উত্তর : আযান ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এটি শুধু ছালাতের সময় জানানোর একটি ঘোষণা নয়; বরং এতে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা, তাওহীদের সাক্ষ্য এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি সাক্ষ্যের আহ্বান রয়েছে। তাই আযানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা একজন মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব। আযান শুনলে তার উত্তর দেয়া সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُوْلُوْا مِثْلَ مَا يَقُوْلُ الْمُؤَذِّنُ ‘তোমরা যখন আযান শুনবে, তখন মুয়াযযিন যা বলে তোমরাও অনুরূপ বল’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬১১; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৩)। এই হাদীছের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আযানের উত্তর দেয়া নবী (ﷺ)-এর নির্দেশিত সুন্নাত।
অধিকাংশ আলেমের মতে, এটি ওয়াজিব নয়; বরং সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। তাই কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আযানের উত্তর না দিলে একটি বড় ফযীলত ও সুন্নাত থেকে বঞ্চিত হবে। বিশেষ করে কোন কারণ ছাড়া নিয়মিত আযানের উত্তর ছেড়ে দেয়া একজন মুসলিমের জন্য অনুচিত। সঊদী আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা শাইখ আব্দুল আযীয ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘আযান চলাকালে কথা বলা বৈধ হলেও উত্তম হল কথা না বলে মুয়াযযিনের উত্তর দেয়া। কারণ আযান একটি মহান যিকির এবং এর প্রতি মনোযোগ দেয়া সুন্নাত’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১০/৩৬৫ পৃ.)। তবে কেউ যদি আযানকে অবজ্ঞা করে, উপহাস করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে কথা বলে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। কারণ এটি ইসলামের একটি নিদর্শনের প্রতি অবমাননা, যা ইসলাম হতে বের করে দেয়।
প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বী, বরিশাল।