উত্তর : ছহীহ হাদীছ জানার পর তা না মানার বিষয়টি কয়েকটি অবস্থার ওপর নির্ভর করে। ঢালাওভাবে সবাইকে ‘হাদীছ অস্বীকারকারী’ বা ‘কাফির’ বলা যাবে না। বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
(১) সুন্নাহর প্রামাণ্যতা অস্বীকার করা (إنكار حجية السنة) : যদি কেউ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ বা হাদীছকে ইসলামী শরী‘আতের উৎস হিসাবে মানতে অস্বীকার করে এবং বলে যে ‘শুধু কুরআনই যথেষ্ট’, তবে সে ব্যক্তি সর্বসম্মতিক্রমে কাফির। শাইখ ইবনু বায (ﷺ) বলেন, من أنكر السنة فقد أنكر القرآن، ومن أنكر القرآن فقد كفر بالله عز وجل ‘যে ব্যক্তি সুন্নাহকে অস্বীকার করল, সে মূলত কুরআনকেই অস্বীকার করল। আর যে কুরআনকে অস্বীকার করল, সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরী করল’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া লিইবনি বায, ১/২১৬ পৃ.)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ ‘জেনে রেখো! আমাকে কিতাব (কুরআন) দেয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু (সুন্নাহ) দেয়া হয়েছে’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৪, সনদ ছহীহ)।
(২) হাদীছটি সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করা : অনেক সময় কেউ একটি হাদীছ শোনার পরও আমল করে না কারণ তার নিকট হাদীছটির বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় থাকে অথবা তার মাযহাব বা পূর্ববর্তী ইমামদের ভিন্ন কোন ব্যাখ্যা থাকে। একে হাদীছ অস্বীকার বা কুফরী বলা যাবে না, বরং এটি ভুল ইজতিহাদ বা অন্ধ তাকলীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
(৩) অবজ্ঞা বা অহংকারবশত না মানা : যদি কেউ হাদীছটি রাসূল (ﷺ)-এর কথা বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও কেবল অবজ্ঞা বা অহংকারবশত তা মানতে অস্বীকার করে, তবে সে চরম পর্যায়ের পাপাচারী এবং তার ঈমান হুমকিতে পড়বে। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে বলেন, فالذي يترك السنة رغبة عنها واستكباراً عليها، فهذا كافر ‘যে ব্যক্তি সুন্নাহর প্রতি অনীহা প্রকাশ করে এবং অহংকারবশত তা ত্যাগ করে, সে কাফির’ (শারহু রিয়াদিয ছালিহীন)। সুতরাং যারা সাধারণভাবে আমল করে না কিন্তু হাদীছকে সত্য বলে মানে, তারা পাপাচারী। আর যারা হাদীছকে শরী‘আতের দলীল হিসাবেই অস্বীকার করে, কেবল তারাই ‘মুনকারে হাদীছ’ বা কাফির। ব্যক্তিবিশেষকে কাফির বলার আগে শর্তসমূহ পূরণ হওয়া এবং প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়া আবশ্যক।
প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহেল কাফী, ময়মনসিংহ।