শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন

মু‘তাযিলা মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ 

-আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম* 


 (৪র্থ কিস্তি) 

১০. আল-হিশামিয়্যাহ (اَلْهِشَامِيَّةُ) : আল-হিশামিয়্যাহ হলো মু‘তাযিলা ফের্ক্বার একটি উপশাখা, যার নামকরণ হয়েছে এর প্রতিষ্ঠাতা ‘হিশাম ইবনু ‘আমর আল-ফূতী’-এর নাম অনুসারে। তিনি ছিলেন ক্বাদারিয়া ফের্ক্বার অনুসারী। তার নিকট থেকে অনেক বিদ‘আতের সূচনা হয়। যেমন তিনি বলেছেন,إِنَّه لَا يجوز لوَاحِد من الْمُسلمين أَن يَقُول {حَسبنَا الله وَنعم الْوَكِيل} ‘কোন মুসলমানের জন্য (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট তিনি কত উত্তম রক্ষাকর্তা) বলা বৈধ নয়’। তিনি আরও বলেছেন,إِن الله تَعَالَى لم يؤلف بَين قُلُوب الْمُؤمنِينَ وَلم يضل الْكَافرين ‘আল্লাহ মুমিনদের হৃদয় একত্র করেননি এবং কাফিরদের পথভ্রষ্ট করেননি’। তিনি আরও বলেছেন, إِن الْجنَّة وَالنَّار ليستا بمخلوقتين الْآن وَإِن كل من قَالَ أَنَّهُمَا مخلوقتان الْآن فَهُوَ كَافِر ‘নিশ্চয় জান্নাত ও জাহান্নাম বর্তমানে সৃষ্ট না। আর কেউ যদি বলে যে, এ দু’টি সৃষ্ট আছে, তবে সে কাফির’। এছাড়াও জান্নাতি হুর নিয়েও সে ভ্রান্ত আক্বীদা লালন করত। তাছাড়া তার অন্যতম জাহিলী আক্বীদা ছিল এই যে, সে প্রতিপক্ষ মুসলমানদেরকে প্রতারণার মাধ্যমে হত্যা করাকে বৈধ মনে করত।[১]

তিনি আল্লাহর অস্তিত্ব ও সৃষ্টিকর্তা হওয়ার প্রমাণ নিয়ে বলেছেন, ‘আলাদা আলাদা গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্য এসবের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টিকর্তা হওয়া প্রমাণ হয় না, এগুলো প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং দেহ বা বস্তু (অর্থাৎ আজসাম)-ই আল্লাহর সৃষ্টিকর্তা হওয়ার প্রমাণ।[২]

আল-হিশামিয়্যাহ ফের্ক্বার দু’টি শাখা। ১. ইবনুল হাকাম রাফেযীর অনুসারীরা ২. হিশাম ইবনু সালাম আল-জাওয়ালীকির অনুসারীরা। উভয় দলই আল্লাহকে সাদৃশ্য দান ও দেহযুক্ত করার ব্যাপারে বিশ্বাস করে।[৩] আল-হিশামিয়্যাহ ফের্ক্বার লোকেরা আল্লাহকে সাদৃশ্য দেয়ার বিষয়ে এমন স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছে, যা সমস্ত মুসলিমের ঐকমত্য অনুযায়ী খাঁটি কুফরী। তারা আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেয়। যা তারা ইয়াহুদীদের থেকে গ্রহণ করেছে। কারণ ইয়াহুদীরা আল্লাহর প্রতি সন্তান আরোপ করেছিল এবং বলেছিল, ‘উযাইর আল্লাহর পুত্র’। তারা আল্লাহর জন্য স্থান, সীমা, শেষ সীমা, আগমন ও গমন প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে, যা থেকে মহান আল্লাহ অতিশয় পবিত্র ও মহান। এই কারণেই রাফেযীদের সম্পর্কে বলা হয়,  الروافض يهود هَذِه الْأمة ‘রাফেযীরা এই উম্মতের ইয়াহুদী’। সা‘বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, إِن الروافض شَرّ من الْيَهُود وَالنَّصَارَى ‘রাফেযীরা ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের চেয়েও নিকৃষ্ট’। কারণ ইয়াহুদীদের নিজেদের ধর্মের উত্তম লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেছিল, মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসারীরা। খ্রিস্টানদের তাদের ধর্মের উত্তম লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেছিল, হাওয়ারিরা; যারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথী ছিলেন। আর রাফেযীদের এ উম্মাদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলে, মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর অনুসারীরা’।[৪]

১১. আছ-ছালিহিয়্যাহ (اَلصَّالِحِيَّةُ) : আছ-ছালিহিয়্যাহ হলো মু‘তাযিলা ফের্ক্বার একটি উপশাখা, যা ছালিহ ইবনু ‘উমর আছ-ছলিহী, আছ-ছলিহী, মুহাম্মাদ ইবনু শুবাইব, আবূ শামির এবং গীলান-এর ফের্ক্বা হিসেবে পরিচিত। যারা সবাই (القدر) ‘ভাগ্য অস্বীকার’ ও (الإرجاء) ‘পাপ করলেও ঈমান থাকে’ এই দুই মত একত্র করেছেন। তারা আমলগত এবং বিশ্বাসগত বহু বিদ‘আতের প্রচলন করেছে। যেমন,

ছালিহী বলেছে, ঈমান হলো শুধু আল্লাহকে চেনা। আর তা এটুকুই যে, জগতের একজন স্রষ্টা আছেন। আর কুফর হলো আল্লাহ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, আল্লাহকে চেনা মানেই হলো তাঁকে ভালোবাসা ও তাঁর কাছে বিনম্র হওয়া। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, মানুষের পক্ষে বুদ্ধি দিয়ে আল্লাহর ওপর ঈমান আনা সম্ভব, এমনকি রাসূলের ওপর বিশ্বাস না রেখেও। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ছালাত আল্লাহর ইবাদত নয়। আল্লাহর একমাত্র ইবাদত হচ্ছে ঈমান অর্থাৎ তাঁকে চেনা। ঈমান একটি একক বৈশিষ্ট্য, যা হ্রাস-বৃদ্ধি হয় না। অনুরূপভাবে কুফরও একটি একক বৈশিষ্ট্য; যা হ্রাস-বৃদ্ধি হয় না।[৫]

আবূ শামির আল-মুরজী আল-ক্বাদারী বলেছে যে, ‘ঈমান হচ্ছে আল্লাহর প্রতি অন্তরের দ্বারা জ্ঞান, ভালোবাসা ও বিনয় এবং তাঁর প্রতি এই বিশ্বাস যে, তিনি একক, তাঁর মতো কেউ নেই, যতক্ষণ না নবীদের মাধ্যমে তাঁর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু যখন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন নবীদের প্রতি বিশ্বাস ও তাঁদের সত্যতা স্বীকার করাও ঈমান ও জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে তারা যেসব বাণী আল্লাহর পক্ষ থেকে এনেছেন, সেগুলোতে বিশ্বাস রাখা মূল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাছাড়া তিনি আরও বলেছেন,  ‘তাক্বদীরের ভালো হোক মন্দ হোক, তা বান্দার পক্ষ থেকেই; আল্লাহর দিকে তা কিছুই আরোপ করা যাবে না’।[৬]

গীলান বলেছে, ঈমান হচ্ছে আল্লাহর প্রতি দ্বিতীয় পর্যায়ের জ্ঞান, ভালোবাসা, বিনয়, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা নিয়ে এসেছেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার প্রতি স্বীকারোক্তি। আর প্রথম পর্যায়ের জ্ঞানটি প্রকৃতিগত (ফিতরাত) ও আবশ্যকীয়। অর্থাৎ তার জানা থাকে যে, এই জগতের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন এবং তার নিজের একজন স্রষ্টা আছেন। কিন্তু এই প্রথম পর্যায়ের জ্ঞানকে ঈমান বলা যায় না। বরং ঈমান হচ্ছে দ্বিতীয় ধাপের অর্জিত জ্ঞান।[৭]

১২. আল-খত্বাবিয়্যাহ (اَلْخَطَّابِيَّةُ) : আল-খত্বাবিয়্যাহ হলো মু‘তাযিলা ফের্ক্বার একটি উপশাখা, যারা আবুল খাত্ত্বাব মুহাম্মাদ ইবনু আবী যায়নাব আল-আসাদি আল-কূফীর অনুসারী। তার অনুসারীরা ছিল চরমপন্থী শী‘আ, যারা হুলূল (আল্লাহর সত্তা মানুষের মধ্যে অবস্থান বা অবতরণ) বিশ্বাস করত। তিনি প্রথমে নবুওতের দাবি করেন, এরপর রাসূল হওয়ার দাবি করেন, তারপর বলেন যে, তিনি ফেরেশতা এবং সমগ্র পৃথিবীর মানুষের প্রতি প্রেরিত একজন রাসূল।[৮]

এরা পাঁচটি উপদলে বিভক্ত। তারা বলে যে, ইমামত বা ধর্মীয় নেতৃত্ব আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সন্তানদের মাঝে ছিল এবং তা মুহাম্মাদ ইবনু জাফর আস-সাদিক পর্যন্ত গিয়েছিল। তারা বিশ্বাস করত যে, إِن الْأَئِمَّة كَانُوا آلِهَة ‘ইমামরা হলেন দেবতা (আল্লাহ)’। আবু আল-খাত্তাব নিজে তার সময়ে বলত,أَن أَوْلَاد الْحسن وَالْحُسَيْن كَانُوا أَبنَاء الله واحباؤه ‘হাসান ও হুসাইনের সন্তানরা আল্লাহর পুত্র এবং তাঁর প্রিয় বান্দা’। সে এমনকি জাফর আস-সাদিককে আল্লাহ বলে দাবী করেছিল। যখন জাফর আস-সাদিক এই কথা শুনলেন, তখন তিনি আবু আল-খাত্তাবকে লানত দিলেন ও তাকে তাড়িয়ে দিলেন। এরপর আবু আল-খাত্তাব নিজেই আল্লাহ হওয়ার দাবী করতে শুরু করল। তার অনুসারীরা বলত, إِن جعفرا كَانَ إِلَهًا إِلَّا أَن أَبَا الْخطاب كَانَ أفضل مِنْهُ ‘জাফর অবশ্যই এক ঈশ্বর, তবে আবুল খাত্ত্বাব তার চেয়েও উত্তম’।[৯]

এই ফের্ক্বার অনুসারীরা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া বৈধ মনে করত, যদি তা তাদের দলীয় ব্যক্তিদের পক্ষে এবং বিরুদ্ধবাদীদের বিরুদ্ধে হয়। তারা বলত, وَالْجَنَّةُ نَعِيمُ الدُّنْيَا وَالنَّارُ آلَامُهَا ‘জান্নাত হলো দুনিয়ার সুখভোগ এবং জাহান্নাম হলো দুনিয়ার কষ্ট’। তারা হারাম জিনিসগুলোকে হালাল করে নিয়েছিল এবং ফরজ ইবাদত ত্যাগ করেছিল। তারা বিশ্বাস করত, তারা মারা যায় না, বরং তাদেরকে আধ্যাত্মিক জগতে তুলে নেওয়া হয়।[১০] তারা বিশ্বাস করত, প্রতি যুগে একটি ‘বক্তা ইমাম’ (নাতিক) এবং একটি ‘নীরব ইমাম’ (সামিত) থাকা উচিত। তারা মনে করত ইমামরা দেবতা এবং তারা অদৃশ্য জ্ঞান (গায়েব) জানে। তারা বলত, নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সময়ে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন ‘নীরব ইমাম’, আর নবী ছিলেন ‘বক্তা ইমাম’। পরে যখন নবী (ﷺ) ইন্তেকাল করেন, তখন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ‘বক্তা ইমাম’ হন। এভাবে তারা ইমামদের ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে একই দাবি করে আসতে থাকল, যতক্ষণ না বিষয়টি জাফর আস-সাদিক পর্যন্ত পৌঁছে।[১১]  

তাদের ইমাম আবুল খাত্ত্বাব বলেন, الْأَئِمَّةُ أَنْبِيَاءُ ‘ইমামগণ নবী’। তিনি এটাও বলতেন যে, الْحَسَنَانِ  رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ابْنَانِ لِلّهِ، وَجَعْفَرٌ إِلَهٌ ‘হাসান ও হুসাইন আল্লাহর পুত্র। আর জা‘ফর (জা‘ফর আল-সাদিক) হলেন ইলাহ’।[১২] আবুল খাত্ত্বাব-এর অনুসারীরা পাঁচটি উপদলে বিভক্ত।[১৩]

১. আল-মু‘আম্মারিয়্যা (المُعَمّرِيَّة) : এরা বলত, আবুল খাত্ত্বাবের পরে ইমাম হলেন একজন ব্যক্তি, যার নাম ছিল মু‘আম্মার। তারা মু‘আম্মারকে আবুল খাত্ত্বাবের মতোই উপাসনা করত। তারা বিশ্বাস করত, দুনিয়া কখনো ফুরাবে না (চিরস্থায়ী)। তারা ক্বিয়ামত-এর কথা অস্বীকার করত। তারা বিশ্বাস করত আত্মার পুনর্জন্ম (তানাসুখ আল-আরওয়াহ)।[১৪]

২. আল-রবী‘ইয়্যাহ (الرَّبِيعِيَّة) : তারা ছিল আবু রাবি‘-এর অনুসারী। তারা বিশ্বাস করত, إِن جعفرا كَانَ إِلَهًا وَلم يكن جَعْفَر ذَلِك الَّذِي يرَاهُ النَّاس بل كَانَ مَا يرَاهُ النَّاس فِي صُورَة مِثَاله ‘জাফর আস-সাদিক ছিলেন আল্লাহ। তারা বলত, মানুষ যাকে জাফর মনে করে, আসলে তিনি জাফর নন; বরং তারা শুধু জাফরের রূপে এক অবয়ব দেখেছে’। তারা বলত, প্রত্যেক মুমিনের উপর আল্লাহর অহি (প্রকাশ) হয়। তারা এমনও বলত,قد يكون فِيمَا بَينهم من هُوَ أفضل من جِبْرِيل ومكائيل وَمُحَمّد عَلَيْهِم السَّلَام ‘তাদের মধ্যে এমন লোক থাকতে পারে, যারা জিবরীল, মীকাঈল, এমনকি নবী মুহাম্মদ থেকেও উত্তম’।[১৫]

৩. আল-‘আমরাবিয়্যাহ (العَمْرَوِيَّة) : তারা ছিল ‘আমর ইবনে বাইয়ান আল-উজলি-এর অনুসারী। এরা জাফর আস-সাদিককে উপাস্য মনে করত এবং তাঁর উপাসনা করত।

৪. আল-মুফায্জালিয়্যাহ (المُفَضَّلِيَّة) : তারা ছিল মুফায্জাল আস-সাইরাফি-এর অনুসারী। এরা বিশ্বাস করত জাফর আস-সাদিক ছিলেন আল্লাহ। তবে তারা আবুল খাত্ত্বাব থেকে বিরত (বিচ্ছিন্ন) ছিল অর্থাৎ তাকে তারা মানত না।

৫. আল-খাত্তাবিয়্যাহ আল-মুতলাকা (الخَطَّابِيَّة المُطْلَقَة) : এরা বলত, আবুল খাত্ত্বাবের পরে আর কোনো ইমাম আসেনি। মানে, আবুল খাত্ত্বাবই তাদের দৃষ্টিতে চূড়ান্ত ও শেষ ইমাম ছিলেন।[১৬]

১৩. আল-হাদাবিয়্যাহ (اَلْحَدَبِيَّةُ) : আল-হাদাবিয়্যাহ হলো মু‘তাযিলা ফের্ক্বার একটি উপশাখা, যারা ফাযল আল-হাদাবীর অনুসারী। এ ফের্ক্বার লোকেরা পুনর্জন্মে বিশ্বাসী। তারা এটাও বিশ্বাস করে যে, প্রত্যেকটি প্রাণীই দায়বদ্ধ বা মুকাল্লাফ (যার ওপর শরী‘আতের বিধান প্রযোজ্য)। তাদের অন্যতম বিশ্বাস হলো, প্রত্যেক প্রাণীর শ্রেণীতেই তাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজন নবী রয়েছে।[১৭]

১৪. আল-মা‘মারিয়্যাহ (اَلْمَعْمَرِيَّةُ) : আল-মা‘মারিয়্যাহ হলো মু‘তাযিলা ফের্ক্বার একটি উপশাখা, যারা মু‘আম্মার ইবনু  ‘ইবাদ আস-সুলামীর অনুসারী। তিনি ক্বাদারিয়াদের মধ্যে অন্যতম বড় ব্যক্তি ছিলেন, যিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে আল্লাহর গুনাবলির অস্বীকৃতি ও ভাগ্যের (তাক্বদীর) ভালো এবং মন্দ উভয়কেই আল্লাহর পক্ষ থেকে অস্বীকার করতেন এবং এ বিষয়ে কুফরী ও ভ্রষ্টতা ঘোষণা করতেন।[১৮]

তিনি ছিলেন গোমরাহ ও নাস্তিকতার বড় এক নেতা। তিনি বলতেন, আল্লাহ তা‘আলা রঙ, অবস্থা (অবস্থান বা পরিবর্তন), স্বাদ, গন্ধ, জীবন, মৃত্যু, শ্রবণ, দৃষ্টিসহ কোনো প্রকার বৈশিষ্ট্য (আ‘রায) সৃষ্টি করেননি। এবং আরও বলতেন, আল্লাহ দেহ বা বস্তুর কোনো গুণাবলিই সৃষ্টি করেননি।  তিনি বলতেন, আল্লাহ তা‘আলা বস্তু বা শরীর সৃষ্টি করেছেন গুণাবলির (আ‘রায) স্বাভাবিক ক্রিয়ার মাধ্যমে।[১৯]

তার বিদ‘আতের মধ্যে রয়েছে, সে বলতেন, আমরা মানুষকে যে দৃশ্যমান অবয়ব বা আকৃতিতে দেখি, মূলত সে মানুষ না; বরং মানুষ হচ্ছে এমন এক সত্তা, যা এই আকৃতির ভিতরে অবস্থিত জ্ঞানী, সক্ষম, স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী, ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত। তিনি আরও বলতেন, মানুষ চলমান নয়, স্থির নয়, রঙিন নয়, চোখে দেখা যায় না, স্বাদ বা গন্ধ দ্বারা অনুভব করা যায় না এবং কোনো ইন্দ্রিয় দ্বারা ধরা যায় না। সে এক স্থানে নয়, আবার অন্য স্থানে নয়।[২০]

এই মতবাদ কেবল তারাই বলে, যারা মানুষকে আল্লাহর গুণাবলিতে গুণান্বিত করে এবং যারা এমন গুণাবলি মানুষকে দেয় না, যা তারা আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য মনে করে না।

এই বিশ্বাসের পরিণতি হলো, এই পৃথিবীতে কেউ কোনোদিন মানুষ দেখেইনি। ছাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কখনো দেখেননি। কেউ নিজেকে, নিজের বাবা-মাকে বা অন্য কাউকেই কখনো দেখেনি। কত জঘন্য আক্বীদা। মু‘আম্মার এমন একটি দার্শনিক মতবাদ প্রবর্তন করেছে, যাতে মানুষের অস্তিত্বকে শুধুমাত্র অদৃশ বা অইন্দ্রিয়গত কোনো সত্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করে, যা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসে বিরোধী। এই দর্শন মূলত গ্রিক দর্শনের প্রভাব এবং অতিরিক্ত যুক্তিবাদের ফল। ইসলামে মানুষ একটি দেহ এবং আত্মার সমন্বয়ে গঠিত। মানুষ দৃশ্যমান, সংবেদনশীল ও কার্যক্ষম, এটা সুস্পষ্ট কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।

১৫. আছ-ছুমামিয়্যাহ (اَلثُّمَامِيَّةُ) : আছ-ছুমামিয়্যাহ হলো মু‘তাযিলা ফের্ক্বার একটি উপশাখা, যারা আবূ মা‘আন থুমামা ইবনু আশরস আন-নুমাইরীর অনুসারী। তিনি বংশগতভাবে আরবদের মধ্যে ছিলেন না, বরং ছিলেন তাঁদের দাসমূক্ত প্রজন্মের একজন। তিনি খলীফা মামুন, মু‘তাসিম ও ওয়াসিক্বের সময়ের ক্বাদারিয়া ফের্ক্বার নেতা। তার নিকট থেকে প্রকাশিত বিদ‘আতের মধ্য থেকে অন্যতম হলো,

১. তিনি বলতেন, আল্লাহর পরিচিতি একটি যরূরী জ্ঞান। যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্বভাবগতভাবে চিনে না, তার ওপর কোনো আদেশ-নিষেধ বর্তায় না। আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন শুধুই দাসত্ব ও দৃষ্টান্তের জন্য, না জান্নাতের জন্য, না জাহান্নামের জন্য। তিনি আরও বলতেন, যারা আল্লাহকে স্বভাবগতভাবে চিনে না, তারা ক্বিয়ামতের দিনে ধূলিতে পরিণত হবে। এ মতবাদ তিনি শিশুদের ব্যাপারেও প্রয়োগ করতেন, অর্থাৎ, যারা ছোটবেলায় মারা গেছে তাদের ব্যাপারেও বলতেন, তাদের জন্য জান্নাত-জাহান্নামের প্রশ্নই আসে না; তারা ধূলি হয়ে যাবে।

২. তিনি বলতেন, যেসব কাজ ‘পরিণামমূলকভাবে’ ঘটে, সেগুলোর আসলে কোনো কর্তা নেই। এই কথাটি বললে তার পরিণতি হয়, সৃষ্টিকর্তাকেই অস্বীকার করা। কারণ যদি কোনো কাজ নিজে নিজে হতে পারে, তাহলে সব কাজই নিজে নিজে হতে পারে। যেমন যদি লেখা হয় লেখক ছাড়াই, তাহলে সব লেখাই হতে পারে লেখক ছাড়াই। ফলে স্রষ্টার (আল্লাহর) দরকার পড়ে না।

৩. তিনি আরও বলতেন, ‘ইসলামি ভূখণ্ড’ শিরকের ভূখণ্ড, যদি সেখানে এমন কেউ প্রভাবশালী থাকে, যে তাঁর এই মতবাদ মানে না। তিনি আরও বলতেন, ‘কাফির ভূখণ্ড’ থেকে যেসব নারী বন্দি করা হয়, তাদের দাসী বানানো বা তাদের সাথে সহবাস করা জায়েয নয়। আর যদি কেউ কোনো বন্দিনী নারীর সঙ্গে সহবাস করে, তবে সে ব্যভিচার করে এবং তার সন্তানও ব্যভিচারের সন্তান। তাঁর এই কথা নিজেই তাঁর প্রতি প্রয়োগ হয়, কারণ তিনি নিজেই বন্দিনী নারীদের সন্তান ছিলেন, ফলে নিজেই স্বীকার করলেন যে, তিনি যিনা থেকে জন্ম নেওয়া সন্তান।[২১]

৪. তিনি আরও বলতেন, কাফির, মুশরিক, অগ্নিপূজক, ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান, নাস্তিক এবং দাহরিয়াগণ (যারা কেবল সময় বা প্রকৃতিকে চিরন্তন মনে করে) ক্বিয়ামতের দিনে সবাই ধূলি হয়ে যাবে।[২২]  

মূলত আবূ মা‘আন থুমামা বাস্তবে একজন নাস্তিক ছিলেন। তিনি তার কুফরী ও নাস্তিকতাকে গোপন রাখতেন এবং বিভিন্ন বিদ‘আতিদের সাথে মিলে-মিশে থাকার ভান করতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে, সময়ের সাথে সাথে তিনি তার আসল কুফরী ও নাস্তিকতা প্রকাশ করতে থাকেন। ইবনু কুতাইবাহ তার (مُخْتَلف الحَدِيث) মুখতালিফুল হাদীছ গ্রন্থে লিখেছেন, একবার থুমামা দেখল, কিছু লোক দ্রুত জুমু‘আর ছালাতের জন্য দৌড়াচ্ছে, যেন ছালাত মিস না হয়ে যায়। তখন সে তার সাথীর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এই গাধাগুলোকে তো দেখো! এক আরবীয় লোক কী অবস্থা করে দিয়েছে এদের’। এখানে সে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে আরবীয় লোক বলে কটূক্তি করে।

থুমামা আহলুস সুন্নাহ ওয়ালা জামা‘আতের প্রতি তীব্র শত্রুতা পোষণ করত। তার সময়ে যারাই ক্বাদারিয়া মতবাদের বিরোধিতা করত, তাদেরকে হত্যার ব্যাপারেই খলীফা আল-ওয়াসিক-কে উস্কে দিত।[২৩]

১৬. আল-খয়্যাত্বিয়্যাতু (اَلْخَيَّاطِيَّةُ) : আল-খয়্যাত্বিয়্যাতু হলো মু‘তাযিলা ফের্ক্বার একটি উপশাখা, যারা আবুল হুসাইন আল-খাইয়াতের অনুসারী। তিনি ছিলেন ক্বাদারিয়া দলের লোক। তিনি বহু বিদ‘আতের সূচনাকারী এবং চরমপন্থী আক্বীদার ধারক ছিলেন। তিনি খবরে ওয়াহেদ অস্বীকারী ছিলেন। তিনি বলতেন, খবরে ওয়াহেদ হাদীছ দ্বারা শরী‘আতের কোনো বিধান প্রমাণ করা যায় না।[২৪] তিনি আল্লাহর গুণাবিল অস্বীকার করতেন।[২৫]

১৭. আল-জাহিযিয়্যাতু (اَلْجَاحِظِيَّةُ) : আল-জাহিযিয়্যাতু হলো মু‘তাযিলা ফের্ক্বার একটি উপশাখা, যারা ‘আমর ইবনু বাহর আল-জাহিয-এর অনুসারী। তিনি ছিলেন বক্তা, লেখক এবং মু‘তাযিলা চিন্তাবিদ। তিনি আকর্ষণীয় ভাষায় লেখার কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। তাঁর বিভ্রান্তিমূলক বিশ্বাসগুলো হলো,

১. তিনি বলতেন, সব ধরনের জ্ঞান মানুষ জন্মগতভাবে পায়। মানুষ কোনো কিছু শেখে না, আর আল্লাহও কাউকে জ্ঞান দেন না। তিনি আরও বলতেন, বান্দা শুধুমাত্র ইচ্ছা (ইরাদা) করতে পারে, কিন্তু কাজ করতে পারে না। তিনি আরও বলতেন, আল্লাহ কাউকে জাহান্নামে দেন না। বরং আগুন নিজে থেকেই কুফরীদের টেনে নেয় এবং জাহান্নামে আটকে রাখে। অনুরূপভাবে জান্নাতও নিজের স্বভাবেই ভালো লোকদের টেনে নেয়। আল্লাহর তরফ থেকে কোনো প্রতিদান নেই, না শাস্তি, না পুরস্কার![২৬]

১৮. আল-কা‘বিয়্যাতু (اَلْكَعْبِيَّةُ) : আল-কা‘বিয়্যাতু হলো মু‘তাযিলা ফের্ক্বার একটি উপশাখা, যারা আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনু মাহমূদ আল-বালখীর অনুসারী। তিনি আল্লাহর গুণাবলি যেমন দৃষ্টি, জ্ঞান ইত্যাদি অস্বীকার করতেন। তিনি বলতেন, আল্লাহর কোনো ইচ্ছা নেই এবং তাঁর জ্ঞানই তাঁর ইচ্ছাকে প্রতিস্থাপন করে। মূলত তিনি আল্লাহর গুণাবলির অস্বীকারকারী এবং অপব্যাখ্যাকারী ছিলেন।[২৭]

১৯. আল-জুবাইয়্যাতু (اَلْجُبَّائِيَّةُ) : আল-জুবাইয়্যাতু হলো মু‘তাযিলা ফের্ক্বার একটি উপশাখা, যারা আবূ আলী আল-জাবীর অনুসারী। তিনি বহু বিদ‘আতের সূচনা করেছিলেন এবং বহু ভ্রান্ত বিশ্বাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মৃত্যুর পর দেহের পুনরুত্থান (পুনরুজ্জীবন) অস্বীকার করতেন। তিনি এই বিশ্বাস লালন করতেন যে, আল্লাহ তা‘আলা মৃতদের দেহ নয়, বরং শুধুমাত্র তাদের আত্মাকে জীবিত করবেন এবং কবরবাসীদের আত্মাগুলো পুনরুত্থিত করবেন।[২৮]

২০. আল-বাহশামিয়্যাতু (اَلْبَهْشَمِيَّةُ) : আল-বাহশামিয়্যাতু হলো মু‘তাযিলা ফের্ক্বার একটি উপশাখা, যারা আবূ হাশিম ইবনুল জুব্বাই-এর অনুসারী। বর্তমানে বেশিরভাগ মু‘তাযিলা তাঁর মতবাদেই চলে। তার বিদ‘আতী বিশ্বাসের অন্যতম ছিল, একজন দাস (মানুষ) কোনো কাজ না করেও শাস্তির উপযুক্ত হতে পারে। কেউ একটি গুনাহ থেকে তাওবা করলেও, যদি সে আরেকটি গুনাহে অবিচল থাকে, তাহলে তার সেই তাওবাও গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি আরও বলতেন,  কোনো পাপ করার ক্ষমতা হারানোর পর যদি কেউ তাওবা করে, তাহলে সেই তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না।

তার ভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে, তিনি বলতেন, পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব নয়। আরাফায় অবস্থান করা, সাঈ (সাফা ও মারওয়া) করা এবং তাওয়াফ করা ওয়াজিব নয়। যাকাত ও কাফফারাসমূহ আদায় করাও ওয়াজিব নয়। তিনি মূলত তাফকীরকারী হিসেবে পরিচিত। কেননা তিনি নিজেই তার পিতাকে কাফির সম্মোধন করতেন।[২৯]

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


* পি-এইচ. ডি গবেষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

[১]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৭৫-৭৭।
[২]. إن الأعراض لا تدل على كونه خالقا، ولا تصلح الأعراض دلالات؛ بل الأجسام تدل على كونه خالقا -দ্র. আল-মিলাল ওয়ান নাহাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ৭২।
[৩].الهشامية مِنْهُم وهم فريقان أَصْحَاب ابْن الحكم الرافضي وَأَصْحَاب هِشَام بن سَالم الجواليقي وَالْفَرِيقَانِ جَمِيعًا يدينون بالتشبيه والتجسيم  -দ্র. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৩৮।
[৪]. فَإِن الْيَهُود سئلوا عَن أَخْبَار ملتهم فَقَالُوا أَصْحَاب مُوسَى وَالنَّصَارَى سئلوا عَن أَخْبَار ملتهم فَقَالُوا الحواريون الَّذين كَانُوا مَعَ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَام وسئلت الرافضة عَن شَرّ هَذِه الْأمة فَقَالُوا أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم -দ্র. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৪১।
[৫]. فأما الصالحي فقال: الإيمان هو المعرفة بالله تعالى على الإطلاق، وهو أن للعالم صانعا فقط. والكفر هو لجهل به على الإطلاق. قال: وقول القائل: ثالث ثلاثة، ليس بكفر لكنه لا يظهر إلا من كافر. وزعم أن معرفة الله تعالى هي المحبة والخضوع له. ويصح ذلك مع حجة الرسول. ويصح في العقل أن يؤمن بالله، ولا يؤمن برسوله. غير أن الرسول عليه السلام قد قال: "من لا يؤمن بي فليس بمؤمن بالله تعالى" وزعم أن الصلاة ليست بعبادة لله تعالى، وأنه لا عبادة له إلا الإيمان به؛ وهو معرفته. وهو خصلة واحدة لا يزيد، ولا ينقص. وكذلك الكفر خصلة واحدة لا يزيد ولا ينقص. -দ্র. আল-মিলাল ওয়ান নাহাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৪৫।
[৬]. وأما أبو شمر المرجئ القدري، فإنه زعم أن الإيمان هو المعرفة بالله عز وجل. والمحبة والخضوع له بالقلب والإقرار به أنه واحد ليس كمثله شيء، ما لم تقم عليه حجة الأنبياء عليهم السلام. فإذا قامت الحجة فالإقرار بهم وتصديقهم من الإيمان والمعرفة. والإقرار بما جاءوا به من عند الله غير داخل في الإيمان الأصلي. وليست كل خصلة من خصال الإيمان إيمانا ولا بعض إيمان، فإذا اجتمعت كانت كلها إيمانا، وشرط في خصال الإيمان معرفة العدل، يريد به القدر خيره وشره من العبد؛ من غير أن يضاف إلى الباري تعالى منه شيء -দ্র. আল-মিলাল ওয়ান নাহাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৪৫।
[৭]. وأما غيلان بن مروان من القدرية المرجئة، فإنه زعم أن الإيمان هو المعرفة الثانية بالله تعالى، والمحبة والخضوع له، والإقرار بما جاء به الرسول، وبما جاء من عند الله. والمعرفة الأولى فطرية ضرورية. فالمعرفة على أصله نوعان: فطرية، وهي علمه بأن للعالم صانعا، ولنفسه خالقا. وهذه المعرفة لا تسمى إيمانا، إنما الإيمان هو المعرفة الثانية المكتسبة. -দ্র. আল-মিলাল ওয়ান নাহাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৪৬।
[৮]. أتباع أبي الخطاب محمد بن أبي زينب الأسدي الكوفي، من غلاة الشيعة، القائلين بالحلول، وادعى النبوة، ثم الرسالة، ثم أنه من الملائكة وأنه رسول إلى أهل الأرض كلهم -দ্র. আল-ই‘তিছাম, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৫২।
[৯]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ১২৬-১২৭।
[১০]. وَيَسْتَحِلُّونَ شَهَادَةَ الزُّورِ لِمُوَافَقِيهِمْ عَلَى مُخَالِفِيهِمْ، قَالُوا: وَالْجَنَّةُ نَعِيمُ الدُّنْيَا وَالنَّارُ آلَامُهَا، وَاسْتَبَاحُوا الْمُحَرَّمَاتِ وَتَرَكُوا الْفَرَائِضَ، قَالُوا: وَيُمْكِنُ أَنْ يُوحَى إِلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ، وَمِنْهُمْ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ، وَهُمْ لَا يَمُوتُونَ بَلْ يُرْفَعُونَ إِلَى الْمَلَكُوتِ. -দ্র. শামসুদ্দীন আস-সাফারীনী, লাওয়ামিঊল আনওয়ার আল-বাহিয়্যিয়া, ১ম খণ্ড (দিমাশক : মুওয়াসসাসাতুল খফিক্বীন, ২য় সংস্করণ ১৪০২ হি.), পৃ. ৮২।
[১১]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ১২৬-১২৭।
[১২]. লাওয়ামিঊল আনওয়ার আল-বাহিয়্যিয়া, ১ম খণ্ড, পৃ. ৮২।
[১৩]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ১২৬-১২৭।
[১৪]. مِنْهُم المعمرية كَانُوا يَقُولُونَ إِن الإِمَام بعد أبي الْخطاب رجل اسْمه معمر وَكَانُوا يعبدونه كَمَا يعْبدُونَ أَبَا الْخطاب وَكَانُوا يَقُولُونَ إِن الدُّنْيَا لَا تفنى وَكَانُوا يُنكرُونَ الْقِيَامَة وَيَقُولُونَ بتناسخ الْأَرْوَاح -দ্র. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ১২৭।
[১৫]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ১২৭।
[১৬]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ১২৭।
[১৭]. الْحَدَبِيَّةُ أَصْحَابُ فَضْلٍ الْحَدَبِيِّ، زَادُوا التَّنَاسُخَ، وَأَنَّ كُلَّ حَيَوَانٍ مُكَلَّفٌ، بَلْ قِيلَ فِي كُلِّ نَوْعٍ مِنَ الْحَيَوَانِ نَبِيٌّ مِنْ جِنْسِهِ -লাওয়ামিঊল আনওয়ার আল-বাহিয়্যিয়া, ১ম খণ্ড, পৃ. ৭৯।
[১৮]. بنفي الصفات، ونفي القدر خيره وشره من الله تعالى، والتفكير والتضليل على ذلك -দ্র. আল-মিলাল ওয়ান নাহাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ৬৬।
[১৯]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৭৪।
[২০]. وَمن بدعه انه كَانَ يَقُول لَيْسَ الأنسان الصُّورَة الَّتِي شاهدناها وَإِنَّمَا هُوَ شَيْء فِي هَذِه الصُّورَة عَالم قَادر مُخْتَار يدبر التَّدْبِير لَا متحرك وَلَا سَاكن وَلَا متلون وَلَا مرئي وَلَا مدرك بالذوق والشم وَلَا بِشَيْء من الْحَواس وانه لَيْسَ فِي مَكَان دون مَكَان وَلم يذكر هَذَا الا من يصف الأنسان بِصِفَات خالقه وَمن لَا يُطلق عَلَيْهِ مَالا يُطلقهُ على خالقه -দ্র. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৭৪।
[২১]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৭৯।
[২২]. ومنها قوله: في الكفار والمشركين والمجوس، واليهود والنصارى والزنادقة والدهرية: إنهم يصيرون في القيامة ترابا -দ্র. আল-মিলাল ওয়ান নাহাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ৭১।
[২৩]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৭৯-৮০।
[২৪]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৮৪।
[২৫]. আল-মিলাল ওয়ান নাহাল, ১ম খণ্ড, পৃ. ৭৬।
[২৬]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৮০।
[২৭]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৮০।
[২৮]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৮০।
[২৯]. আত-তাবছীরু ফিদ দ্বীন ওয়া তাময়ীযুল ফের্ক্বাতিন নাজিয়াতি আনিল ফেরাকিল হালিকীন, পৃ. ৮৬-৮৭।




প্রসঙ্গসমূহ »: ভ্রান্ত মতবাদ
যাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
ক্যারিয়ার : শিক্ষক নিবন্ধনের প্রস্তুতির ধরন ও বিষয়াবলী - ড. মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ
ইসলামী পুনর্জাগরণের মূলনীতি (২য় কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ধর্মের ভূমিকা (শেষ কিস্তি) - ড. মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ
সূদ-ঘুষ ও অবৈধ ব্যবসা (৪র্থ কিস্তি) - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
শরী‘আত অনুসরণের মূলনীতি (৪র্থ কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
আল-কুরআন তেলাওয়াতের ফযীলত (৫ম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
সুন্নাহ বিরোধী ও সংশয় উত্থাপনকারীদের চক্রান্তসমূহ ও তার জবাব (৭ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
ফিলিস্তীন, হে মুসলিম! - শায়খ মতিউর রহমান মাদানী
তাওহীদ প্রতিষ্ঠার উপায় (৫ম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
বিদ‘আত পরিচিতি (৫ম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ঐক্যের মর্যাদা ও মানদণ্ড - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ