উত্তর : ফেরেশতা ও জিনের মাঝে অনেক দিক দিয়ে পার্থক্য আছে। সেগুলোর মধ্যে মৌলিক চারটি পার্থক্য উপস্থাপন করা হল- ১ম পার্থক্য: ফেরেশতাগণ সৃষ্টি হয়েছে নূর থেকে আর জিন সৃষ্টির হয়েছে আগুন থেকে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
خُلِقَتِ المَلَائِكَةُ مِنْ نُوْرٍ، وَخُلِقَ الجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ، وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ
‘ফিরিশতাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা হতে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যা তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ মাটি থেকে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৯৬)। ইবলীস শয়তান ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। সে নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে বলেছে, قَالَ اَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ١ؕ خَلَقْتَنِيْ مِنْ نَّارٍ وَّ خَلَقْتَهٗ مِنْ طِيْنٍ ‘সে (ইবলীস) বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা’ (সূরা ছোয়াদ : ৭৬)। ২য় পার্থক্য: ফেরেশতাগণ সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য করেন। তারা কখনও তাঁর অবাধ্যতা করেন না। আল্লাহ তা‘আলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন, لَّا يَعْصُوْنَ اللّٰهَ مَاۤ اَمَرَهُمْ وَ يَفْعَلُوْنَ مَا يُؤْمَرُوْنَ ‘তারা আল্লাহ তা‘আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে’ (সূরা আত তাহরীম: ৬)। পক্ষান্তরে জিন জাতির মধ্যে কিছু আছে ঈমানদার আর কিছু আছে কাফের। কিছু আছে নেককার এবং কিছু আছে পাপিষ্ঠ। যেমন রয়েছে মানুষের মধ্যে। জিনদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (জিনরা বলেছিল)
‘আমাদের কিছুসংখ্যক আজ্ঞাবহ এবং কিছুসংখ্যক অন্যায়কারী। যারা আজ্ঞাবহ হয়, তারা সৎপথ বেছে নিয়েছে। আর যারা অন্যায়কারী, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন’ (সূরা আল-জিন্ন: ১৪-১৫)। ফেরেশতাগণ মানুষকে সর্বদা ভালো কাজের আদেশ করেন; কখনও খারাপ কাজের আদেশ করেন না। পক্ষান্তরে ভালো ও সৎ জিনরা মানুষকে ভালো কাজের আর খারাপ জিনরা পাপাচার ও অন্যায়-অপকর্মের নির্দেশ দেয়।
৩য় পার্থক্য: ফেরেশতাদের মধ্যে জৈবিক চাহিদা নেই। পক্ষান্তরে জিনদের মাঝে জৈবিক চাহিদা আছে। ৪র্থ পার্থক্য: ফেরেশতা ও জিন উভয়েই বিভিন্ন আকার-আকৃতি ধারণ করতে সক্ষম কিন্তু ফেরেশতারা কখনও খারাপ ও ভয়ঙ্কর জিনিসের রূপ ধারণ করেন না বরং তারা কখনও কখনও সুন্দর ও ভালো জিনিসের আকার ধারণ করে মানুষের সামনে হাজির হয়। যেমন, বিখ্যাত হাদীছে জিবরীল। জিবরীল ফেরেশতা একজন সুদর্শন যুবকের আকৃতিতে দ্বীন ইসলাম শিখানোর জন্য ছাহাবীদের সামনে উপস্থিত হয়ে নবী (ﷺ)-কে কতিপয় প্রশ্নের মাধ্যমে তাদেরকে দ্বীন শিখিয়েছেন। পক্ষান্তরে জিনরা ভালো-মন্দ উভয় জিনিসের আকার ধারণ করে। খারাপ জিনগুলো কখনও কখনো ভয়ঙ্কর ও নোংরা জিনিসের আকার ধারণ করে মানুষকে ভয় দেখায়।
ইবলীস শয়তান কি জিন ছিল, না-কি ফেরেশতা ছিল? এর উত্তরে আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীটি যথেষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ اِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓىِٕكَةِ۠ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِيْسَ١ؕ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ اَمْرِ رَبِّهٖ
‘যখন আমরা ফেরেশতাদেরকে বললাম, আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল’ (সূরা আল-কাহ্ফ : ৫০)।
প্রশ্নকারী : মাসুম বিল্লাহ, সদর, পাবনা।