উত্তর : স্বামী যখন প্রথমবার স্ত্রীর কাছে যাবে, তখন সুন্নাহ অনুযায়ী কয়েকটি কাজ করা মুস্তাহাব। যেমন:
(১) বাসর ঘর ও পাত্রীকে সাজানো (ইবনু মাজাহ, হা/১৮৭৬; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৮৩১)। উম্মু সুলাইম (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ছাফিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে রাসূল (ﷺ)-এর জন্য সাজিয়ে দেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৭১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৬৫)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কেও রাসূল (ﷺ)-এর জন্য সাজানো হয়েছিল (ছহীহ বুখারী, হা/৩৮৯৪, ৩৮৯৬; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৮৩১)।
(২) স্ত্রীর সঙ্গে স্নেহপূর্ণ ও কোমল আচরণ করা মুস্তাহাব। যেমন তাকে কোন পানীয় বা অনুরূপ কিছু উপহার দেয়া (আহমাদ, হা/২৭৬৩২; সনদ ছহীহ, আদাবুয যিফাফ, পৃ. ১৯)।
(৩) স্ত্রীর মাথার সামনের অংশে হাত রেখে তার জন্য দু‘আ করা মুস্তাহাব। এ সময় আল্লাহর নাম নিয়ে বরকতের দু‘আ করবে এবং হাদীছে বর্ণিত এই দু‘আটি পড়বে।
اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْاَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা খইরাহা ওয়া খইরা মা জাবালতাহা ‘আলাইহি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিং শাররিহা ওয়া শাররি মা জাবালতাহা ‘আলাইহি। অর্থ : হে আল্লাহ, আমি এর যত কল্যাণ রয়েছে এবং যত কল্যাণ তার স্বভাবে আপনি দিয়েছেন তা চাই। আর এর যত অকল্যাণ রয়েছে এবং যত অকল্যাণ ওর স্বভাব-চরিত্রে আপনি রেখেছেন তা থেকে আপনার আশ্রয় চাই’ (আবূ দাঊদ, হা/২১৬০; ইবনু মাজাহ, হা/১৯১৮, ২২৫২; সনদ হাসান)।
(৪) স্বামী-স্ত্রী একত্রে ছালাত আদায় করা : বিবাহের রাতে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে দুই রাকা‘আত ছালাত আদায় করা সালাফদের নিকট মুস্তাহাব হিসাবে পরিচিত। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়, না পড়লে কোন গুনাহ হবে না (মুছান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ, আলবানী, আদাবুয যিফাফ, মাসআলা নং-৩)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, স্ত্রী স্বামীর কাছে গেলে স্বামী দাঁড়িয়ে যাবে এবং স্ত্রী তার পিছনে দাঁড়াবে। অতঃপর তারা একসঙ্গে দুই রাকা‘আত ছালাত আদায় করবে এবং বলবে,
اَللّهُمَّ بَارِكْ لِىْ فِىْ أَهْلِىْ وَبَارِكْ لَهُمْ فِىَّ، اَللّهُمَّ اجْمَعْ بَيْنَنَا مَا جَمَعْتَ بِخَيْرٍ و فَرِّقْ بَيْنَنَا إِذَا فَرَّقْتَ إِلَى خَيْرٍ
‘হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দিন এবং আমার ভিতরেও বরকত দিন পরিবারের জন্য। হে আল্লাহ! আপনি তাদের থেকে আমাকে রিযিক দিন আর আমার থেকে তাদেরকেও রিযিক দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের যতদিন একত্রে রাখেন কল্যাণেই একত্রে রাখুন। আর আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলে কল্যাণের পথেই বিচ্ছেদ ঘটান’ (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর, হা/৮৯০০; সিলসিলাতুল আছার আছ-ছহীহাহ, হা/৩৬১; আদাবুয যিফাফ, পৃ. ২৪)।
(৫) সহবাসকালে নিম্নোক্ত দু‘আ পাঠ করা।
بِسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লা-হি আল্ল-হুম্মা জান্নিবনাশ শায়তা-না ও জান্নিবিশ শায়তানা মা রযাকতানা’। অর্থ: ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তানের প্রভাব থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদের যে সন্তান দান করবেন তাদেরকেও শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচিয়ে রাখুন’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪১, ৩২৭১, ৫১৬৫)। এ দু‘আ পাঠ করার পরে সহবাস করলে আল্লাহ যদি ঐ স্বামী-স্ত্রীকে কোন সন্তান দান করেন, তাহলে শয়তান সন্তানের কোন ক্ষতি করতে পারবে না (ছহীহ বুখারী, হা/১৪১, ৩২৭১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৩৪)।
(৬) সহবাসের পরে ঘুমাতে ও পানাহার করতে চাইলে কিংবা পুনরায় মিলিত হতে চাইলে মাঝে ওযূ করা সুন্নাত (ছহীহ বুখারী, হা/২৮৮, ২৯০; আদাবুয যিফাফ, পৃ. ৪২)।
(৭) ঘুমের পূর্বে অপবিত্রতার গোসল করা উত্তম (ছহীহ মুসলিম, হা/৩০৭)।
(৮) স্বামী-স্ত্রী এক সাথে গোসল করা (ছহীহ মুসলিম, হা/৩২১)।
(৯) বাসর পরবর্তী সকালে বরের অন্যতম কর্তব্য হল ওয়ালীমা করা। এটা সুন্নাত (ছহীহ বুখারী, হা/৫১৫৪; আদাবুয যিফাফ, মাসআলা নং-২৪)।
উল্লেখ্য, বিবাহ উপলক্ষে শরী‘আত বিরোধী কোন হারাম কাজ করা বা করতে দেয়া বৈধ নয়। যেমন: বাদ্যযন্ত্র ও গান-বাজনা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, পুরুষদের সামনে নারীদের নৃত্য এবং আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এমন অন্যান্য কাজ।
প্রশ্নকারী : নাঈম, ঢাকা।