উত্তর : যদি প্র্যাকটিক্যাল খাতার উদ্দেশ্য হয় শিক্ষার্থী নিজে কাজ শিখবে, পর্যবেক্ষণ করবে, অঙ্কন করবে এবং নিজের অর্জিত জ্ঞান প্রদর্শন করবে, তাহলে অন্য কাউকে দিয়ে সম্পূর্ণ খাতা তৈরি করিয়ে নিজের নামে জমা দেয়া জায়েয হবে না। কারণ এতে অন্যের কাজকে নিজের কাজ হিসাবে উপস্থাপন করা, যা এক ধরনের প্রতারণা হিসাবে গণ্য হবে। অথচ পরীক্ষায় নকল করা বা চিট করা, চাকরী, স্কলারশিপ, ক্রয়-বিক্রয় বা অন্য যে কোন বিষয়ে ধোঁকা দেয়া হারাম। এর ফলে লঙ্ঘিত হচ্ছে সরকারী আইন এবং প্রতারণা করা হচ্ছে দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। যেহেতু রাষ্ট্রীয় আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা এবং ঘুষ দেয়া ও নেয়া উভয়ই নিষিদ্ধ, তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। নতুবা তা মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার নষ্ট করা ও রাষ্ট্রের সাথে ধোঁকা হবে। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي ‘যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১-১০২)। সুতরাং যারা পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করে তারা আইনের চোখে অপরাধী এবং ইসলামের দৃষ্টিতে মহাপাপী। আর যারা এমন কাজকে প্রশ্রয় দেয় তারাও যে মহাপাপী তা সহজেই অনুমান করা যায়। শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
الغش محرم في الاختبارات، كما أنه محرم في المعاملات ، فليس لأحد أن يغش في الاختبارات في أي مادة ، وإذا رضي الأستاذ بذلك فهو شريكه في الإثم والخيانة
‘পরীক্ষায় নকল করা বা ধোঁকা দেয়া হারাম, যেরকম তা হারাম ব্যবসা-বাণিজ্যে। পরীক্ষায় কারোর জন্য কোন বিষয়ে নকল করা বা টুকলি করা বৈধ নয়। যখন কোন শিক্ষক তাতে সহযোগিতা করে, তখন সেও গুনাহ এবং খিয়ানতে অংশীদার হয়ে যায়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৬/৩৯৭ পৃ.)। শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, الغش في الامتحانات محرم ، بل من كبائر الذنوب ‘পরীক্ষায় চিট করা বা নকল করা হারাম, বরং এটা কাবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত’ (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব, ২/২৪ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : সাজ্জাদুল ইসলাম শাওন, ফেনী।