বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২০ অপরাহ্ন
উত্তর : বিদ‘আতে লিপ্ত থাকা ব্যক্তির তওবা ও আমল কবুল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। বিদ‘আত ও বিদ‘আতী কর্ম সম্পর্কে ইসলামে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিদ‘আত হলো শয়তানের অপবিত্র আবর্জনা (সূরা আন‘আম ১১২; ছহীহ বুখারী হা/৩২১০)। ইসলামের মূল শিক্ষার বাইরে নতুন কোন আচার, অনুশীলন বা আমল চালু করা।  আল্লাহ তা‘আলার নিকট কোন আমল গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য দু‘টি শর্ত থাকা অপরিহার্য। প্রথমতঃ ইখলাছ তথা আমল বা ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য করা। রাসূল (ﷺ) বলেন, إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى ‘প্রত্যেক কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। মানুষ যে নিয়ত করবে তাই পাবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯০৭)। দ্বিতীয়তঃ ইবাদতে রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাতের পূর্ণ অনুসরণ করা। রাসূল (ﷺ) বলেন, مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ ‘যে ব্যক্তি আমাদের পক্ষ থেকে স্বীকৃত নয় এমন কোন আমল করল, তা প্রত্যাখ্যাত হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)।

বিদ‘আতের কুপ্রভাব এতই ভয়ঙ্কর যে, বিদ‘আতীর কোন আমলই আল্লাহ তা‘আলা কবুল করবেন না; বরং সবই প্রত্যাখ্যান করবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ قَدِمۡنَاۤ اِلٰی مَا عَمِلُوۡا مِنۡ عَمَلٍ فَجَعَلۡنٰہُ  ہَبَآءً  مَّنۡثُوۡرًا ‘আমরা তাদের কৃতকর্মগুলোর দিকে অগ্রসর হব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলি-কণায় পরিণত করব’ (সূরা আল-ফুরক্বান : ২৩)।

আমল কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত দু‘টো বিষয়ই আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীতে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, وَ مَنۡ اَحۡسَنُ دِیۡنًا مِّمَّنۡ اَسۡلَمَ  وَجۡہَہٗ لِلّٰہِ وَ ہُوَ مُحۡسِنٌ ‘যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে আত্মসমর্পণ করে ও সৎ কর্ম করে, তার অপেক্ষা কার ধর্ম উৎকৃষ্ট?’ (সূরা আন-নিসা: ১২৫)।

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদীছের উপর একটি মূল্যবান কথা বলেছেন। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর বাণী:  مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ ‘যে ব্যক্তি আমাদের পক্ষ থেকে স্বীকৃত নয় এমন কোন আমলের প্রচলন করল, তা প্রত্যাখ্যাত হবে’। দ্বিতীয় বর্ণনায় এসেছে, مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ ‘যে ব্যক্তি আমাদের পক্ষ থেকে স্বীকৃত নয় এমন কোন আমল করল, তা প্রত্যাখ্যাত হবে’। হাদীছদ্বয়ে উল্লেখিত শব্দ সম্পর্কে আরবগণ বলেন, الرد শব্দটা এখানে مردود তথা ‘প্রত্যাখ্যাত’ অর্থে। যার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে, যে আমল রাসূল (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয় তা বাতিল, প্রত্যাখ্যাত ও অগ্রহণযোগ্য। এ হাদীছটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি উছূল বা মূলনীতি। এর মাধ্যমে সকল প্রকারের বিদ‘আত, নব আবিষ্কৃত ও বানোয়াট বিষয়াবলীর মূলোৎপাটন করা হয়েছে। তবে আয়েশার (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা দু’টির প্রথমটিতে من أحدث ও দ্বিতীয়টিতে من عمل শব্দ এসেছে। এ হাদীছদ্বয়ের মাধ্যমে সকল প্রকার বিদ‘আতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন, কেউ পূর্ব প্রবর্তিত বিদ‘আত অনুযায়ী আমল করল কিন্তু সে নিজে এর প্রবর্তক নয়, তাহলে তাকে দ্বিতীয় হাদীছের আওতাভুক্ত বলা হবে। মোট কথা সকল প্রকার বিদ‘আত চাই সেটা আমল করা হোক বা প্রবর্তন করা হোক, সবই পথভ্রষ্টতার শামিল ও প্রত্যাখ্যাত’ (ইমাম নববী, শারহু ছহীহ মুসলিম, ১২/১৬ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বি, বরিশাল।





প্রশ্ন (২৬) : ছালাতে মহিলাদেরকে ইক্বামত দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : জনৈক ব্যক্তি রাগের বশবর্তী হয়ে তার স্ত্রীকে বলে যে, আমার সাথে দেখা করলে কিংবা আমার সাথে কথা বললে ‘তুই আমার মা আর আমি তোর ছেলে’। তারা ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত। এক্ষণে তার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ফুযাইল ইবনু ই‘যায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, لَوْ أَنَّ لُوْطِيًّا اغْتَسَلَ بِكُلِّ قَطْرَةٍ مِّنَ السَّمَاءِ لَقِيَ اللهَ غَيْرَ طَاهِرٍ ‘সমকামী ব্যক্তি যদি আকাশের সমস্ত পানি দিয়ে গোসল করে তারপরও সে অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে’ (যাম্মুল লিওয়াত্ব, দুরী, পৃ. ১৪২; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৪৩৬৭৩)। প্রশ্ন হল- কোন সমকামী ব্যক্তি ভুল বোঝার পরে অনুতপ্ত হয়ে যদি ইখলাছের সাথে তওবাহ করে, তাহলে কি তার সমকামের পাপ ক্ষমা হবে এবং সে কি অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : আল্লাহ তা‘আলার আরশ বহনকারী ফেরেশতার সংখ্যা কত? তাদের আকৃতি কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : অনেকেই হাই তোলার পর أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ বলে থাকে। এব্যাপারে কি কোন হাদীছ বর্ণিত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : বাবার চার ছেলে, মেয়ে নেই। প্রথম ছেলে ও দ্বিতীয় ছেলে ১৫-১৬ বছর থেকে শহরে ব্যবসা করেন। ৩য় ছেলে ১৬-১৭ বছর যাবৎ বাবার সংসারে এখনো হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সংসার দেখাশুনা করে যাচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলে বাবার সংসার থেকে চাল ডাল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়মিত নিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলেকে বাবা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতাও করেছেন, এখন তারা সাবলম্বী। চতুর্থ ছেলে ছোট হওয়ায় লেখাপড়া করে ও বর্তমানে বিবাহ করে বাবার সংসারে খায় আর সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। প্রশ্ন হল- যখন বাবা সব ছেলেকে কিছু কিছু করে জমি লিখে দিতে চাইলেন, তখন তৃতীয় ছেলে সবার উপস্থিতিতে প্রস্তাব করল, ‘আমি যেহেতু ১৬-১৭ বছর ধরে সংসার দেখাশুনা করছি তাই এজমালিতে আমাকে এক বিঘা জমি দেয়া হোক’। উক্ত শর্তে দ্বিতীয় ও চতুর্থ ছেলের কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রথম ছেলে উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তৃতীয় ছেলে বলে, আমি যেহেতু পরিশ্রম করেছি তাই এটা আমার অধিকার। পরবর্তীতে বাবা তৃতীয় ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দেন। এক্ষেত্রে প্রথম ছেলে তৃতীয় জনকে ভাই হিসাবে স্বীকার করতে নারাজ এবং তাকে জাহান্নামী ও হারামখোর বলে প্রচার করতেছে। উল্লেখ্য যে, বাবার জমির পরিমাণ ৪০ বিঘার উপরে। এক্ষেত্রে বাবা কি অপরাধ করেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : আমি একটি দোকানে চাকরি করি। কিন্তু দোকানের মালিক সূদের সাথে জড়িত। আমাকের ব্যাংকের কিস্তি দিতে হয়, ব্যাংকের সাথে লেনদেন করতে হয়। এখানে চাকরি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : আমলে ছালেহ বলতে কোন্ কোন্ আমলকে বোঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : অনেকে কুরবানী করার সময়, যব্হ করার পরে ছুরির আগা দিয়ে পশুর গলার মাঝখানে খোঁচা দিতে থাকে, যার ফলে পশুটি ২ মিনিটের ভিতরে হার্টএটাক করে মারা যায়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এরূপ করা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : কুরবানীর পশুর বয়স কত বছর হলে কুরবানী করা যায়? পশুর দুধের দাঁত পড়ার পর নতুন দাঁত উঠা কি শর্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কুরবানীর দিন কুরবানীর পশু যব্হ করার আগ পর্যন্ত না খেয়ে থাকার কোন বিধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫): এক বছরের বাচ্চা যদি ছালাত আদায়ের সময় কাপড়ে পেশাব-পায়খানা করে দেয়, তাহলে এমতাবস্থায় ছালাত চালিয়ে যেতে হবে, না-কি পোশাক পরিবর্তন করে পুনরায় ছালাত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ