বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামের প্রথম যুগে পবিত্র কুরআনে রুকূ‘ সংযোগ করা হয়নি। যতটুকু জানা যায় তা হল, সর্বপ্রথম বুখারা অঞ্চলের হানাফী আলেমগণ তারাবীহ ছালাতের ক্বিরাআতের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য রুকূ‘ পরিভাষাটি আবিষ্কার করেন। অর্থাৎ প্রত্যেক রাক‘আতে এক রুকূ করে পড়লে প্রতিদিন বিশ রাক‘আতে ২০ রুকূ‘ পড়া যাবে। আর ২৭ রামাযান কুরআন খতম করলে ২৭ গুণ ২০= ৫৪০টি রুকূ‘ হয়। আর সেজন্যই কুরআনে ৫৪০টি রুকূ‘ নির্দেশ করা হয়েছে (মুছত্বলাহুর রুকূ‘ ফিল মাছাহেফ, ৩৯-৪০)। 

ইমাম আস-সারখাসী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ক্বাযী ইমাম ইমাদুদ্দীন (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত আছে যে, বুখারা নগরীর শায়েখগণ কুরআনকে পাঁচশ‘ চল্লিশ রুকূ‘তে বিভক্ত করেন (আল-মাবসুত, ২/১৪৬)। আব্দুল কাইয়ূম বিন আব্দুল গফুর আস-সিন্দী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রুকূ‘র উল্লেখিত পরিভাষাটি হিজরী তৃতীয় শতাব্দীর শেষলগ্নে এবং চতুর্থ শতাব্দীর শুরুর দিকে সৃষ্টি হয় এবং তখন থেকেই এ পরিভাষাটি বুখারা নগরী, ট্রান্স অক্সিয়ান অঞ্চল, তুরস্ক ও ভারত উপমহাদেশের কুরআনগুলোতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 

অতঃপর উসমানি খেলাফতের পর তুরস্ক থেকে এটা উঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ তার আশেপাশের দেশগুলোতে তা থেকেই যায় (মুছত্বলাহুর রুকূ‘ ফিল-মাছাহেফ, ৩৯)।

যেহেতু রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং ছাহাবায়ে কেরাম থেকে তারাবীহর ছালাত নির্দিষ্টভাবে ২০ রাক‘আত প্রমাণিত নয়, সেহেতু উক্ত রুকূ‘ গণনার কোন প্রয়োজন নেই। আর এটা কুরআনের মধ্যে সংযোগ করাও উচিত হয়নি। তাছাড়া ২০ রাক‘আত তারাবীহ্র ব্যাপারে যে সমস্ত বর্ণনা এসেছে, সেগুলো জাল, যঈফ ও মুনকার। পক্ষান্তরে ১১ রাক‘আতের পক্ষেই ছহীহ হাদীছ সমূহ বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া ২৭ তারিখে খতম করতে হবে এরও কোন দলীল নেই (এ বিষয়ে বিস্তারিত দ্রঃ তারাবীহর রাক‘আত সংখ্যা : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক বই)।

উল্লেখ্য, উপমহাদেশীয় নুসখায় শুধু রুকূ‘ যোগ করা হয়নি, বরং আরো অনেক কিছুই বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন তা‘বীযের ব্যবসা করার জন্য তা‘বীযের শিরকী নকশা যুক্ত করা হয়েছে। কুরআন খতমের জন্য বিশাল বানোয়াট দু‘আ সংযুক্ত করা হয়েছে। সেই সাথে কুরআন বখশানোর জন্য বিদ‘আতী পদ্ধতিও উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মোট ১৫টি তেলাওয়াতে সিজদা রয়েছে। অথচ লেখা হয়েছে ১৪টি সিজদা। আর সূরা হজ্জের দ্বিতীয় সিজদার স্থানে লেখা হয়েছে এটি ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট। অর্থাৎ এই সিজদাটি ধরাই হয় না। আরো অনেক বানোয়াট কথাও কুরআনের প্রথমে ও শেষে সংযোগ করা হয়েছে। তাই এগুলো থেকে সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে।

প্রশ্নকারী : ফযলে রাব্বী, নাটোর।





প্রশ্ন (২০) : যে ব্যক্তি কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ করে ভুলে গেছে, তার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : হাজীরা ত্বাওয়াফ করার সময় পড়েন, اللَّهُمَّ إِيمَانًا بِكَ وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ। দু‘আটা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কিছু মানুষ হারাম কাজে লিপ্ত। যেমন- দাড়ি মুণ্ডন করা, ধূমপান করা, হারামের সাথে জড়িত থাকা ইত্যাদি। যদি এগুলো বর্জন করতে বলা হয় তখন সে বলে, ঈমান ঠিক আছে। দাড়ি লম্বা করা, ধুমপান বর্জন করাই শুধু ঈমান নয়। এ ধরনের লোকের পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কিভাবে নফসের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকদের বাণী বা তাদের লেখা সংগ্রহ করে যদি পিডিএফ তৈরি করা হয় এবং  অনুমতি ছাড়া যদি ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করা হয় তাহলে বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : কোন্ কাজগুলো ডান দিক থেকে এবং কোন্ কাজগুলো বাম দিক থেকে শুরু করা সুন্নাত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : শ্বশুর যদি কোন জিনিস ইচ্ছা করে দেয়, তাহলে সেটা নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মসজিদের শিক্ষাগত ও গঠনমূলক পরিচালনার দিক দিয়ে ইমাম ও মসজিদের কমিটির কী কী দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে? মসজিদ ও মাদরাসার কমিটির সদস্যদের কী কী গুণ থাকা আবশ্যক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : মৃত্যুর সময় কেউ শরী‘আতবিরোধী অছিয়ত করলে তা পূরণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : সকাল-সন্ধ্যার দু‘আর সময়কাল কখন ফজর ও মাগরিবের পর, না-কি ফজর ও আছর ছালাতের পর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : বার্ধক্যের কারণে মাঝে মধ্যে ফোঁটা ফোঁটা পেশাব পড়ে। এমতাবস্থায় ছালাত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : মহিলারা কাঁচের চুড়ি অথবা বাজনাযুক্ত অলংকার পরিধান করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ