বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : আহলুস সুন্নাহ্ ওয়াল জামা‘আতের সর্বসম্মত মতানুযায়ী হাদীছ অস্বীকারকারীরা কাফির। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي ‘সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি ঔদাসীন্য ও বিরাগ পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫০৬৩)। তিনি অন্যত্র বলেন, مَنْ أَطَاعَنِيْ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ وَمَنْ عَصَانِيْ فَقَدْ عَصَى اللهَ ‘যে আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহ তা‘আলারই আনুগত্য করল। আর যে আমার নাফরমানী করল, সে আল্লাহ তা‘আলারই নাফরমানী করল’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৯৫৭)। এ ব্যাপারে ইমামগণের বক্তব্য হল,

(১) ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হাদীছ অস্বীকারকারীদের ধ্বংস অনিবার্য’ (শারহু উছূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আতি, ৩/৪৭৮ পৃ.)।
(২) ইমাম ইসহাক্ব ইবন রাহুওয়াইহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যার কাছে রাসূল (ﷺ)-এর কোন একটি ছহীহ হাদীছ পৌঁছেছে, অতঃপর সে কোন ভয়ের আশঙ্কা ছাড়াই তাকে অস্বীকার করেছে, তবে সে নিশ্চিতরূপে কাফির’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ৪/১৯ পৃ., ফৎওয়া নং-১১৫১২৫)।
(৩) শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা মনে করে যে, রাসূল (ﷺ)-এর আনুগত্য করা অপরিহার্য নয়, তারা কাফির, তাদের হত্যা করা অপরিহার্য’ (আল-ওয়াছিয়্যাতুল কুবরা লি ইবনি তাইমিয়্যাহ, ১/৩১৫ পৃ.)।
(৪) ইমাম ইবনে দাক্বীক্ব আল-ঈদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রাসূল (ﷺ)-এর হাদীছ প্রমাণিত হওয়ার পরেও যারা তা প্রত্যাখ্যান করে তারা স্পষ্ট কাফির’ (শারহুল ইলমাম, ২/১৭৭-১৭৮ পৃ.)।
(৫) ইমাম ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি বলে, আমরা শুধু কুরআনের বিধানই মানব, হাদীছ মানব না, তবে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির’ (আল-ইহকাম ফী উসূলিল আহকাম, ২/৮০ পৃ.)।
(৬) শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা সুন্নাতকে অস্বীকার করে তারা কাফির ও স্বধর্মত্যাগী। কেননা সুন্নাতকে অস্বীকার করা কুরআনকে অস্বীকার করার নামান্তর। যে কিতাব ও সুন্নাতকে অথবা এর কোন একটিকে অস্বীকার করে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির। অবশ্যই তাকে এ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করা দরকার’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২/৪০৩ ও ৯/১৭৬-১৭৮ পৃ.)।
(৭) সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘যারা সুন্নাত অনুযায়ী আমাল করাকে অস্বীকার করে তারা কাফির’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৩/১৯৪ ও ৫/১৯-২০ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ ১০০% হাদীছ মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হল- মানা আর আমল করা এক জিনিস নয়। মানা বলতে বুঝায়: স্বীকৃতি দেয়া, প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত প্রত্যেকটি হাদীছকে স্বীকৃতি দিতে হবে। বিশেষজ্ঞ আলিমদের ইজমা অনুযায়ী যে ব্যক্তি কুরআনুল কারীমকে অথবা এর কিছু অংশকে, এমনকি যদি কেউ মাত্র একটি আয়াত অথবা অক্ষরকে অস্বীকার করে তবুও সে কাফির (সূরা আন-নিসা: ৫৬; ২: ৩৯, ৬১; ৩: ১৯, ২১, ৭০, ৭৮; ৪: ১৪০; ৬: ২৭, ৩৩, ৪৯; ৭: ৩৬, ৩৭, ৪০, ১৪৭, ১৮২)। অনুরূপভাবে ইমাম সূয়ুত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা নবী (ﷺ)-এর হাদীছকে অস্বীকার করে তারাও কাফির এবং তারা ইসলামের গণ্ডি ও চৌহদ্দি থেকে নিষ্কাশিত হয়ে ইয়াহুদী, খ্রীষ্টান অথবা অন্য কোন বিধর্মী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে’ (মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ, পৃ. ১৪)। তবে সমস্ত প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত হাদীছকে স্বীকৃতি দিলেও সবার পক্ষে সব হাদীছের উপর আমল করা সম্ভবপর নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক হাদীছের উপর আমল করার সর্বাধিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৮৬)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কাঠিন্য রাখেননি’ (সূরা আল-হজ্জ: ৭৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, فَاتَّقُوا اللّٰهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ   ‘তোমরা সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর’ (সূরা আত-তাগাবুন: ১৬)।

আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার জন্য ইসলামের শরী‘আতের বিষয়াদি অতিরিক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয় জানান, যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে থাকতে পারি। তিনি বললেন, সর্বদা তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহ তা‘আলার যিকরের দ্বারা সিক্ত থাকে’ (তিরমিযী, হা/৩৩৭৫; ইবনু মাজাহ, হা/৩৭৯৩)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, ময়মনসিংহ।





প্রশ্ন (৩২) : ইক্বামতের সময় মুয়াজ্জিন যখন ‘হাইয়্যা আলাছ ছালাহ’ বলবে তখন মুক্তাদী কী বলবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর মাতৃভক্তি প্রসঙ্গ সমাজে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। এর সত্যতা কতটুকু? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদে কাতার সোজা হওয়ার পর ইক্বামত দেয়া হয়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : জনৈক ব্যক্তির পিতা সূদী ব্যাংকে টাকা রেখে সেই টাকার সূদ ভক্ষণ করে। তাকে বুঝালেও সে বুঝে না। তিনি মারা যাওয়ার পর যদি তার কবরের পাশে গিয়ে তার সন্তান ৪০ দিন পর্যন্ত সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করে, তবে তার পিতার কবরের আযাব মাফ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পালিত পুত্র-কন্যা কি পালক পিতা-মাতার জন্য এবং তাদের প্রকৃত সন্তানদের ক্ষেত্রে মাহরাম হিসাবে গণ্য হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মানসিক প্রশান্তি লাভের উপায় কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : আমার আশেপাশে কোন আহলেহাদীছ মসজিদ নেই। এমতাবস্থায় বিদ‘আতী মসজিদে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করব, না-কি একাকী আদায় করব? বিশেষ করে তারা আছর ও ফজরের ছালাত অনেক দেরি করে পড়ে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : তিরমিযীতে একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোন সন্তানহারা স্ত্রীলোককে সান্ত¡না দান করবে, তাকে জান্নাতে একটি ডোরা-কাটা কাপড় পরিধান করানো হবে’ (তিরমিযী, হা/১০৭৬)। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : বর্তমানে স্পোর্টসের দোকানগুলোতে এবং যুবকদের মধ্যে ইউরোপীয় জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোর নামযুক্ত জার্সি পরার প্রবণতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ক্লাবের কিছু লোগোতে ক্রস (খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় প্রতীক)ও রয়েছে। যদি এসব জার্সি বিক্রি বন্ধ করি, তাহলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হব, এমনকি দোকান বন্ধ করে দিতে হতে পারে। তবে আমরা হালাল উপার্জনের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। অতএব নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর হুকুম শরী‘আতের আলোকে কী হবে? (১) ইউরোপীয় ক্লাবের জার্সি কেনা, বিক্রি করা ও পরিধান করার হুকুম কী? খেলোয়াড়ের নাম লেখা থাকলে তা পরে ছালাত পড়া যাবে কি? (২) যেসব জার্সিতে নাম নেই, কেবল নম্বর আছে, সেগুলো বিক্রি করার হুকুম কী? (৩) যেসব জার্সিতে নাম বা নম্বর কিছুই নেই, সেগুলো বিক্রি করার হুকুম কী? (৪) যেসব জার্সির লোগো থেকে ক্রস মুছে ফেলা হয়েছে, সেগুলো বিক্রির হুকুম কী? (৫) এটি কি “عمت به البلوى” (সর্বব্যাপী সাধারণ বিপদ) হিসাবে গণ্য হবে? (৬) যদি এসব জার্সি বিক্রি করা বৈধ না হয়, তবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : আমরা দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই এক ছেলে সন্তান রেখে বাবার আগেই মারা গেছেন। পরে বাবাও মারা যান। বাবার মারা যাওয়ার পর বাবার অছিয়ত অনুযায়ী ভাতিজাকে বাবার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে আমার সমপরিমাণ অংশ দিয়েছি। আমার কোন ছেলে সন্তান নেই, দুই মেয়ে। এখন আমার ভাতিজা কি আমার মৃত্যুর পর আমার সম্পদের অংশ পাবে? পেলে কত অংশ পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ‘মাযহাব’ শব্দটি কোন্ ভাষার, এর অর্থ কী? মাযহাব না মানলে কি কাফের হয়ে যাবে? মাযহাবের সংখ্যা কত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : এক সন্তানের বয়স ১৫ বছর, আরেক সন্তানের বয়স ৯ বছর। তাদের আক্বীক্বা দেয়া হয়নি। এখন তাদের আক্বীক্বা দেয়া যাবে কি? গরু বা মহিষ দ্বারা আক্বীক্বা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ