রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
উত্তর : আহলুস সুন্নাহ্ ওয়াল জামা‘আতের সর্বসম্মত মতানুযায়ী হাদীছ অস্বীকারকারীরা কাফির। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي ‘সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি ঔদাসীন্য ও বিরাগ পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫০৬৩)। তিনি অন্যত্র বলেন, مَنْ أَطَاعَنِيْ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ وَمَنْ عَصَانِيْ فَقَدْ عَصَى اللهَ ‘যে আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহ তা‘আলারই আনুগত্য করল। আর যে আমার নাফরমানী করল, সে আল্লাহ তা‘আলারই নাফরমানী করল’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৯৫৭)। এ ব্যাপারে ইমামগণের বক্তব্য হল,

(১) ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হাদীছ অস্বীকারকারীদের ধ্বংস অনিবার্য’ (শারহু উছূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আতি, ৩/৪৭৮ পৃ.)
(২) ইমাম ইসহাক্ব ইবন রাহুওয়াইহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যার কাছে রাসূল (ﷺ)-এর কোন একটি ছহীহ হাদীছ পৌঁছেছে, অতঃপর সে কোন ভয়ের আশঙ্কা ছাড়াই তাকে অস্বীকার করেছে, তবে সে নিশ্চিতরূপে কাফির’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ৪/১৯ পৃ., ফৎওয়া নং-১১৫১২৫)
(৩) শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা মনে করে যে, রাসূল (ﷺ)-এর আনুগত্য করা অপরিহার্য নয়, তারা কাফির, তাদের হত্যা করা অপরিহার্য’ (আল-ওয়াছিয়্যাতুল কুবরা লি ইবনি তাইমিয়্যাহ, ১/৩১৫ পৃ.)
(৪) ইমাম ইবনে দাক্বীক্ব আল-ঈদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রাসূল (ﷺ)-এর হাদীছ প্রমাণিত হওয়ার পরেও যারা তা প্রত্যাখ্যান করে তারা স্পষ্ট কাফির’ (শারহুল ইলমাম, ২/১৭৭-১৭৮ পৃ.)
(৫) ইমাম ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি বলে, আমরা শুধু কুরআনের বিধানই মানব, হাদীছ মানব না, তবে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির’ (আল-ইহকাম ফী উসূলিল আহকাম, ২/৮০ পৃ.)
(৬) শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা সুন্নাতকে অস্বীকার করে তারা কাফির ও স্বধর্মত্যাগী। কেননা সুন্নাতকে অস্বীকার করা কুরআনকে অস্বীকার করার নামান্তর। যে কিতাব ও সুন্নাতকে অথবা এর কোন একটিকে অস্বীকার করে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির। অবশ্যই তাকে এ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করা দরকার’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২/৪০৩ ও ৯/১৭৬-১৭৮ পৃ.)
(৭) সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘যারা সুন্নাত অনুযায়ী আমাল করাকে অস্বীকার করে তারা কাফির’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৩/১৯৪ ও ৫/১৯-২০ পৃ.)

দ্বিতীয়তঃ ১০০% হাদীছ মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হল- মানা আর আমল করা এক জিনিস নয়। মানা বলতে বুঝায়: স্বীকৃতি দেয়া, প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত প্রত্যেকটি হাদীছকে স্বীকৃতি দিতে হবে। বিশেষজ্ঞ আলিমদের ইজমা অনুযায়ী যে ব্যক্তি কুরআনুল কারীমকে অথবা এর কিছু অংশকে, এমনকি যদি কেউ মাত্র একটি আয়াত অথবা অক্ষরকে অস্বীকার করে তবুও সে কাফির (সূরা আন-নিসা: ৫৬; ২: ৩৯, ৬১; ৩: ১৯, ২১, ৭০, ৭৮; ৪: ১৪০; ৬: ২৭, ৩৩, ৪৯; ৭: ৩৬, ৩৭, ৪০, ১৪৭, ১৮২)। অনুরূপভাবে ইমাম সূয়ুত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা নবী (ﷺ)-এর হাদীছকে অস্বীকার করে তারাও কাফির এবং তারা ইসলামের গণ্ডি ও চৌহদ্দি থেকে নিষ্কাশিত হয়ে ইয়াহুদী, খ্রীষ্টান অথবা অন্য কোন বিধর্মী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে’ (মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ, পৃ. ১৪)। তবে সমস্ত প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত হাদীছকে স্বীকৃতি দিলেও সবার পক্ষে সব হাদীছের উপর আমল করা সম্ভবপর নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক হাদীছের উপর আমল করার সর্বাধিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৮৬)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কাঠিন্য রাখেননি’ (সূরা আল-হজ্জ: ৭৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, فَاتَّقُوا اللّٰهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ   ‘তোমরা সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর’ (সূরা আত-তাগাবুন: ১৬)

আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার জন্য ইসলামের শরী‘আতের বিষয়াদি অতিরিক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয় জানান, যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে থাকতে পারি। তিনি বললেন, সর্বদা তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহ তা‘আলার যিকরের দ্বারা সিক্ত থাকে’ (তিরমিযী, হা/৩৩৭৫; ইবনু মাজাহ, হা/৩৭৯৩)


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, ময়মনসিংহ।





প্রশ্ন (২৭) : জিনেরা কি মানুষের ক্ষতি করতে পারে? কারীন জিন কি মানুষের সাথে থাকে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : জনৈক ব্যক্তির হজ্জ করার সামর্থ্য আছে। কিন্তু তার অর্থ অন্যের কাছে ধার দেয়া আছে। এখন সে কি আরেকজনের নিকট থেকে টাকা ধার নিয়ে হজ্জ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪): বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি রাতে ‘সূরা হা-মীম দুখান’ পড়ে সকালে উঠে, তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রর্থনা করতে থাকেন (তিরমিযী, হা/২৮৮৮; মিশকাত, হা/২১৪৯)। এ বর্ণনাটি কি বিশুদ্ধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : হালাল রিযিকের জন্য কোন্ কোন্ আমল করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমার চাচা আমার সামনে আমার মাকে গালিগালাজ করে। তাই আমি আল্লাহর কসম করে বলি যে, সে মারা গেলে তার জানাযায় আমি যাব না। এ রকম কসম করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মাগরিবের সময় দরজা বন্ধ না রাখলে ঘরে জিন ও শয়তান প্রবেশ করে। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : হাদীছে এসেছে, ‘যা তোমার হাতে নেই তা বিক্রি করো না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৩)। এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : অমুসলিম পুরুষের সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দিয়ে অপর কোন নারীকে বিয়ে করতে পারবে কি? ত্বালাক্ব দেয়ার কারণ হল- একই সাথে দু’জন স্ত্রী রাখার সামর্থ্য তার নেই এবং ইনছাফ করতে পারবে না। আর তার স্ত্রীর প্রতি কোন প্রকার আকর্ষণও নেই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহর কাছে মাছির ডানা সমতুল্য নয়, তাহলে আল্লাহর  শাস্তি এত কঠোর কেন? মাথায় এমন প্রশ্ন আসলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : পড়াশুনার কারণে বাইরে থাকার সুবাদে অনেক সময় একাকী থাকতে হয়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এটা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : তাহিয়াতুল ওযূ, তাহিয়্যাতুল মাসজিদ এবং ৫ ওয়াক্ত ফরয ছালাতের সুন্নাত ছালাত কি এক নিয়তে সব আদায় করা যাবে? যেমন তাহিয়াতুল ওযূর ২ রাকা‘আত ছালাত এবং তাহিয়্যাতুল মাসজিদের ২ রাকা‘আত ছালাত মোট ৪ রাকা‘আত ছালাত ও যোহরের ৪ রাকা‘আত ছালাত একসাথে সর্বমোট ৪ রাকা‘আত ছালাত কি পড়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ