রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
উত্তর: উল্লেখিত হাদীছটির কোন ভিত্তি আমরা নবী (ﷺ) থেকে জানি না। ইমাম গাযযালী (রাহিমাহুল্লাহ) ‘ইহইয়াউ উলূমুদ্দীন’ গ্রন্থে এ হাদীছকে আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে সম্বোন্ধিত করেছেন যে, তিনি বলেন, ‘কতক তেলাওয়াতকারীকে কুরআন লা‘নত করে’ (ইইইয়াউ উলূমুদ্দীন, ১/২৭৪ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী কমিটি বলেন, ‘এটি মাইমূন ইবনু মিহরানের উক্তি। নবী (ﷺ)-এর হাদীছ নয়’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমাহ, ৩/২১৩ পৃ.)।

এর মর্ম হচ্ছে, এমন মুসলিমকে সতর্ক করা, যিনি কুরআন পড়েন; কিন্তু আমল করেন না। কারণ আল্লাহ‌র বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু বান্দা রয়েছে যারা কুরআনের নিষেধাজ্ঞাগুলো অবগত হয়; যেমন সূদের নিষেধাজ্ঞা; এরপর সূদী কারবার করে। কিংবা যুলমের নিষেধাজ্ঞা; এরপর তারা যুলম করে কিংবা গীবত করার নিষেধাজ্ঞা; এরপর তারা গীবতে লিপ্ত হয়। এভাবে কুরআনে উদ্ধৃত আরও যে সব আদেশ ও নিষেধ রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও। আল্লাহ্‌ই তাওফীকদাতা (ইসলাম সাওয়াল ওয়াল জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২২৪০৩৫)।

শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে ‘কতক ক্বারীকে কুরআন লা‘নত করে’ এই হাদীছ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। কিভাবে কুরআন তার পাঠককে লা‘নত করে এবং কেন? তিনি জবাব দেন, ‘আমি নবী (ﷺ) থেকে এই হাদীছের সত্যতা জানি না। সুতরাং এর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। আর যদি ছহীহ সাব্যস্ত হয়, তাহলে অর্থ হবে- কুরআনে এমন কিছু রয়েছে যা পাঠকারীর নিন্দা করা ও লা‘নত করার দাবী করে। এ কারণে যে, সে কুরআন পড়ে কিন্তু কুরআনের নির্দেশগুলো লঙ্ঘন করে এবং নিষেধগুলোতে লিপ্ত হয়। আল্লাহ‌র কিতাবে পড়ে; অথচ আল্লাহর কিতাবে এমন কিছু রয়েছে যা তাকে ও তার মত যারা রয়েছে তাদেরকে গালি দেয়ার দাবী করে। যেহেতু তারা আদেশগুলো লঙ্ঘন করে এবং নিষেধগুলোতে লিপ্ত হয়। এটাই এর নিকটতম মর্ম; যদি তা নবী (ﷺ) হতে ছহীহ সাব্যস্ত হয়। কিন্তু আমি নবী (ﷺ) থেকে এর সত্যতা জানি না’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া বিন বায, ২৬/৬)।


প্রশ্নকারী : আনোয়ার, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১৬) : রামাযান মাসে মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন খতম করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : শরী‘আতে মুমিন নারী এবং পুরুষকে তাদের দৃষ্টি হেফাযত করতে বলা হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত চোখ পরে যাওয়া গুনাহ নয়; তাহলে অনলাইনে আলেমগণের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক লেকচার শোনার সময়, অনেক সময় এমন হয় যে, এক দৃষ্টিতে আলেমদের মুখের দিকে তাকিয়ে লেকচার শুনতে হয়। তখন শুধু তারা কী বলছেন সেদিকেই মনোযোগ থাকে। এখন জিজ্ঞাসা হলো, এতে কি একজন নারীর গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮): খ্রিস্টানদের স্থাপিত স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ইমাম মসজিদের মেহরাবের কোথায় দাঁড়াবে? মেহরাবের ভিতরে, না-কি বাইরে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : লাইলাতুল ক্বদর কি দেশভেদে একাধিক হতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): কোন যালিম শাসক মৃত্যুবরণ করলে ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : যদি বিড়াল, বেজি, কুকুর বা শেয়াল কোন হাঁস-মুরগীকে আহত করে, তাহলে উক্ত হাঁস-মুরগী খাওয়া যাবে কি ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭)  : জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, যারা চার মাযহাব কিংবা চার তরীক্বা মানবে না তারা কাফের। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ইসলামী বইপুস্তক যেমন- ফিক্বহ, আক্বীদা, তাফসীর ইত্যাদি বিষয়ক বইপুস্তকের উপর অন্য কোন জিনিসপত্র রাখা কিংবা ইসলামী বইপুস্তক একটার উপর আরেকটি রাখার ব্যাপারে আলেমগণের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কিভাবে হাদীছের ছহীহ ও যঈফ নির্ধারণ করা হয়েছে? জনৈক আলেম বলেন, তাঁরা রাবীদের সৎ‌ কিংবা অসৎ, দুর্বল, হাদীছ ভুলে যাওয়া ইত্যাদি কারণে হাদীছকে যঈফ বলা হয়। তার দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : জনৈক আলেম বলেন, জোড় রাতেও ক্বদর হতে পারে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : জনৈক বক্তা বলেন, আশূরার দিনেই ক্বিয়ামত হবে। উক্ত দাবী কি  শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ