বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : আহলুস সুন্নাহ্ ওয়াল জামা‘আতের সর্বসম্মত মতানুযায়ী হাদীছ অস্বীকারকারীরা কাফির। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي ‘সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি ঔদাসীন্য ও বিরাগ পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫০৬৩)। তিনি অন্যত্র বলেন, مَنْ أَطَاعَنِيْ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ وَمَنْ عَصَانِيْ فَقَدْ عَصَى اللهَ ‘যে আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহ তা‘আলারই আনুগত্য করল। আর যে আমার নাফরমানী করল, সে আল্লাহ তা‘আলারই নাফরমানী করল’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৯৫৭)। এ ব্যাপারে ইমামগণের বক্তব্য হল,

(১) ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হাদীছ অস্বীকারকারীদের ধ্বংস অনিবার্য’ (শারহু উছূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আতি, ৩/৪৭৮ পৃ.)
(২) ইমাম ইসহাক্ব ইবন রাহুওয়াইহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যার কাছে রাসূল (ﷺ)-এর কোন একটি ছহীহ হাদীছ পৌঁছেছে, অতঃপর সে কোন ভয়ের আশঙ্কা ছাড়াই তাকে অস্বীকার করেছে, তবে সে নিশ্চিতরূপে কাফির’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ৪/১৯ পৃ., ফৎওয়া নং-১১৫১২৫)
(৩) শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা মনে করে যে, রাসূল (ﷺ)-এর আনুগত্য করা অপরিহার্য নয়, তারা কাফির, তাদের হত্যা করা অপরিহার্য’ (আল-ওয়াছিয়্যাতুল কুবরা লি ইবনি তাইমিয়্যাহ, ১/৩১৫ পৃ.)
(৪) ইমাম ইবনে দাক্বীক্ব আল-ঈদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রাসূল (ﷺ)-এর হাদীছ প্রমাণিত হওয়ার পরেও যারা তা প্রত্যাখ্যান করে তারা স্পষ্ট কাফির’ (শারহুল ইলমাম, ২/১৭৭-১৭৮ পৃ.)
(৫) ইমাম ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি বলে, আমরা শুধু কুরআনের বিধানই মানব, হাদীছ মানব না, তবে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির’ (আল-ইহকাম ফী উসূলিল আহকাম, ২/৮০ পৃ.)
(৬) শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা সুন্নাতকে অস্বীকার করে তারা কাফির ও স্বধর্মত্যাগী। কেননা সুন্নাতকে অস্বীকার করা কুরআনকে অস্বীকার করার নামান্তর। যে কিতাব ও সুন্নাতকে অথবা এর কোন একটিকে অস্বীকার করে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির। অবশ্যই তাকে এ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করা দরকার’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২/৪০৩ ও ৯/১৭৬-১৭৮ পৃ.)
(৭) সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘যারা সুন্নাত অনুযায়ী আমাল করাকে অস্বীকার করে তারা কাফির’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৩/১৯৪ ও ৫/১৯-২০ পৃ.)

দ্বিতীয়তঃ ১০০% হাদীছ মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হল- মানা আর আমল করা এক জিনিস নয়। মানা বলতে বুঝায়: স্বীকৃতি দেয়া, প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত প্রত্যেকটি হাদীছকে স্বীকৃতি দিতে হবে। বিশেষজ্ঞ আলিমদের ইজমা অনুযায়ী যে ব্যক্তি কুরআনুল কারীমকে অথবা এর কিছু অংশকে, এমনকি যদি কেউ মাত্র একটি আয়াত অথবা অক্ষরকে অস্বীকার করে তবুও সে কাফির (সূরা আন-নিসা: ৫৬; ২: ৩৯, ৬১; ৩: ১৯, ২১, ৭০, ৭৮; ৪: ১৪০; ৬: ২৭, ৩৩, ৪৯; ৭: ৩৬, ৩৭, ৪০, ১৪৭, ১৮২)। অনুরূপভাবে ইমাম সূয়ুত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা নবী (ﷺ)-এর হাদীছকে অস্বীকার করে তারাও কাফির এবং তারা ইসলামের গণ্ডি ও চৌহদ্দি থেকে নিষ্কাশিত হয়ে ইয়াহুদী, খ্রীষ্টান অথবা অন্য কোন বিধর্মী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে’ (মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ, পৃ. ১৪)। তবে সমস্ত প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত হাদীছকে স্বীকৃতি দিলেও সবার পক্ষে সব হাদীছের উপর আমল করা সম্ভবপর নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক হাদীছের উপর আমল করার সর্বাধিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৮৬)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কাঠিন্য রাখেননি’ (সূরা আল-হজ্জ: ৭৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, فَاتَّقُوا اللّٰهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ   ‘তোমরা সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর’ (সূরা আত-তাগাবুন: ১৬)

আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার জন্য ইসলামের শরী‘আতের বিষয়াদি অতিরিক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয় জানান, যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে থাকতে পারি। তিনি বললেন, সর্বদা তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহ তা‘আলার যিকরের দ্বারা সিক্ত থাকে’ (তিরমিযী, হা/৩৩৭৫; ইবনু মাজাহ, হা/৩৭৯৩)


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, ময়মনসিংহ।





প্রশ্ন (৪) : আমার এলাকার বাসিন্দারা মাযহাবের অনুসারী এবং তারা খুবই কট্টরপন্থী। বাপ-দাদার আমলকেই তারা ইসলাম মনে করে। কুরআন-হাদীছ অনুযায়ী আমল করার কথা বললে তারা ফিতনা মনে করে। তারা বুঝে না বুঝতেও চায় না; বরং হাসি-ঠাট্টা, গালাগালি করে এবং নানা যুক্তি দেখিয়ে ছহীহ হাদীছ অস্বীকার করে। এক্ষণে গ্রামবাসীকে কিভাবে বুঝানো যাবে? এভাবে শরী‘আতকে অস্বীকার করলে তার বিধান কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : গালি নির্দেশ করে এমন কথাকে রসিকতা করে বলা; সিরিয়াসলি নয়। এ ব্যক্তিও কি কুফুরী করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মোবাইলের ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন মৃতব্যক্তির ছবি সেট করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : কোন্ ধরনের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : মৃত্যুর পর তার পক্ষ থেকে হজ্জ ও ছাদাক্বাহ করলে মৃতের কোন উপকার হয় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন(২৮) : ‘রামাযানের প্রথম দশক রহমত, মধ্য দশক মাগফিরাত এবং শেষ দশক নাজাত’ মর্মে আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : হজ্জের সামর্থ্য থাকা বলতে কী বুঝায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : দুই রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতের (ফজর, জুমু‘আহ বা ঈদ-এর ছালাত) শেষ বৈঠকে কিভাবে বসতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হাত তুলে দু‘আর শুরুতে হামদ ও দরূদ পাঠ করার কথা বলা হয়েছে। কোন্ বাক্য দ্বারা হামদ ও দরূদ পাঠ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ছিয়াম ভঙ্গের কারণগুলো কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ছাহাবায়ে কেরাম বলতেন, ‘আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক’। এই কথার অর্থ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমি আল্লাহর কাছে ওয়াদা করেছিলাম যে, আমার পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে আর মোবাইল দেখবো না, তবে যদি দেখি তাহলে আর মুসলিম থাকব না। প্রশ্ন হল- এই ওয়াদা ভঙ্গ করার পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ