বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
উত্তর : ছহীহ হাদীছ জানার পর তা না মানার বিষয়টি কয়েকটি অবস্থার ওপর নির্ভর করে। ঢালাওভাবে সবাইকে ‘হাদীছ অস্বীকারকারী’ বা ‘কাফির’ বলা যাবে না। বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
(১) সুন্নাহর প্রামাণ্যতা অস্বীকার করা (إنكار حجية السنة) : যদি কেউ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ বা হাদীছকে ইসলামী শরী‘আতের উৎস হিসাবে মানতে অস্বীকার করে এবং বলে যে ‘শুধু কুরআনই যথেষ্ট’, তবে সে ব্যক্তি সর্বসম্মতিক্রমে কাফির। শাইখ ইবনু বায (ﷺ) বলেন, من أنكر السنة فقد أنكر القرآن، ومن أنكر القرآن فقد كفر بالله عز وجل ‘যে ব্যক্তি সুন্নাহকে অস্বীকার করল, সে মূলত কুরআনকেই অস্বীকার করল। আর যে কুরআনকে অস্বীকার করল, সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরী করল’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া লিইবনি বায, ১/২১৬ পৃ.)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ ‘জেনে রেখো! আমাকে কিতাব (কুরআন) দেয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু (সুন্নাহ) দেয়া হয়েছে’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৪, সনদ ছহীহ)।

(২) হাদীছটি সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করা : অনেক সময় কেউ একটি হাদীছ শোনার পরও আমল করে না কারণ তার নিকট হাদীছটির বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় থাকে অথবা তার মাযহাব বা পূর্ববর্তী ইমামদের ভিন্ন কোন ব্যাখ্যা থাকে। একে হাদীছ অস্বীকার বা কুফরী বলা যাবে না, বরং এটি ভুল ইজতিহাদ বা অন্ধ তাকলীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

(৩) অবজ্ঞা বা অহংকারবশত না মানা : যদি কেউ হাদীছটি রাসূল (ﷺ)-এর কথা বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও কেবল অবজ্ঞা বা অহংকারবশত তা মানতে অস্বীকার করে, তবে সে চরম পর্যায়ের পাপাচারী এবং তার ঈমান হুমকিতে পড়বে। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে বলেন, فالذي يترك السنة رغبة عنها واستكباراً عليها، فهذا كافر ‘যে ব্যক্তি সুন্নাহর প্রতি অনীহা প্রকাশ করে এবং অহংকারবশত তা ত্যাগ করে, সে কাফির’ (শারহু রিয়াদিয ছালিহীন)। সুতরাং যারা সাধারণভাবে আমল করে না কিন্তু হাদীছকে সত্য বলে মানে, তারা পাপাচারী। আর যারা হাদীছকে শরী‘আতের দলীল হিসাবেই অস্বীকার করে, কেবল তারাই ‘মুনকারে হাদীছ’ বা কাফির। ব্যক্তিবিশেষকে কাফির বলার আগে শর্তসমূহ পূরণ হওয়া এবং প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়া আবশ্যক।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহেল কাফী, ময়মনসিংহ।





প্রশ্ন (১২) : জর্দা খাওয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১): সারা বছর যোহরের ছালাতের সময় হয় ১১:৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১২:১৮ মিনিটের মধ্যে। কিন্তু অধিকাংশ আহলেহাদীছ মসজিদে ১২:৫০ বা ১টায় আযান দিয়ে ছালাত আদায় করা হয়। প্রশ্ন হল- এই সময়ে ছালাত আদায় করলে আওয়াল ওয়াক্ত থাকবে কি বা আওয়াল ওয়াক্তের ফযীলত পাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় দাড়ি প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্য হতে ছেঁটে নিতেন (তিরমিযী, হা/২৭৬২) মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কাফের দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : অফিসের প্রধান কর্মকর্তা হিন্দু। তাকে সম্মানার্থে সালাম না দিয়ে বরং আদাব দেয়া হয়। আবার অনেকেই নমস্কারও বলে থাকে। এভাবে সম্বোধন করলে গুনাহ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : গ্রাম বা শহরে বিবাহ অনুষ্ঠানের খাওয়া-দাওয়া শেষে বর/কনে পক্ষকে উপহার দেয়ার চিরাচরিত নিয়মটা ইসলাম কতটুকু সমর্থন করে? সমাজ রক্ষার্থে ঐখানে গিয়ে বাধ্য হয়ে কোন উপহার দিলে পাপ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : যদি কোন ব্যক্তি নতুন বাড়িতে ওঠে এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লোকজনকে দাওয়াত করে খাওয়ায়, তাহলে জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : সরকারী ভ্যাট বা কর হিসাবে যাকাতের টাকা প্রদান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : দর্শনীয় কোন স্থানের ছবি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি তোলা অথবা সেই প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাথে নিজের ছবি তোলা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : দরিদ্র মুহাজিরগণ পাঁচশ’ বছর আগে জান্নাতে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : রাজমিস্ত্রি কাজে লেবারদের কাছ থেকে হেড মিস্ত্রি যে কমিশন নেন, সেটা কি হালাল হবে? উল্লেখ্য যে, কাজের সকল যন্ত্রপাতি হেড মিস্ত্রির থাকে এবং কাজ পাওয়ার সকল ভূমিকা তারই থাকে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) শস্যের যাকাত কখন ফরয হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ