রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ছিয়াম ভঙ্গকারী কারণগুলো নির্ধারিত। কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহতে স্পষ্টভাবে সেগুলো উদ্ধৃত হয়েছে। আর সেগুলো হল- সহবাস, পানাহার, কিংবা যা কিছু সহবাস বা পানাহারের স্থলাভিষিক্ত হবে। যেমন স্যালাইন ইনজেকশন, হস্তমৈথুন, শিঙ্গা লাগানো, ইচ্ছাকৃত বমি করা ও হায়িয (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩৮০২৩)। ছিয়াম ভঙ্গ করার ক্ষেত্রে হস্তমৈথুন ও বেপর্দার মধ্যে পার্থক্য হল- হস্তমৈথুন সত্তাগতভাবে ছিয়াম ভঙ্গকারী ও ছিয়ামের সাথে সাংঘর্ষিক। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ‌ তা‘আলা বলেন, ‘ছিয়াম আমারই জন্য। আমিই এর পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দেব। বান্দা আমার জন্য পানাহার ও যৌনসুখ বর্জন করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৮৯৪, ৭৪৯২; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫১)। নিঃসন্দেহে হস্তমৈথুন যৌনসুখের অন্তর্ভুক্ত, তাই সেটি সহবাস ও পানাহারের ন্যায় ছিয়াম ভঙ্গকারী। ইবনু হাজার হাইছামী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, الإستمناء مفطر بعينه ‘হস্তমৈথুন নিজেই ছিয়ামভঙ্গকারী’ (আল-ফাতাওয়া আল-ফিক্বহিয়্যাহ আল-কুবরা, ২/৭৩ পৃ.)।

শায়খ মুহাম্মাদ মুখতার আশ-শানক্বিত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যৌনসুখ’ শব্দটিকে আল্লাহ তা‘আলা এখানে ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। ফলে মুখ্য যৌনসুখ, যা সহবাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় সেটি যেমন এর অন্তর্ভুক্ত, ঠিক তেমনি যে যৌনসুখ হস্তমৈথুনের মাধ্যমে অর্জিত হয় সেটিও এর অন্তর্ভুক্ত। যখন সে বীর্যপাত করে তখন তার যৌনসুখ লাভ হয়। এটিই হচ্ছে প্রধান যৌনসুখ। এ দিক থেকে সে ছিয়াম ভঙ্গকারী হিসাবে গণ্য হয়। কারণ ছিয়াম পালনকারী তার যৌনসুখকে ত্যাগ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি হস্তমৈথুন করল সে তো আর যৌনসুখকে ত্যাগ করল না’ (শারহু যাদিল মুস্তাক্বনি‘, ৪/১০৪ পৃ.; ‘আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ৪/১০০ পৃ.)। পক্ষান্তরে বেপর্দা হওয়া ছিয়াম ভঙ্গকারী নয়। বরং তা গীবত, মিথ্যা ইত্যাদি গুনাহসমূহের মত একটি গুনাহ। যেগুলোর কারণে ছিয়ামের ছাওয়াব কমে যায়, কিন্তু ছিয়াম ভেঙ্গে যায় না। কখনও কখনও এত বেশি গুনাহ করা হয় যে, ছিয়ামের সম্পূর্ণ ছাওয়াব শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ছিয়ামকে নষ্ট করে না। বরং গুনাহ সত্ত্বেও তার ছিয়াম হয়ে যায় এবং ছিয়াম পালনকারী অপরিহার্যের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যায় এবং তাকে ক্বাযা করতে হবে না (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৩২৩৫২)।

প্রশ্নকারী : শিহাব, মাদারীপুর।





প্রশ্ন (২) : কোন বিদ‘আতী মারা গেলে তার জন্য দু‘আ করা এবং তার প্রশংসা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : স্ত্রীর স্বর্ণালংকার আছে ৩ ভরি। যদি স্ত্রীর স্বর্ণালংকারের যাকাত স্ত্রীর উপর হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে সেক্ষেত্রে তো মহিলার নিছাব পূর্ণ হচ্ছে না। অন্যদিকে স্বামীর ৫০,০০০-৬০,০০০/- টাকা আছে, তাহলে কি স্বামীকে স্ত্রীর স্বর্ণালংকার সহ হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : জনৈক আলেম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুমু‘আর দিন তার মাতা-পিতা অথবা তাদের মধ্যে কোন একজনের কবর যিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী বলে লেখা হবে’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৭৯০১)। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : ছালাতে ওযূ ছুটে গেলে কী করণীয়? এমতাবস্থায় লজ্জায় যদি কেউ ছালাত চালিয়ে যায়, তাহলে কি কাবীরা গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : প্রচলিত আছে যে, ‘৭০ বছর বয়স হলে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কোন পাপ ফেরেশতারা লিখেন না’। উক্ত দাবী কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ‘হস্তমৈথুন’-এর শাস্তি কী? এর থেকে ত‌ওবা করার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : জনৈক আলেম বলেন, ‘কোন ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যাবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর সামগ্রী তৈরি করে রাখেন’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : জনৈক বক্তা বলেন, যে বান্দা রামাযানের ছিয়াম পালন করে তার সাথে প্রত্যেক দিন তাঁবুতে সুরক্ষিত হুরদের মধ্য হতে একজনকে বিবাহ দিয়ে দেন। প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে ৭০টি দামী কাপড় থাকবে। প্রত্যেকটির রং হবে পৃথক পৃথক। তাকে ৭০ প্রকারের সুগন্ধিযুক্ত রং দেয়া হবে। এক রঙের সাথে অন্য রঙ মিলবে না। প্রত্যেকেই বসে থাকবে হীরার খাটে, যাতে মুক্তা দ্বারা বিন্যস্ত করা থাকবে ৭০টি বিছানা, যার আস্তর থাকবে রেশমের। ৭০টি বিছানার উপর থাকবে ৭০টি পালঙ্ক। প্রত্যের স্ত্রীর জন্য থাকবে ৭০ জন্য সেবিকা, যারা তার সেবা করবে। আর ৭০ জন সেবিকা থাকবে তার সাথে মুলাক্বাতের জন্য। আর প্রত্যেক সহচরের সাথে থাকবে অনেক সম্ভ্রান্ত সাথী। জান্নাতে স্বর্ণের পাত্র থাকবে তাতে বিভিন্ন রঙের খাবার থাকবে। প্রথম যে স্বাদ পাওয়া যাবে শেষেও সে স্বাদ পাওয়া যাবে। আর তার স্বামীকেও অনুরূপ লাল হীরার খাট দেয়া হবে, যার উপর দু’টি স্বর্ণের বালা থাকবে, যা বিন্যস্ত থাকবে লাল হীরা দ্বারা। এটা রামাযানের প্রত্যেক দিন ছিয়াম পালনকারীর জন্য, অন্য নেক আমলের জন্য নয় (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/৯৬৭)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জানাযার ছালাতে ছুটে যাওয়া তাকবীরগুলো কীভাবে আদায় করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : শিশু জন্মের ৩ দিন পর মারা যায়। এরূপ অবস্থায় সেই শিশুর জন্য আক্বীকা করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ঈদ ও অনুরূপ সময়ে একজন ব্যক্তির নিজের ছবি তুলে পরিবারের কাছে পাঠানো কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : রংধনু অংকিত পাঞ্জাবী কিংবা শার্ট পড়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি কিংবা এরূপ জামা গায় দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ