৃভক্তি প্রসঙ্গ সমাজে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। এর সত্যতা কতটুকু? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম কয়টি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : মানুষ বা পশু-পাখির কার্টুন ব্যবহার করে কোন শিক্ষা প্রদান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ছালাতে মহিলাদেরকে ইক্বামত দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আমাদের মসজিদে লক্ষ্য করা যায় যে, প্রতিদিনই অনেক লোক ফজরের ছালাত চলাকালীন সুন্নাত ছালাত আদায় করতে থাকে। তাদের ধারণা হল- ফরজের আগেই সুন্নাত ছালাত পড়তে হবে। পরে পড়া যাবে না। উক্ত ধারণা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মানুষের কাছ থেকে সম্মান অর্জনের ক্ষেত্রে কি কেবল দু‘আতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, না-কি ইসলামিক শিষ্টাচার, আচার-আচরণ, উত্তম চরিত্র, বক্তব্য ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজসহ অন্যান্য বৈধ উপায় বা কৌশল অনুসরণ করা শরী‘আতসম্মত? আমার ধারণা হলো- সম্মান পাওয়ার উদ্দেশ্যে এসব করা হারাম এবং শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আমার এই ধারণা কি সঠিক? ইসলামের দৃষ্টিতে কী করলে সম্মান অর্জন করা বৈধ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : রান্নাবান্না ও বিভিন্ন কাজের মাঝে থেকে মহিলারা কিভাবে রামাযানকে কাজে লাগাতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ