রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
উত্তর : এ ধরনের আত্মীয়র সাথে সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সম্পর্কটা এমনভাবে রাখতে হবে যাতে তাঁর শিরক বা বিদ‘আতকে সমর্থন না করা হয়। বরং তাদের সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। তবে তারা যদি স্পষ্ট কুফর ও শিরকের কাজে অটল থাকে এবং তাওহীদের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করা এবং এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে যদি তাদের কর্মকাণ্ড আপনার ঈমানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে‌ (সূরা আত-তাওবাহ: ২৩; সূরা আল-মুমতাহিনা: ১-৪)। যেমন মাযারে পশু উৎসর্গ করা, মৃত পীরের কাছে সাহায্য চাওয়া, ক্ববরে সিজদা করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে তাদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখাই উত্তম।

তাছাড়া অবস্থার প্রেক্ষিতে এবং আত্মীয়দের ভিন্নতার কারণে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা কখনও ফরয, কখনো সুন্নাত আবার কখনো বৈধ। আর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা সকলের ঐকমত্যে হারাম। কারো কারো নিকটে কাবীরা গুনাহ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২৫/২৪৭ পৃ.)। কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করতে এবং তাদের হক্ব যথাযথভাবে আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আন-নিসা: ৩৬; বানী ইসরাঈল: ২৬-২৭)।

রাসূল (ﷺ) বলেছেন,আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না (আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৬৪, সনদ ছহীহ)। বিশেষ করে পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম (ছহীহ বুখারী, হা/২৪০৮, ২৬৫৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৭; তিরমিযী, হা/১৯০১)। কারণ পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা ফরয। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমরা মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে’ (সূরা আল-আনকাবূত: ৮; সূরা বানী ইসরাঈল: ২৩-২৪)। পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করাকে কাবীরা গুনাহ বলা হয়েছে (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৫৪, ৬৯২০)।

এছাড়া অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা সুন্নাত (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৯৬; আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৪৯)। আর কাফির অথবা মুশরিক পিতা-মাতার সাথে সন্তানের সুসম্পর্ক বজায় রাখা বৈধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তবে পৃথিবীতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করবে (সূরা লুক্বমান: ১৫)। আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর যুগে আমার মা মুশরিক অবস্থায় আমার নিকট আসলেন। আমি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করলাম, আমার মা আমার নিকটে এসেছেন, তিনি আমার প্রতি (ভাল ব্যবহার পেতে) খুবই আগ্রহী, এমতাবস্থায় আমি কি তার সঙ্গে সদাচরণ করব? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সাথে সদাচরণ কর’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬২০; ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৩)।


প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, নওগাঁ সদর।





প্রশ্ন (৬) : মৃত ব্যক্তির নামে খাওয়ানো, চার দিন পর দু‘আ অনুষ্ঠান, চল্লিশা উৎযাপন, মৃত্যু বার্ষিকী উৎযাপন ইত্যাদির মাধ্যমে কি মৃত ব্যক্তি শাস্তিপ্রাপ্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক অবিবাহিত যুবক আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা অসহায় মেয়েকে বিয়ে করতে চাচ্ছে। কিন্তু সম্মানবোধ উল্লেখ করে পরিবার তা মেনে নিচ্ছে না। তাদের মতের বাইরে এসে ঐ মেয়েকে বিয়ে করলে আমি কি তাদের অবাধ্য সন্তান হিসাবে পরিগণিত হব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ছালাতে সিজদা থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর যদি সন্দেহ হয় একটা সিজদা হয়েছে না-কি দু’টি সিজদা হয়েছে? এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : জনৈক বক্তা বলেন, যে বান্দা রামাযানের ছিয়াম পালন করে তার সাথে প্রত্যেক দিন তাঁবুতে সুরক্ষিত হুরদের মধ্য হতে একজনকে বিবাহ দিয়ে দেন। প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে ৭০টি দামী কাপড় থাকবে। প্রত্যেকটির রং হবে পৃথক পৃথক। তাকে ৭০ প্রকারের সুগন্ধিযুক্ত রং দেয়া হবে। এক রঙের সাথে অন্য রঙ মিলবে না। প্রত্যেকেই বসে থাকবে হীরার খাটে, যাতে মুক্তা দ্বারা বিন্যস্ত করা থাকবে ৭০টি বিছানা, যার আস্তর থাকবে রেশমের। ৭০টি বিছানার উপর থাকবে ৭০টি পালঙ্ক। প্রত্যের স্ত্রীর জন্য থাকবে ৭০ জন্য সেবিকা, যারা তার সেবা করবে। আর ৭০ জন সেবিকা থাকবে তার সাথে মুলাক্বাতের জন্য। আর প্রত্যেক সহচরের সাথে থাকবে অনেক সম্ভ্রান্ত সাথী। জান্নাতে স্বর্ণের পাত্র থাকবে তাতে বিভিন্ন রঙের খাবার থাকবে। প্রথম যে স্বাদ পাওয়া যাবে শেষেও সে স্বাদ পাওয়া যাবে। আর তার স্বামীকেও অনুরূপ লাল হীরার খাট দেয়া হবে, যার উপর দু’টি স্বর্ণের বালা থাকবে, যা বিন্যস্ত থাকবে লাল হীরা দ্বারা। এটা রামাযানের প্রত্যেক দিন ছিয়াম পালনকারীর জন্য, অন্য নেক আমলের জন্য নয় (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/৯৬৭)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ওলী-আওলিয়া কারা? আব্দুল কাদির জিলানী (রাহিমাহুল্লাহ) কি আল্লাহর ওলী ছিলেন? তাঁর আক্বীদা কেমন ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : কোন ব্যক্তি যদি খেজুর গাছ লাগায়, বীজ বপন করে কিংবা অন্য কিছু লাগায় এবং তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিছগণ এর থেকে উপকৃত হয়; তাহলে কি সে এর প্রতিদান পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ‘তোমরা রাতের বেলায় রাস্তার মধ্যভাগে অবস্থান নেয়া থেকে সাবধান থাক। কেননা উহা হল, সাপ ও হিংস্র প্রাণীদের আশ্রয়স্থল’ মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক যুবক। আমার ফ্যামিলির মূল উপার্জন হারাম উপায়ে অর্জিত হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় আমি হালাল ইনকাম করে আলাদা কিনে খেলে বা হোটেলে খেলে আব্বা আম্মা খুব কষ্ট পান। প্রশ্ন হল- আমি যদি তাদের খাবারই খাই কিন্তু প্রতি খাবার প্রতি মাস শেষে বিল দিয়ে দেই, তাহলে এটা কি আমার জন্য বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : জনৈক ব্যক্তির হজ্জ করার সামর্থ্য আছে। কিন্তু তার অর্থ অন্যের কাছে ধার দেয়া আছে। এখন সে কি আরেকজনের নিকট থেকে টাকা ধার নিয়ে হজ্জ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : পুরুষ লোকের দুই হাত ও দুই পায়ে মেহেদী দিতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : যে ব্যক্তির কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে এবং প্রতিদিন তার ডায়ালেসিস করতে হয়। সে ছিয়াম রাখতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : স্বামী তার স্ত্রীকে বলেছে, তার মায়ের প্রতিটি কথা মেনে চলতে হবে। কিন্তু শাশুড়ি চান যে, তার ছেলের বউ তার দেবর, চাচা, চাচাতো ভাই, খালাত ভাই সবার সাথেই সাধারণভাবেই চলুক। এক্ষেত্রে স্ত্রীর করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ