উত্তর : আল-কুরআন বারবার আল্লাহর নামে মিথ্যা বলতে কঠিনভাবে নিষেধ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে না-জেনে, আন্দাজে, ধারণা বা অনুমানের উপর নির্ভর করে আল্লাহর নামে কিছু বলতে কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে মিথ্যা বলার অর্থ আল্লাহর নামে মিথ্যা বলা। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর পক্ষ থেকেই কথা বলেন। কুরআনের মত হাদীছও আল্লাহর ওহী। কুরআন ও হাদীছ, উভয় প্রকারের ওহীই একমাত্র (ﷺ) এর মাধ্যমে বিশ্ববাসী পেয়েছে। কাজেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে কোন প্রকারের মিথ্যা, বানোয়াট, আন্দাজ বা অনুমান নির্ভর কথা বলার অর্থই আল্লাহর নামে মিথ্যা বলা বা না-জেনে আল্লাহর নামে কিছু বলা। কুরআন কারীমে এ বিষয়ে বারংবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে (সূরা আল-বাক্বারাহ : ৮০, ১৬৯; সূরা আলে ইমরান: ৯৪; সূরা আন-নিসা: ১৫৭; সূরা আল-আন‘আম : ২১, ৯৩, ১১৬, ১৪৪, ১৪৮; সূরা আল-আ‘রাফ : ২৮, ৩৩, ৩৭, ৬২)। আল্লাহ তা‘আলা বারবার বলেছেন যে, وَ مَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰى عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا‘আল্লাহর নামে বা আল্লাহর সম্পর্কে যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে?’ (সূরা আল-আন‘আম: ২১, ৯৩, ১৪৪)। এছাড়া আরো বর্ণিত হয়েছে যে, সূরা আল-আ‘রাফ : ৩৭; সূরা ইউনূস : ১৭; সূরা হূদ: ১৮; সূরা আল-কাহ্ফ: ১৫; সূরা আল-আনকাবূত: ৬৮; সূরা আছ-ছাফ্ফ: ৭। অন্যত্র বলা হয়েছে:
وَيْلَكُمْ لَا تَفْتَرُوْا عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا فَيُسْحِتَكُمْ بِعَذَابٍ١ۚ وَ قَدْ خَابَ مَنِ افْتَرٰى
‘দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। করলে, তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দ্বারা সমূলে ধ্বংস করবেন। যে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে সে ব্যর্থ হয়েছে’ (সূরা ত্বোহা : ৬১)। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে মিথ্যা কোন কথা বলবে সে কাফের।
প্রশ্নকারী : রুখসানা পারভীন, যশোর।