উত্তর : পুরুষ পশু দ্বারা প্রজনন করানোর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হারাম। এতে গর্ভধারণ শর্ত করা হোক বা না হোক- উভয় অবস্থাতেই নিষিদ্ধ। কারণ এ বিষয়ে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং উভয় ক্ষেত্রেই নিষেধের কারণ বিদ্যমান। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, বাশুত শামরান এলাকায় প্রায় দুই হাজারের বেশি গাভী আছে, কিন্তু কোনো ষাঁড় নেই। সেখানে একজন ব্যক্তির কাছে একটি ষাঁড় পাওয়া গেলে আমরা তার কাছে ষাঁড় চাইলে তিনি ভাড়া নিতেও অস্বীকার করেন এবং বলেন- এ ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক নেয়া হারাম। প্রশ্ন হল, কেউ যদি একটি ষাঁড় নিয়ে গাভীর মালিকদের কাছে ভাড়ায় দেয়, তা কি হারাম? উত্তরে তাঁরা বলেন, গাভীর প্রজননের জন্য ষাঁড় ভাড়া দিয়ে পারিশ্রমিক নেয়া বৈধ নয়, কারণ নবী (ﷺ) ষাঁড়ের ‘আসব’ বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। ‘আসব’ বলতে তার বীর্য বোঝানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গাভীর মালিকরা যৌথভাবে হলেও নিজেদের জন্য একটি ষাঁড় কিনে নিতে পারেন (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৫/৭৫ পৃ.)। আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) পশুকে পাল দেয়া বাবদ বিনিময় নিতে নিষেধ করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/২২৮৪; তিরমিযী, হা/১২৭৩)। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ﷺ) উটের প্রজনন বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৬৫; নাসাঈ, হা/৪৬৭০)।
তবে শর্তহীনভাবে সম্মানী বা হাদিয়া স্বরূপ কিছু গ্রহণ করা যেতে পারে (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৫/৭৪-৭৫ পৃ.)।
হাফিয ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) ফাৎহুল বারী-তে বলেন,
وَأَمَّا عَارِيَة ذَلِكَ فَلَا خِلَاف فِيْ جَوَازه, فَإِنْ أُهْدِيَ لِلْمُعِيرِ هَدِيَّة مِنْ الْمُسْتَعِيْر بِغَيْرِ شَرْط جَازَ
‘তবে ফাহলকে বিনামূল্যে প্রজননের জন্য দেয়া বৈধ- এতে কোন মতভেদ নেই। আর যদি ব্যবহারকারী শর্ত ছাড়া কৃতজ্ঞতাস্বরূপ কোন উপহার দেয়, তবে তা বৈধ’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৫০৩৬৭)। আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘পাল দেয়ার উদ্দেশ্যে ষাঁড় প্রদান করে মজুরী নেয়া প্রসঙ্গে নবী (ﷺ)-এর নিকট কিলাব গোত্রের এক লোক প্রশ্ন করলে, তিনি তা নিতে নিষেধ করেন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা পাল দেয়ার উদ্দেশ্যে ষাঁড় দিই এবং আমাদেরকে (দাবি ব্যতীতই) পুরস্কার স্বরূপ কিছু দেয়া হয়। তিনি তাকে এ ধরণের পুরস্কার নেয়ার অনুমতি দেন’ (তিরমিযী, হা/১২৭৪, সনদ ছহীহ)।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ সাব্বির, দিনাজপুর।