উত্তর : আপনি যেহেতু জানেন যে, চোর আপনার সাইকেলের পরিবর্তে যে সাইকেলটি আপনাকে দিয়েছে, সেটিও চুরি করা সম্পদ, তাই আপনার জন্য সেটি গ্রহণ করা বৈধ নয়। যদি আপনি তা গ্রহণ করেন, তাহলে আপনি সেই গুনাহে অংশীদার হয়ে যাবেন। আবু র্হুরা আর-রাক্কাশী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, أَلَا تَظْلِمُوْا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيْبِ نَفْسٍ مِّنْهُ ‘সাবধান! কেউ কারো প্রতি যুলম করবে না। সাবধান! কারো মাল তার মনের সন্তোষ ব্যতীত কারো জন্য হালাল নয়’ (শু‘আবুল ঈমান, হা/৫৪৯২; দারাকুৎনী, হা/২৯২৩, সনদ ছহীহ)।
সুতরাং এমতাবস্থায় যদি আপনি সেই সাইকেলের প্রকৃত মালিককে চিনতে পারেন, তাহলে সাইকেলটি তাঁর কাছেই ফিরিয়ে দিন। চোরের কাছে ফেরত দেবেন না। আর যদি মালিককে চিনতে না পারেন, তাহলে চুরি যাওয়া মালামাল সংরক্ষণ ও উদ্ধার করে এমন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিন, যাতে প্রকৃত মালিক তা ফিরে পেতে পারেন। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আল-মাজমূ‘’ গ্রন্থে বলেন, ‘কেউ যদি কোন বস্তু অবৈধ (ফাসিদ) ক্রয়ের মাধ্যমে অর্জন করে, তারপর তা অন্য কারো কাছে বিক্রি করে, তবে তার দৃষ্টান্ত হল- যেমন কোন দখলদার জবরদখলকৃত সম্পদ বিক্রি করেছে। এরপর যদি দ্বিতীয় ব্যক্তির হাতে বস্তুটি আসে এবং সে প্রকৃত অবস্থা জানতে পারে, তাহলে তার ওপর ওয়াজিব হল সেটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া। প্রথম ক্রেতার কাছে তা ফিরিয়ে দেয়া বৈধ নয়’ (আল-মাজমূ‘ শারহুল মুহাযযাব, ৯/৩৭২ পৃ.)।
অতএব আপনার চুরি হওয়া সাইকেলটি যদি এখনও বিদ্যমান থাকে, তাহলে চোরের কাছে সেটিই দাবি করুন। আর যদি সে সেটি নষ্ট করে ফেলে, বিক্রি করে দেয় বা ফেরত দেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সাইকেলের সমমূল্য (ক্ষতিপূরণ) তার কাছ থেকে দাবি করবেন (বিস্তারিত দ্র.: ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৫৩৪৩০১)।
প্রশ্নকারী : সেলিম, মাদারীপুর।