রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : বহু বিজ্ঞ আলিম পৃথিবী গোলাকার হওয়ার বিষয়ে ইজমা বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) আবুল হাসান ইবনুল মুনাদী (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে একটি বক্তব্য পেশ করেছেন। ইমাম আবুল হাসান আহমাদ ইবনু জাফর ইবনুল মুনাদী নিদর্শনসমূহের জ্ঞান ও দ্বীনি শাস্ত্রসমূহে বৃহৎ গ্রন্থ প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ আলিমদের অন্যতম এবং ইমাম আহমাদের ছাত্রদের দ্বিতীয় স্তরের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেছেন, ‘আলিমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোন মতভেদ নেই যে আসমান একটি গোলকের ন্যায়’। তিনি আরও বলেন, ‘তদ্রƒপ তারা এ বিষয়েও একমত যে পৃথিবী তার স্থলভাগ ও জলভাগসহ সকল গতিবিধিতে একটি গোলকের মত। এর প্রমাণ হল- সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্রসমূহের উদয় ও অস্ত একসাথে পৃথিবীর সব অঞ্চলের মানুষের জন্য হয় না, বরং পূর্বাঞ্চলের জন্য পশ্চিমাঞ্চলের আগেই হয়’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২৫/১৯৫ পৃ.)।

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, দু’জন ব্যক্তি ‘আসমান ও পৃথিবীর আকৃতি’ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে। এ দু’টি কি ‘গোলাকার বস্তু’? একজন বলেছে গোলাকার, অন্যজন তা অস্বীকার করে বলেছে, ‘এর কোন ভিত্তি নেই’ এবং একে প্রত্যাখ্যান করেছে। সঠিক মত কোন্টি? তিনি জবাবে বলেন, মুসলিম আলিমদের নিকট আসমানসমূহ গোলাকার। এ বিষয়ে মুসলিমদের ইজমা বহু ইমাম ও আলিম বর্ণনা করেছেন। যেমন আবুল হাসান আহমাদ ইবনু জাফর ইবনুল মুনাদী, যিনি ইমাম আহমাদের ছাত্রদের দ্বিতীয় স্তরের বড় বড় ব্যক্তিত্বদের একজন; তাঁর প্রায় চারশ’টি গ্রন্থ রয়েছে। এ ধরনের ইজমা বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু মুহাম্মাদ ইবনু হাযম ও আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী।

আলিমগণ ছাহাবী ও তাবি’ঈন থেকে সুপরিচিত সনদের মাধ্যমে এ বিষয়টি বর্ণনা করেছেন এবং কুরআন ও রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহ থেকেও তা উল্লেখ করেছেন। শ্রবণভিত্তিক (নাক্বলী) প্রমাণ দ্বারা বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও এর উপর হিসাববিদ্যাগত (গণিতভিত্তিক) প্রমাণও প্রতিষ্ঠিত। আমি মুসলিমদের প্রসিদ্ধ আলিমদের মধ্যে কাউকে এ মত অস্বীকার করতে জানি না, শুধু বিতর্কপ্রবণ একটি ক্ষুদ্র দল ব্যতীত। তারা জ্যোতিষীদের সাথে বিতর্কের সময় সম্ভাবনার কথা বলে বলেছিল, পৃথিবী চৌকো, ষড়ভুজ বা অন্য কিছুও হতে পারে। তারা গোলাকার হওয়াকে অস্বীকার করেনি; বরং এর বিপরীতের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল। আর আমি কাউকে জানি না যে নিশ্চিতভাবে বলেছে- পৃথিবী গোলাকার নয়- এমন কথা কেবল অজ্ঞদের কাছ থেকেই শোনা যায়, যাদের কথার কোন মূল্য নেই (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৬/৫৮৬ পৃ.)।

আবূ মুহাম্মাদ ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তারা বলে- প্রমাণসমূহ দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে পৃথিবী গোলাকার, অথচ সাধারণ মানুষ ভিন্ন কথা বলে। আমাদের উত্তর- আল্লাহর তাওফীক কামনা করে এই যে, জ্ঞান ও ইমামতির উপযুক্ত কোন মুসলিম ইমামই পৃথিবীর গোলাকার হওয়াকে অস্বীকার করেননি, কারো পক্ষ থেকেই এর বিরোধিতায় একটি কথাও সংরক্ষিত নেই। বরং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর প্রমাণ এসেছে’। এরপর তিনি এ বিষয়ে একাধিক দলীল উল্লেখ করেন (আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল, ২/৭৮ পৃ.)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কুরআন, বাস্তবতা ও আলিমদের বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত যে, পৃথিবী গোলাকার। কুরআনের দলীল হল- আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ۚ یُکَوِّرُ الَّیۡلَ عَلَی النَّہَارِ وَ یُکَوِّرُ النَّہَارَ عَلَی الَّیۡلِ

‘তিনি যথাযথভাবে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাতকে দিনের উপর পেঁচিয়ে দেন এবং দিনকে রাতের উপর পেঁচিয়ে দেন’ (সূরা আয-যুমার : ৫)। (التكوير) এর অর্থ কোন কিছুকে গোলকের মত করে পেঁচানো- যেমন পাগড়ি পেঁচানো হয়। জানা বিষয় যে, রাত ও দিন পৃথিবীতে পর্যায়ক্রমে আসে। এটি প্রমাণ করে যে, পৃথিবী গোলাকার; কারণ যদি কোন কিছুকে অন্য কিছুর উপর পেঁচানো হয় এবং পৃথিবীর উপরই যদি এ পেঁচানো ঘটে, তবে যে বস্তুর উপর পেঁচানো হচ্ছে সেটি গোলাকার হওয়াই আবশ্যক। বাস্তবতার দিক থেকেও এটি প্রমাণিত। যেমন, কেউ যদি জেদ্দা থেকে পশ্চিম দিকে সরল পথে উড়ে যায়, তবে সে পূর্ব দিক দিয়ে আবার জেদ্দাতেই ফিরে আসে। এ বিষয়ে দুইজনের মধ্যে মতভেদ নেই।

আর আলিমরা বলেন, যদি সূর্যাস্তের সময় পূর্বাঞ্চলে একজন ব্যক্তি মারা যায় এবং সূর্যাস্তের সময়ই পশ্চিমাঞ্চলে আরেকজন মারা যায়, অথচ তাদের মাঝে দূরত্ব থাকে- তবে পশ্চিমে সূর্যাস্তের সময় যে ব্যক্তি মারা গেল, সে পূর্বে সূর্যাস্তের সময় মারা যাওয়া ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হবে (যদি সে তার ওয়ারিস হয়)। এটি প্রমাণ করে যে, পৃথিবী গোলাকার, কারণ যদি পৃথিবী সমতল হত, তবে সব দিক থেকে একই সময়ে সূর্যাস্ত হওয়া আবশ্যক হত। এটি স্পষ্ট হওয়ার পর কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না (ফাতাওয়া নূর ‘আলাদ্ দারব, আল-ইলমানিয়্যা: নাশআতুহা ওয়া তাতাওউরুহা, ১/১৩০ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১১৮৬৯৮)।
শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইসলামী বিদ্বানগণ সর্বসম্মতভাবে একমত যে, পৃথিবী গোলাকার, কিন্তু মানুষের চোখে এটি সমতল বলে মনে হয়, কারণ এটি অনেক বড় এবং এর গোলাকারতা বা বক্রতা খুব কাছ থেকে দেখা যায় না। তাই যে দাঁড়িয়ে তাকায় সে এটিকে সমতল বলে মনে করে, কিন্তু যখন সম্পূর্ণরূপে দেখা হয়, তখন বাস্তবে এটি গোলাকার। ইমাম ইবনে হাজম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কুরআন ও সুন্নাহর প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবী গোলাকার’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২১১৬৫৫)।


প্রশ্নকারী : সাব্বির আহমাদ ওসমানী, মুগদা, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৩) : ইসলামে বান্দার হক্ব তথা হাক্বুল ইবাদের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এখন কেউ যদি ঘুষ খায়, তাহলে তো বান্দার হক্ব সরাসরি বিনষ্ট হল। আর বান্দার হক্ব নষ্ট করলে, তা সেই বান্দার নিকট গিয়ে ক্ষমা চাইতে হয়। এখন ঘুষ খেলে তো পুরো দেশবাসীর নিকটই ক্ষমা চাইতে হবে! এমতাবস্থায় সে ব্যক্তির ব্যাপারে ক্বুরআন ও হাদীছের ফায়সালা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : কুরআনুল কারীমের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠাগুলোতে নারীদের কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। উক্ত নারীকণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত শুনা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : রাসূল (ﷺ)-এর কবরে যাওয়া ও যিয়ারত করা হজ্জের অংশ মনে করলে কি বিদ‘আত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : কোন দলকে সাপোর্ট না করে শুধু বিনোদনের জন্য ফুটবল, ক্রিকেট বা অন্যান্য খেলা দেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক ইমাম সাহেব, মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে জুমু‘আর বয়ানে বলেছিলেন যে, আপনারা হজ্জের জন্য আল্লাহর কাছে খাছ দিলে দু‘আ করুন, আল্লাহ অবশ্যই দু‘আ কবুল করবেন। কেননা পিপিলিকা এবং কবুতর আল্লাহর কাছে কা‘বা ঘর ত্বাওয়াফ করতে চেয়েছিল, আল্লাহ তাদের দু‘আ কবুল করে জিবরীলকে আদেশ দিলেন তাদেরকে কা‘বা ঘরে পৌঁছে দিতে। এ ঘটনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : খাৎনা করার সময় মুখে মিষ্টি দেয়া হয়, অনুষ্ঠান করা, গানবাজনা করা এবং গোসল দেয়ার সময় বিভিন্ন নিয়ম পালন করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : প্রতি বছর ‘আরাফার দিন (৯ যিলহজ্জ) ছিয়াম রাখা সুন্নাত। কিন্তু বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী সাধারণত ৮ কিংবা ৭ যিলহজ্জ তারিখে ‘আরাফা হয়। এক্ষণে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : বিদ‘আত মিশ্রিত আমল যদি বাতিল হয় তাহলে যারা ঘাড় মাসাহ করে তাদের নিশ্চয় ওযূ বাতিল হয়ে যায় আর ওযূ বাতিল মানে ছালাতও বাতিল হয়ে যায়। বক্তব্যটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা অধিক ধারণা হতে বিরত থাকো’ (সূরা আল-হুজুরাত: ১২)। এ আয়াতটির ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : এশার ছালাতের জামা‘আত চলাকালীন শেষের দুই রাক‘আতে জামা‘আতে শামিল হলে ইমামের সালাম ফিরানোর পর মাসবূক ব্যক্তি কি পরের বাকি দুই রাক‘আত ছালাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য কোন সূরা যোগ করবে, না-কি শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : তিলাওয়াতে সিজদাহর নিয়ম কী এবং এ জন্য কোন নির্দিষ্ট কোন দু‘আ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : যে ব্যক্তি কুরআন পড়েছে এবং সেটাকে মুখস্থ রেখেছে অতঃপর তার হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম জেনেছে, তাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের এমন দশ ব্যক্তির ব্যাপারে সুপারিশ কবুল করবেন, যাদের প্রত্যেকের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছিল। এর সনদ ঠিক আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ