রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামের প্রথম যুগে পবিত্র কুরআনে রুকূ‘ সংযোগ করা হয়নি। যতটুকু জানা যায় তা হল, সর্বপ্রথম বুখারা অঞ্চলের হানাফী আলেমগণ তারাবীহ ছালাতের ক্বিরাআতের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য রুকূ‘ পরিভাষাটি আবিষ্কার করেন। অর্থাৎ প্রত্যেক রাক‘আতে এক রুকূ করে পড়লে প্রতিদিন বিশ রাক‘আতে ২০ রুকূ‘ পড়া যাবে। আর ২৭ রামাযান কুরআন খতম করলে ২৭ গুণ ২০= ৫৪০টি রুকূ‘ হয়। আর সেজন্যই কুরআনে ৫৪০টি রুকূ‘ নির্দেশ করা হয়েছে (মুছত্বলাহুর রুকূ‘ ফিল মাছাহেফ, ৩৯-৪০)। 

ইমাম আস-সারখাসী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ক্বাযী ইমাম ইমাদুদ্দীন (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত আছে যে, বুখারা নগরীর শায়েখগণ কুরআনকে পাঁচশ‘ চল্লিশ রুকূ‘তে বিভক্ত করেন (আল-মাবসুত, ২/১৪৬)। আব্দুল কাইয়ূম বিন আব্দুল গফুর আস-সিন্দী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রুকূ‘র উল্লেখিত পরিভাষাটি হিজরী তৃতীয় শতাব্দীর শেষলগ্নে এবং চতুর্থ শতাব্দীর শুরুর দিকে সৃষ্টি হয় এবং তখন থেকেই এ পরিভাষাটি বুখারা নগরী, ট্রান্স অক্সিয়ান অঞ্চল, তুরস্ক ও ভারত উপমহাদেশের কুরআনগুলোতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 

অতঃপর উসমানি খেলাফতের পর তুরস্ক থেকে এটা উঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ তার আশেপাশের দেশগুলোতে তা থেকেই যায় (মুছত্বলাহুর রুকূ‘ ফিল-মাছাহেফ, ৩৯)।

যেহেতু রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং ছাহাবায়ে কেরাম থেকে তারাবীহর ছালাত নির্দিষ্টভাবে ২০ রাক‘আত প্রমাণিত নয়, সেহেতু উক্ত রুকূ‘ গণনার কোন প্রয়োজন নেই। আর এটা কুরআনের মধ্যে সংযোগ করাও উচিত হয়নি। তাছাড়া ২০ রাক‘আত তারাবীহ্র ব্যাপারে যে সমস্ত বর্ণনা এসেছে, সেগুলো জাল, যঈফ ও মুনকার। পক্ষান্তরে ১১ রাক‘আতের পক্ষেই ছহীহ হাদীছ সমূহ বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া ২৭ তারিখে খতম করতে হবে এরও কোন দলীল নেই (এ বিষয়ে বিস্তারিত দ্রঃ তারাবীহর রাক‘আত সংখ্যা : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক বই)।

উল্লেখ্য, উপমহাদেশীয় নুসখায় শুধু রুকূ‘ যোগ করা হয়নি, বরং আরো অনেক কিছুই বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন তা‘বীযের ব্যবসা করার জন্য তা‘বীযের শিরকী নকশা যুক্ত করা হয়েছে। কুরআন খতমের জন্য বিশাল বানোয়াট দু‘আ সংযুক্ত করা হয়েছে। সেই সাথে কুরআন বখশানোর জন্য বিদ‘আতী পদ্ধতিও উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মোট ১৫টি তেলাওয়াতে সিজদা রয়েছে। অথচ লেখা হয়েছে ১৪টি সিজদা। আর সূরা হজ্জের দ্বিতীয় সিজদার স্থানে লেখা হয়েছে এটি ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট। অর্থাৎ এই সিজদাটি ধরাই হয় না। আরো অনেক বানোয়াট কথাও কুরআনের প্রথমে ও শেষে সংযোগ করা হয়েছে। তাই এগুলো থেকে সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে।

প্রশ্নকারী : ফযলে রাব্বী, নাটোর।





প্রশ্ন (৯) : পেটের ভিতর বাচ্চা মারা গেলে তার কি জানাযা পড়তে হয়, তার কি নাম রাখতে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জনৈক ব্যক্তির একটি স্কুল আছে, সেখানে ছাত্র-ছাত্রীর জন্য নির্দিষ্ট একটি প্রকাশনীর বই নির্বাচন করায় প্রকাশনী হতে কিছু টাকা দেয়। উক্ত টাকা নেয়া জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ছালাত অবস্থায় যদি দুই এক ফোঁটা পেশাব পড়ে যায়, তাহলে কি পুনরায় ছালাত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ডিফেন্সে চাকরি করতে হলে ট্রেনিংয়ের ছয় মাস নিয়মিত দাড়ি ক্লিন সেভ করতে হয়। আবার ট্রেনিং সম্পূর্ণ করে দাড়ি রাখার সুযোগ আছে। সাময়িকভাবে দাড়ি কেটে এই চাকুরী করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : জনৈক আলেম বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির এক হাযার বছর পূর্বে সূরা ‘ত্বা-হা’ ও ‘ইয়াসীন’ পাঠ করলেন। তখন ফেরেশতারা শুনে বললেন, ধন্য সেই জাতি, যাদের উপর এটা নাযিল হবে, ধন্য সেই পেট যে সেটা ধারণ করবে এবং ধন্য সেই মুখ যে সেটা উচ্চারণ করবে’। তাঁর উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর মাতৃভক্তি প্রসঙ্গ সমাজে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। এর সত্যতা কতটুকু? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : হিজড়ারা জিনের সন্তান। এ দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : একই কাতারে ইমাম মুক্তাদিরা দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? অনেক সময় দু’জন দাঁড়িয়ে ছালাত শুরু করে পরবর্তীতে তাদের সাথে আরো লোকজন শামিল হয়। এমতাবস্থায় ইমাম সামনে না যেয়ে বা মুক্তাদিদের পিছনে না ঠেলে যদি একই কাতারে থেকে ছলাত শেষ করে তাহলে কি সেটা নাজায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : পরীক্ষিত আমলের উপর আমল করা কি জায়েয? এ ব্যাপারে সালাফদের অবস্থান কেমন ছিল? যদি জায়েয হয় তাহলে, ভ্রান্ত আমল ও পরীক্ষিত আমলের মাঝে কিভাবে পার্থক্য করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : গায়রুল্লাহর নৈকট্য হাছিলের জন্য পশু কুরবানী করার হুকুম কী? এই পশুর গোশত খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মক্কা বা মদীনায় কেউ মারা গেলে ক্বিয়ামতের দিন নিরাপদ অবস্থায় উঠবে এবং আমার শাফা‘আত তার জন্য ওয়াজিব হবে যাবে (ত্বাবারাণী কাবীর হা/৬১০৪)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আলেম বা সম্মানী ব্যক্তিদের হাতে চুম্বন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ