শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
উত্তর : এমনটি করা যাবে না। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে ক্ববরের উপর বসতে, তাতে চুনকাম করতে এবং তার উপর কিছু নির্মাণ করতে নিষেধ করতে শুনেছি (আবূ দাঊদ, হা/৩২২৫)। বর্ণনাকারী উছমানের বর্ণনায় রয়েছে, أَوْ يُزَادَ عَلَيْه এবং ক্ববরের উপরে অতিরিক্ত কিছু যোগ করতে নিষেধ করেছেন (আবূ দাঊদ, হা/৩২২৬)। আমর ইবনু হাযম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমাকে রাসূল (ﷺ) ক্ববরে হেলান দেয়া অবস্থায় দেখতে পেলেন এবং বললেন, لا تُؤذِ صاحِبَ القبرِ ‘ক্ববরবাসীকে কষ্ট দিয়ো না’ (আল-মুসতাদরাক ‘আলাছ ছহীহাইন, হা/৬৫০২; মিশকাত, হা/১৬৬২; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৯৬০; ছহীহুত তারগীব, হা/৩৫৬৬)।

অন্যত্র তিনি বলেন, তোমরা কখনো ক্ববরের উপর বসবে না এবং ক্ববরের দিকে মুখ করে ছালাতও আদায় করবে না (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭২; আবূ দাঊদ, হা/৩২২৯; তিরমিযী, হা/১০৫০; নাসাঈ, হা/৭৬০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭২১৫)। সুতরাং ক্ববরের উপরে হাঁটা, বসা, হেলান দেয়া, নির্মাণ করা, বসবাস করা, তার দিকে মুখ করে ছালাত আদায় করা সবই নিষিদ্ধ। কেননা এর ফলে ক্ববরবাসীর কষ্ট হয়। তাই একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত পুরাতন ক্ববরে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। যেমন পুরাতন ক্ববর থেকে মাটি সরে গেলে কিংবা পানি জমে গেলে সে ক্ষেত্রে অন্য জায়গা থেকে মাটি এনে অত্যন্ত যত্ন সহকারে তা ভরাট করে দেয়া দোষনীয় নয়। তখন এটি অবৈধ হবে না’ (আল-মাজমূঊ লিন নববী, ৫/২৭৩; আল-মুগনী, ২/১৯৪ পৃ.)।

লক্ষণীয় হল- মুসলিম ব্যক্তির ক্ববরের সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত যরূরী। কারণ মৃত ব্যক্তির ক্ববর মূলত তার জন্যই ওয়াক্বফকৃত স্থান। সুতরাং তাতে কারো হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। কিন্তু একান্ত যরূরী প্রয়োজন হলে এবং বিকল্প কোন উপায় না থাকলে ক্ববর খনন করে তার লাশ বা অবশিষ্ট হাড়গোড় অন্য কোথাও ক্ববর খনন করে সেখানে স্থানান্তরিত করার পর তদস্থলে মসজিদ নির্মাণ বা মসজিদ সম্প্রসারণ অথবা বসত বাড়ি নির্মাণ বা অন্যান্য কাজে লাগানো জায়েয। কিন্তু লাশ বা লাশের অবশিষ্টাংশ অন্যত্র স্থানান্তরিত না করে সে অবস্থায় শুধু ক্ববরের মাটি সমান করে তার উপর মসজিদ নির্মাণ করা জায়েয নয়। বরং এমনটি করা হলে উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা বৈধ নয়, বরং তা ভেঙ্গে ফেলা আবশ্যক (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩১/২১৬-২১৭, ২১৪; আল-মুগনী, ২/১৯৪, ৪১৩; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১/৪১৮-৪১৯; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১২/৩৭৩; আহকামুল জানায়িয, পৃ. ৬৯ ও ৯১)।

প্রশ্নকারী : মিনহাজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম।





প্রশ্ন (০৯) : কোন নারী একসময় ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল। এমন নারীকে বিয়ে করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) :  যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদে বিশ্বাস করে, কিন্তু কিছু দায়িত্ব পালনে অলসতা পোষণ করে তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : জিন এবং মানুষের ইবাদতের পার্থক্য কী? জিন জাতির উপরও কি ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদতগুলো মানুষের মতই ফরয? তাদের ইবাদতের ধরণ কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক আলেম বলেন, বান্দা যখন ছাদাক্বাহ প্রদান করে, তখন যেন সে তার চোয়াল থেকে সত্তর জন শয়তানকে বিতাড়িত করল। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি? কিছু ইসলামী সংগঠন বলছে, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় এরূপ জিহাদ ব্যতীত অন্য কোন পথ খোলা নেই। এক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : এমন কি কোন যিকির আছে, যা নির্ধারিতভাবে গণনা ছাড়াই বেশি বেশি পড়া যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : টিকটিকির লালা কি নাপাক? উক্ত লালা কোন কাপড়ে লেগে গেলে তা-কি নাপাক হয়ে যায় এবং নাপাক কাপড় পরে অন্য কোন নাপাক কাপড় ধরলে কি ঐ কাপড়ও নাপাক হয়ে যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : গ্রামের জুমু‘আর ছালাত হবে না। এই হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমার চাচা আমার সামনে আমার মাকে গালিগালাজ করে। তাই আমি আল্লাহর কসম করে বলি যে, সে মারা গেলে তার জানাযায় আমি যাব না। এ রকম কসম করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : বিভিন্ন এলাকায় ফিতরা ও কুরবানীর অর্থ থেকে ইমাম-মুওয়াযযিনের বেতন দেয়া হয়। এটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন্ কোন্ দিন ছিয়াম পালন করা নিষেধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মহিলার ইমামতিতে তারাবীর ছালাত আদায় করা যাবে কি? মহিলারা ইমাম হয়ে রামাযান মাসে তারাবী বা ঈদের ছালাত আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ