বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর: প্রথমতঃ আহলে ইলম তথা বিদ্বানগণের ঐকমত্য অনুযায়ী তাফসীর, হাদীছ, ফিক্বহ বা অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয। কেননা এখানে বিক্রয় বস্তু হচ্ছে কাগজ, কালি এবং বইয়ের আবরণ (কভার)। জ্ঞান কখনো বিক্রয় করা যায় না (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩২১৬৬৪)। ইমাম ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ ও আবূ সুলাইমান (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেছেন, ‘মুছহাফ (مُصْحَف) অর্থাৎ কুরআনের মূল অনুলিপি ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয। অনুরূপভাবে আরবী এবং অনারবী ভাষায় লিখিত অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থও বিক্রয় করা জায়েয। কেননা এখানে যা বিক্রয় করা হচ্ছে তা হল- কাগজ, কাগজের পাতা, লেখার কালি, চামড়ার কভার, ভূষণ ইত্যাদি। পক্ষান্তরে ইলম্ বা জ্ঞান বিক্রয় করা যায় না, কেননা তা দেহহীন’ (আল-মুহাল্লা, ৭/৪৪৪ পৃ.; আল-মাজমূঊ, ৯/২৫৩ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ দুনিয়া উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে যাকে ক্রয়-বিক্রয় করা ও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা নিষেধ, তা হল- মুছহাফ বা মূল আরবী কুরআন (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনি তাইমিয়্যাহ, ২১/৪৬০; মুগনী শারহুল কাবীর, ২/৭৫ পৃ.)। বিশুদ্ধ মতানুযায়ী মুছহাফ বা মূল আরবী কুরআন ব্যতীত অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ‌‌‌ ক্রয়-বিক্রয় ও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা নিষিদ্ধ নয়। সুতরাং কুরআনের আয়াত ও অনুবাদ সম্বলিত অন্যান্য ইসলামী গ্রন্থ, হাদীছের গ্রন্থ, তাফসীরের গ্রন্থ, সাধারণ যিকির-আযকার ও দু‘আ, দরূদের বই-পুস্তকসমূহ কিন্তু মুছহাফের অন্তর্ভুক্ত নয় (আয-যাখিরাহ, ১/৩৭৯; আল-ক্বাওয়ানিনুল ফিক্বহিয়্যাহ, পৃ. ২৫; আল-মাহাল্লা, ১/৯৪; আল-মাজমূঊ, ২/৩৫৬-৩৫৭; রাওযাতুত্ব ত্বালিবীন, ১/৮৬; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২১/৪৬০ ও ২৬/১৭৯, ১৯১; আল-ইনছাফ, ১/২৪৯; ই’লামুল মুওয়াক্কিঈন, ৩/২৫; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৬/৩৬০; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ্ দারব্ ইবনি উছাইমীন, ২১/১২৩; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৪/২৩২ পৃ.)।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি যে, যথাযোগ্য মর্যাদা ও সম্মান বজায় রেখে আল্লাহ তা‘আলার নাম, কুরআনের আয়াত বা অন্যান্য ধর্মীয় পাঠ্যপুস্তক ওজনে বিক্রি করা দোষনীয় নয়। কেননা এগুলো মুছহাফের অন্তর্ভুক্ত নয়। অনুরূপভাবে যদি কেউ এর দায়বদ্ধতা, যথাযোগ্য মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা না করে বিক্রয় করে, তবুও সে কাফির হয়ে যাবে না। এর জন্য সে গুনাহগার হতে পারে। তবে যেহেতু এর দায়বদ্ধতা অনেক বেশি তাই পুরাতন ধর্মীয় গ্রন্থসমূহ বিক্রয় না করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া-ই উত্তম হবে। লক্ষণীয় বিষয় হল- আল্লাহর প্রতি ও তাঁর কিতাবের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেকের উপর অপরিহার্য। 

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের সংযমশীলতারই বহিঃপ্রকাশ’ (সূরা আল-হাজ্জ: ৩২)। পক্ষান্তরে কেউ যদি দ্বীনকে নিয়ে উপহাস করে বা কুরআনকে নিয়ে বিদ্রুপ করে, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করলে অবশ্যই তারা বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও খেল-তামাশা করছিলাম। বলুন! তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রুপ করছিলে?’ (সূরা আত-তাওবাহ: ৬৫)।


প্রশ্নকারী : বুশরা, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৮) : জুম‘আর দিন আছর ছালাতের পর উক্ত স্থানে বসে ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি‘আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মী ওয়া ‘আলা আলিহী ওয়া সাল্লিম তাসলীমা’ এ দরূদটি ৮০ বার পাঠ করলে আল্লাহ ৮০ বছরের ছগীরা গোনাহ মাফ করে দেন এবং তার আমলনামায় ৮০ বছরের নফল ইবাদতের ছওয়াব লিপিবদ্ধ করেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : এক ব্যক্তি ইবাদত-বন্দেগীতে খুব ভাল এবং সুন্নাত অনুসরণে অধিক আগ্রহী। কিন্তু কিছু ওযর থাকার কারণে সে বিয়ে করতে চাচ্ছে না। বরং বিয়ে করলে কাবীরা গুনাহ করার সম্ভাবনা বেশি। এখন এই ভাইয়ের চেয়ে যিনি বিয়ে করেছেন তিনিই কি আল্লাহর কাছে উত্তম হবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : পীর ছাড়া না-কি আল্লাহর দেখা পাওয়া যাবে না। জীবনে একবার হলেও না-কি পীরের কাছে যেতে হবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯): দাহিয়াতু কালবীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আগে ও পরে মেয়ে সন্তান কতজন ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : মসজিদের ইমাম জর্দা দিয়ে পান খায় এবং তার কুরআন তেলাওয়াত অশুদ্ধ। তাকে বললে তিনি সংশোধন হন না। এমতাবস্থায় এরূপ ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : জনৈক আলেম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুমু‘আর দিন তার মাতা-পিতা অথবা তাদের মধ্যে কোন একজনের কবর যিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী বলে লেখা হবে’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৭৯০১)। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করে কোন মহিলা বাড়ির বাইরে যেতে পারে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : জামা‘আতে ছালাত আদায়ের সময় ইমাম ও মুক্তাদী কখন কাতারে দাঁড়াবে এবং ইক্বামত কখন দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : আমি একজন দোকানদার। বিক্রিত পণ্যগুলোর গায়ে অনেকসময় মানুষের ছবি থাকে। প্রশ্ন হল- এই ছবিযুক্ত পণ্য বিক্রি করা যাবে কি, যদিও সেই পণ্য হালাল এবং উক্ত দোকানে কি ছালাত আদায় করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩): ছাদাক্বাহ করার ফযীলত বর্ণনায় বলা হয় যে, দান সম্পদকে হ্রাস করে না। আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমার মাধ্যমে বান্দার সম্মান বৃদ্ধি করেন এবং যে আল্লাহর জন্য বিনয় প্রকাশ করে আল্লাহ তাকে উন্নত করেন। এ বর্ণনাটি সঠিক! - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : প্রচলিত আছে যে, বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আযান সঠিকভাবে দিতে না পারার জন্য তাকে বাদ দিয়ে নতুন মুয়াযিযন নিয়োগ দেয়। তখন বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে আল্লাহ তুমি আমাকে তোতলা বানিয়েছ। এটার জন্য দায়ী তুমি। আর আমার মুয়াযিযন না থাকার দায়ী তুমি। নতুন মুয়াযিযন ফজরের আযান দিল, তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এসে বলেন, আজ কি আযান হয়নি? তখন লোকজন বলল, হ্যাঁ, অনেক সুন্দর হয়েছে। তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বলেন, বিলাল আযান না দিলে সকাল হবে না এবং সূর্যও উঠবে না। প্রশ্ন হল- উক্ত ঘটনার কি কোন দলীল আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : তারাবীহ-এর জামা‘আতে বিতরের ছালাতে ইমামের সশব্দে দু‘আ কূনূত পাঠ করা এবং মুক্তাদীগণের আমীন বলার কি কোন প্রমাণ আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ