উত্তর : পুরুষের জন্য রেশমের পোশাক হারাম। তবে এটি ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয, যদি তা এমন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়, যার জন্য তা ব্যবহার করা বৈধ; যেমন- নারী বা এমন কাজে যেখানে শরী‘আত অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, কোন পুরুষ এটি হারামভাবে পরিধান করার জন্যই কিনছে, তাহলে তার কাছে তা বিক্রি করা জায়েয নয়। কারণ, এটি গুনাহের কাজে সহযোগিতা করার শামিল। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একদা আল্লাহর নবী (ﷺ) তাঁর ডান হাতে রেশম ও বাম হাতে স্বর্ণ নিয়ে বললেন, إِنَّ هَذَيْنِ حَرَامٌ عَلَى ذُكُوْرِ أُمَّتِيْ ‘এ দু’টি জিনিস আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম’ (আবূ দাঊদ, হা/৪০৫৭, ৪০৪০-৪০৫৩; সনদ ছহীহ)।
ইবনু আব্দুল বার্র (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী উলামার সর্বসম্মতিক্রমে পুরুষের জন্য খাঁটি রেশমের বস্ত্রকে হারাম করা হয়েছে এবং মহিলাদের জন্য হালাল করা হয়েছে (আল-ইসতিযকার, ৮/৩১৮-৩২৩)। ইমাম ইবনু কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রেশমের বস্ত্র পুরুষের উপর হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন মতপার্থক্য আছে বলে আমি জানি না (আল-মুগনী, ১/৪২১)। ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাত ও উলামার ইজমা দ্বারা প্রমাণিত যে, রেশমের বস্ত্র পরিধান করা পুরুষের জন্য হারাম (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৯/২৯৮)। তবে কাপড়ে তালি দেয়ার উদ্দেশ্যে পুরুষের জন্য স্বল্প পরিমাণ তথা দুই আঙ্গুল বা তিন আঙ্গুল বা চার আঙ্গুল পরিমাণ রেশম ব্যবহার করা জায়েয (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৬৯; রওযাতুত ত্বালিবীন, ২/৬৬)।
প্রশ্নকারী : আবু বাকর, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।