শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
উত্তর : যে ব্যক্তি মাসিক বেতন পায় এবং যা পায় সবটাই খরচ করে ফেলে, কোন কিছু সঞ্চয় করতে পারে না, মাস শেষে তার সমস্ত অর্থ ফুরিয়ে যায়। এমতাবস্থায় তার উপর যাকাত আবশ্যক হবে না। কারণ যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিছাব পরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ের পর তার উপর এক বছর পূর্ণ হওয়া আবশ্যক। সুতরাং নিছাব পরিমাণ অর্থ সঞ্চিত না হলে আপনার উপর যাকাত আবশ্যক হবে না। তবে আপনি যদি আপনার বেতন থেকে কিছু সঞ্চয় করেন, আর সে সঞ্চয় যদি নিছাব পরিমাণে পৌঁছে যায় এবং তার উপর এক বছর অতিবাহিত হয় তাহলে যাকাত আবশ্যক হবে।

বেতনের যাকাত প্রদানের পদ্ধতি: যেহেতু অধিকাংশ মানুষ বেতনে চাকুরী করে তাই বেতনের যাকাত প্রদান করার পদ্ধতি উল্লেখ করাকে সমীচীন মনে করছি। চাকুরিজীবীর বেতনের দুই অবস্থা। যথা:
(১) সে পুরো অর্থ ব্যয় করে ফেলে। কোন কিছুই্ সঞ্চয় করে না। এক্ষেত্রে তার উপরে কোন যাকাত নেই।
(২) সে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করে। এটি কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে। এমন অবস্থায় সে কীভাবে যাকাতের হিসাব করবে? ‘যদি সে নিজের অধিকার পরিপূর্ণরূপে উপভোগ করতে সচেষ্ট হয় এবং যাকাত গ্রহীতাদেরকে তার সম্পদ থেকে যতটুকু দেয়া ওয়াজিব ততটুকুর বেশি না দিতে সচেষ্ট হয়, তাহলে তার কর্তব্য নিজের উপার্জনের একটি ছক তৈরি করা। ঐ ছকে যে কোন সম্পদ তার মালিকানায় আসার দিন থেকে বছর গণনা শুরু করবে এবং প্রত্যেক টাকার যাকাত আলাদা আলাদাভাবে আদায় করবে, যে টাকার যে দিন বর্ষপূর্তি হবে ঐ টাকার যাকাত সেই দিন পরিশোধ করবে।

আর যদি ব্যক্তি সহজতা চায় ও উদারতার পথ বেছে নেয়, নিজের অধিকারের উপর দরিদ্র ও অন্যান্য যাকাত গ্রহীতাদের যাকাত প্রাপ্তির দিকটিকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে তার মালিকানায় থাকা সম্পদের সর্বপ্রথম নিছাব পূর্ণ হওয়ার এক বছর পূরণ হলে সে তার কাছে থাকা সমস্ত সম্পদের যাকাত প্রদান করবে। এই কাজে তার নেকী বেশি হবে এবং মর্যাদা বুলন্দ হবে। এটি তার জন্য প্রশান্তিদায়ক এবং দরিদ্র-নিঃস্বসহ যাকাতের অন্যান্য খাতের ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় অধিক সহায়ক। তার যে সম্পদের বর্ষপূর্তি হয়েছে সে সম্পদের সাথে অতিরিক্তি যে সম্পদের বর্ষপূর্তি হয়নি সে সম্পদেরও যাকাত দিয়ে দেয়া এটি অগ্রিম প্রদত্ত যাকাত বলে গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ: একজন ব্যক্তি রামাযান মাসের বেতন পেয়ে এর থেকে এক হাজার রিয়াল সঞ্চয় করল। তার পরের মাসেও সঞ্চয় করল। এভাবে বাকি মাসগুলোতেও ...। অতঃপর দ্বিতীয় বছরের রামাযান মাস আসার পর সে নিজের কাছে থাকা সমস্ত সম্পদের হিসাব করে যাকাত প্রদান করা (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৯/২৮০ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৬১১৩)।


প্রশ্নকারী : তানযীম ইসলাম, টাঙ্গাইল।





প্রশ্ন (৩১) : সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ কাকে বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ছালাতে সিজদায় বাংলাতে দু‘আ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : নৌকা, লঞ্চ, পানি জাহাজে উঠার সময়  بِسْمِ اللَّهِ مَجْراهَا وَمُرْسَاهَا ۚ إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ   আয়াতটি পড়ার প্রচলন রয়েছে। এর পক্ষে কোন ছহীহ দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সমাজে অনেক নামধারী ফকীর দেখা যায়। যারা বিত্তশালী। এদের কেউ সূদের উপর টাকা দেয়। টাকা নিয়ে নেশা করে। এদেরকে ভিক্ষা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : জুমু‘আর দিন অনেকে মুছল্লীদের খিচুড়ি খাওয়ায়। এর ফলে মসজিদে অনেক হৈচৈ হয়। মসজিদে এরূপ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আমার বাবা একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার। তার কাজ মূলত সদস্যকে ঋণ দেয়া। তার ইনকাম কি হালাল? যদি হালাল না হয় তাহলে তিনি তার বেতনের টাকা দিয়ে আমাকে একটি মোবাইল এবং একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন। এখন আমি এই মোবাইল বা ল্যাপটপ দিয়ে যদি অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং বা কোন কাজ করে টাকা ইনকাম করি তাহলে সেই টাকা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : যেসকল তাসবীহ ১০০ বার পড়তে হয়, তা যদি একসাথে না পড়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পড়ি, তাহলে কি হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : মহিলার পেটে বাচ্চা থাকলে কি ত্বালাক্ব পতিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য কুকুর পালন করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : জামা‘আতে ছালাত আদায় করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ইসলামী অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : বিকাশে লেনদেন করলে বিভিন্ন সময় ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। এই ক্যাশব্যাক কি গ্রহণ করা যাবে? আবার বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকলে বছর শেষে চার্জ কাটা হয়। এই ব্যাংক চার্জ কি ঐ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সূদের টাকা থেকে বাদ দেয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ