উত্তর : উক্ত কারণে আপন ভাই বা বোনকে ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করা শরী‘আতসম্মত নয়। ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ফরয এবং তা ছিন্ন করা কাবীরা গুনাহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
فَہَلۡ عَسَیۡتُمۡ اِنۡ تَوَلَّیۡتُمۡ اَنۡ تُفۡسِدُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَ تُقَطِّعُوۡۤا اَرۡحَامَکُمۡ - اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ لَعَنَہُمُ اللّٰہُ فَاَصَمَّہُمۡ وَ اَعۡمٰۤی اَبۡصَارَہُمۡ
‘অতঃপর তোমরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে কি এমনই করবে যে, পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে? এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন; অতঃপর তাদেরকে বধির করেছেন এবং তাদের দৃষ্টিশক্তি অন্ধ করে দিয়েছেন’ (সূরা মুহাম্মাদ : ২২-২৩)। তিনি আরও বলেন, وَ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَ لَا تُشۡرِکُوۡا بِہٖ شَیۡئًا وَّ بِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا وَّ بِذِی الۡقُرۡبٰی ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করো না। আর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার কর এবং নিকটাত্মীয়দের প্রতিও’ (সূরা আন-নিসা : ৩৬)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ ‘কোন মুসলিমের জন্য তার মুসলিম ভাইকে তিন রাতের বেশি বর্জন (কথাবার্তা বন্ধ) করা বৈধ নয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬০৭৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৬০)। তিনি আরো বলেন, لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ ‘যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৮৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৫৬)।
সুতরাং যদি ভাই বা বোন ছালাতে অবহেলা করে, তাহলে তাকে হিকমত, নরম ভাষা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে বারবার দাওয়াত দিতে হবে। তার জন্য দু‘আ করতে হবে। প্রয়োজনে সাময়িকভাবে কঠোর আচরণ বা বয়কট করা যেতে পারে, যদি তা তার সংশোধনের জন্য উপকারী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু স্থায়ীভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না। আল্লামা আব্দুল আযীয ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ফরয এবং তা ছিন্ন করা হারাম। তবে যদি কোন আত্মীয়কে সাময়িক বর্জন করলে তার সংশোধন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তা বৈধ; আর যদি এতে কোন উপকার না হয় বা ক্ষতি বৃদ্ধি পায়, তাহলে বর্জন করা বৈধ নয়’ (মাজমূঊ ফাতওয়া ইবনু বায, ২৮/২০৯-২১০ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া বোর্ড বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম। তবে শারঈ স্বার্থে এবং সংশোধনের উদ্দেশ্যে সাময়িক বর্জন বৈধ হতে পারে, যদি তাতে কল্যাণের আশা থাকে’ (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ, ২৫/২৯৮-৩০০ পৃ.)। উল্লেখ্য, পিতা-মাতা সন্তানের অধিকার পুরোপুরি বাতিল বা তাকে শারঈ অর্থে ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করতে পারেন না। সন্তানের অবাধ্যতা বা পাপের কারণে তাকে শাসন, উপদেশ বা প্রয়োজনে সীমিত শাস্তি দিতে পারেন; কিন্তু আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা বৈধ নয়। একইভাবে সন্তানও পিতা-মাতা বা ভাই-বোনকে ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করতে পারে না। আল্লাহ অধিক জানেন।
প্রশ্নকারী : নাহিদ, ঢাকা।