উত্তর : এ ধরনের আত্মীয়র সাথে সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সম্পর্কটা এমনভাবে রাখতে হবে যাতে তাঁর শিরক বা বিদ‘আতকে সমর্থন না করা হয়। বরং তাদের সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। তবে তারা যদি স্পষ্ট কুফর ও শিরকের কাজে অটল থাকে এবং তাওহীদের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করা এবং এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে যদি তাদের কর্মকাণ্ড আপনার ঈমানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে (সূরা আত-তাওবাহ: ২৩; সূরা আল-মুমতাহিনা: ১-৪)। যেমন মাযারে পশু উৎসর্গ করা, মৃত পীরের কাছে সাহায্য চাওয়া, ক্ববরে সিজদা করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে তাদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখাই উত্তম।
তাছাড়া অবস্থার প্রেক্ষিতে এবং আত্মীয়দের ভিন্নতার কারণে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা কখনও ফরয, কখনো সুন্নাত আবার কখনো বৈধ। আর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা সকলের ঐকমত্যে হারাম। কারো কারো নিকটে কাবীরা গুনাহ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২৫/২৪৭ পৃ.)। কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করতে এবং তাদের হক্ব যথাযথভাবে আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আন-নিসা: ৩৬; বানী ইসরাঈল: ২৬-২৭)।
রাসূল (ﷺ) বলেছেন,আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না (আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৬৪, সনদ ছহীহ)। বিশেষ করে পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম (ছহীহ বুখারী, হা/২৪০৮, ২৬৫৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৭; তিরমিযী, হা/১৯০১)। কারণ পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা ফরয। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমরা মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে’ (সূরা আল-আনকাবূত: ৮; সূরা বানী ইসরাঈল: ২৩-২৪)। পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করাকে কাবীরা গুনাহ বলা হয়েছে (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৫৪, ৬৯২০)।
এছাড়া অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা সুন্নাত (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৯৬; আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৪৯)। আর কাফির অথবা মুশরিক পিতা-মাতার সাথে সন্তানের সুসম্পর্ক বজায় রাখা বৈধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তবে পৃথিবীতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করবে (সূরা লুক্বমান: ১৫)। আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর যুগে আমার মা মুশরিক অবস্থায় আমার নিকট আসলেন। আমি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করলাম, আমার মা আমার নিকটে এসেছেন, তিনি আমার প্রতি (ভাল ব্যবহার পেতে) খুবই আগ্রহী, এমতাবস্থায় আমি কি তার সঙ্গে সদাচরণ করব? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সাথে সদাচরণ কর’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬২০; ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৩)।
প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, নওগাঁ সদর।