উত্তর : বিদ‘আতে লিপ্ত থাকা ব্যক্তির তওবা ও আমল কবুল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। বিদ‘আত ও বিদ‘আতী কর্ম সম্পর্কে ইসলামে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিদ‘আত হলো শয়তানের অপবিত্র আবর্জনা (সূরা আন‘আম ১১২; ছহীহ বুখারী হা/৩২১০)। ইসলামের মূল শিক্ষার বাইরে নতুন কোন আচার, অনুশীলন বা আমল চালু করা। আল্লাহ তা‘আলার নিকট কোন আমল গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য দু‘টি শর্ত থাকা অপরিহার্য। প্রথমতঃ ইখলাছ তথা আমল বা ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য করা। রাসূল (ﷺ) বলেন, إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى ‘প্রত্যেক কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। মানুষ যে নিয়ত করবে তাই পাবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯০৭)। দ্বিতীয়তঃ ইবাদতে রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাতের পূর্ণ অনুসরণ করা। রাসূল (ﷺ) বলেন, مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ ‘যে ব্যক্তি আমাদের পক্ষ থেকে স্বীকৃত নয় এমন কোন আমল করল, তা প্রত্যাখ্যাত হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)।
বিদ‘আতের কুপ্রভাব এতই ভয়ঙ্কর যে, বিদ‘আতীর কোন আমলই আল্লাহ তা‘আলা কবুল করবেন না; বরং সবই প্রত্যাখ্যান করবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ قَدِمۡنَاۤ اِلٰی مَا عَمِلُوۡا مِنۡ عَمَلٍ فَجَعَلۡنٰہُ ہَبَآءً مَّنۡثُوۡرًا ‘আমরা তাদের কৃতকর্মগুলোর দিকে অগ্রসর হব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলি-কণায় পরিণত করব’ (সূরা আল-ফুরক্বান : ২৩)।
আমল কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত দু‘টো বিষয়ই আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীতে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, وَ مَنۡ اَحۡسَنُ دِیۡنًا مِّمَّنۡ اَسۡلَمَ وَجۡہَہٗ لِلّٰہِ وَ ہُوَ مُحۡسِنٌ ‘যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে আত্মসমর্পণ করে ও সৎ কর্ম করে, তার অপেক্ষা কার ধর্ম উৎকৃষ্ট?’ (সূরা আন-নিসা: ১২৫)।
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদীছের উপর একটি মূল্যবান কথা বলেছেন। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর বাণী: مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ ‘যে ব্যক্তি আমাদের পক্ষ থেকে স্বীকৃত নয় এমন কোন আমলের প্রচলন করল, তা প্রত্যাখ্যাত হবে’। দ্বিতীয় বর্ণনায় এসেছে, مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ ‘যে ব্যক্তি আমাদের পক্ষ থেকে স্বীকৃত নয় এমন কোন আমল করল, তা প্রত্যাখ্যাত হবে’। হাদীছদ্বয়ে উল্লেখিত শব্দ সম্পর্কে আরবগণ বলেন, الرد শব্দটা এখানে مردود তথা ‘প্রত্যাখ্যাত’ অর্থে। যার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে, যে আমল রাসূল (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয় তা বাতিল, প্রত্যাখ্যাত ও অগ্রহণযোগ্য। এ হাদীছটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি উছূল বা মূলনীতি। এর মাধ্যমে সকল প্রকারের বিদ‘আত, নব আবিষ্কৃত ও বানোয়াট বিষয়াবলীর মূলোৎপাটন করা হয়েছে। তবে আয়েশার (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা দু’টির প্রথমটিতে من أحدث ও দ্বিতীয়টিতে من عمل শব্দ এসেছে। এ হাদীছদ্বয়ের মাধ্যমে সকল প্রকার বিদ‘আতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন, কেউ পূর্ব প্রবর্তিত বিদ‘আত অনুযায়ী আমল করল কিন্তু সে নিজে এর প্রবর্তক নয়, তাহলে তাকে দ্বিতীয় হাদীছের আওতাভুক্ত বলা হবে। মোট কথা সকল প্রকার বিদ‘আত চাই সেটা আমল করা হোক বা প্রবর্তন করা হোক, সবই পথভ্রষ্টতার শামিল ও প্রত্যাখ্যাত’ (ইমাম নববী, শারহু ছহীহ মুসলিম, ১২/১৬ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বি, বরিশাল।