মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : এই প্রশ্নের হুকুম নির্ভর করবে ঋণের প্রকৃতির ওপর। যদি তথাকথিত ৫% সার্ভিস চার্জ প্রকৃতপক্ষে ঋণের বিপরীতে নির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ হয় এবং বাস্তব কোন সেবার বিনিময় না হয়ে ঋণের পরিমাণের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে শরী‘আতের দৃষ্টিতে তা সূদের অন্তর্ভুক্ত। এমন ঋণের কার্যক্রম পরিচালনা, আদায় বা সংগ্রহের কাজে অংশ নেয়া জায়েয নয়। কিন্তু যদি ৫% অর্থটি ঋণের লাভ না হয়ে, প্রকৃত প্রশাসনিক খরচ (যেমন: আবেদন প্রক্রিয়া, কাগজপত্র, মাঠপর্যায়ের বাস্তব ব্যয়) অনুযায়ী নির্ধারিত হয় এবং ঋণের মেয়াদ বা পরিমাণের ভিত্তিতে লাভ হিসাবে নেয়া না হয়, তাহলে তা ভিন্ন আলোচনা। এ বিষয়টি বাস্তব নীতিমালা দেখে নির্ধারণ করতে হবে। সূদের কাজে সহযোগিতা নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘তোমরা নেককাজ ও তাক্বওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা কর না’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৭৫)। তিনি আরও বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সূদের যা অবশিষ্ট আছে তা পরিত্যাগ কর’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৭৮)। সূদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই গুনাগার। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘রাসূল (ﷺ) সূদগ্রহণকারী, সূদদাতা, সূদের লেখক এবং এর দুই সাক্ষী সকলের ওপর লা‘নত করেছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই সমান (গুনাহের ক্ষেত্রে)’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৮)।

এই চাকরির ক্ষেত্রে বিধান হল, যদি আপনার মূল দায়িত্ব জনগণের সেবামূলক কাজ হয় এবং সূদভিত্তিক ঋণের কিস্তি আদায় বা পরিচালনা আপনার কাজের অপরিহার্য অংশ হয়, তাহলে এমন চাকরি থেকে বিরত থাকা উচিত। যদি ঋণটি প্রকৃত অর্থেই শরী‘আতসম্মত, সূদমুক্ত হয় এবং ৫% কেবল বাস্তব প্রশাসনিক ব্যয়ের সমপরিমাণ হয় (লাভ নয়), তাহলে সে ক্ষেত্রে চাকরি জায়েয হতে পারে। যেহেতু বাস্তবে অনেক ‘সার্ভিস চার্জ’ নামের অর্থই সূদের বিকল্প হিসাবে নেয়া হয়। তাই চাকরি গ্রহণের আগে ঋণ প্রকল্পের নীতিমালা ও ৫% চার্জের প্রকৃতি নিশ্চিতভাবে যাচাই করা যরূরী।


প্রশ্নকারী : জুবায়ের মাহবুব জাবেদ, সিলেট।





প্রশ্ন (৩৪) : ‘পীর-অলীদের মৃতদেহ মাটিতে খায় না বরং তা অক্ষত থাকে’-এরূপ আক্বীদা সঠিক কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : তারাবীহর ছালাতে এক ব্যক্তি দু’বার দুই জায়গায় ইমামতি করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : জানাযার ছালাতে দাঁড়ানোর সময় পায়ে পায়ে মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : অনেকেই বিশেষ ফযীলত মনে করে শুধুই ১৫ই শা‘বানে ছিয়াম পালন করে। এরূপ করা যাবে কি? শা‘বান মাসে ছিয়াম পালনের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : শরী‘আতে মুমিন নারী এবং পুরুষকে তাদের দৃষ্টি হেফাযত করতে বলা হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত চোখ পরে যাওয়া গুনাহ নয়; তাহলে অনলাইনে আলেমগণের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক লেকচার শোনার সময়, অনেক সময় এমন হয় যে, এক দৃষ্টিতে আলেমদের মুখের দিকে তাকিয়ে লেকচার শুনতে হয়। তখন শুধু তারা কী বলছেন সেদিকেই মনোযোগ থাকে। এখন জিজ্ঞাসা হলো, এতে কি একজন নারীর গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : মহান আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগত্য করা, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের উলিল আমরের আনুগত্য কর’ (সূরা আন-নিসা : ৫৯)। উক্ত আয়াতে وَ اُولِی الۡاَمۡرِ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক ব্যক্তি সন্তানের প্রতি যত্ন নেন না। কিন্তু অন্য কাজের প্রতি খুবই যত্নবান। এ সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : বর্তমানে বহু ঈদগাহে ছালাতের পূর্বেই মুছল্লীদের নিকট হতে ছাদাক্বাহ ও দানের টাকা কালেকশন করা হয়। এটা শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ইসলামী রাষ্ট্রে সংবিধানের ভিত্তি কী হবে- মানব রচিত আইন, না-কি শরী‘আত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত’ ও ‘বিদ‘আতী’দের মধ্যে পার্থক্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : সন্তান জন্ম হওয়ার ৩০ মিনিট পরে মারা গেলে তার আক্বীক্বা দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘ঈমানকে মাখলূক বললে কাফির হবে’। এ ব্যাপারে আমাদের আক্বীদা কেমন হবে? অন্তরের বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি ও কর্মে বাস্তবায়ন এগুলো কী মাখলূক? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ