রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত কথা মিথ্যা। এর সত্যতা নেই। এমন কথা বলা বা বিশ্বাস করা যাবে না। তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলার হস্ত বা অন্য যেকোন ছিফাতের সাথে কোন কিছুকে তুলনা করা হারাম। তাঁর ছিফাতকে ‘তাক‌য়ীফ’ (تَكْيِيف) অর্থাৎ রূপদান করা, আকৃতি প্রদান করা, সামঞ্জস্যবিধান করা অথবা ‘তাম‌ছীল’ (تَمْثِيل) অর্থাৎ উদাহরণ, দৃষ্টান্ত অথবা সাদৃশ্য স্থাপন করা নিষিদ্ধ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, لَیۡسَ کَمِثۡلِہٖ  شَیۡءٌ ۚ وَ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ ‘কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা’ (সূরা আশ-শূরা: ১১)। অন্যত্র তিনি বলেন, فَلَا تَضۡرِبُوۡا لِلّٰہِ الۡاَمۡثَالَ ‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর সদৃশাবলী স্থির করো না’ (সূরা আন-নাহল: ৭৪)। এ সম্পর্কে ইমাম আবূ হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وله يد ووجه و نفس ... فهو له صفات بلا كيف... وغضبه ورضاه صفتان من صفاته بلا كيف

‘আল্লাহ তা‘আলার হস্ত, মুখমণ্ডল ও আত্মা ... গুণাবলী রয়েছে, তবে এর ধরণ নির্ধারণ করা যাবে না। আর তাঁর গুনাবলী সমূহের মধ্যে দু’টি গুণাবলী হল- ক্রোধ এবং সন্তুষ্টি, তবে এগুলোর ধরণ ও প্রকৃতির কোন বর্ণনা দেয়া যাবে না’ (আল-ফিকহুল আকবার’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা হিসাবে লিখিত মুল্লা আলী ক্বারী আল-হানাফী এর ‘শারহু কিতাবিল ফিক্বহিল আকবার, পৃ. ৫৮-৫৯)।

ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-কে আল্লাহর বাণী- اَلرَّحۡمٰنُ  عَلَی الۡعَرۡشِ  اسۡتَوٰی ‘রহমান আরশের উপর ইসতাওয়া করেন। (আরোহণ করা, সমাসীন হওয়া, উপবেশন করা) এ আয়াতে বর্ণিত ‘ইসতাওয়া’ শব্দের অর্থ সম্পর্কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলে তিনি অপর কোন প্রতিশব্দ দিয়ে এ শব্দের ব্যাখ্যা না করে বলেন,

الاستواء معلوم والكيف مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة

‘ইসতাওয়ার অর্থ বোধগম্য, এর প্রকৃতি অজ্ঞাত, এর প্রতি ঈমান আনয়ন ওয়াজিব, এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ‘আত’ (শারহুল আক্বীদাতিত ত্বাহাবিয়্যাহ, পৃ. ১২৮; তাফসীরুল খাযিন, ১/১০০ পৃ.)।

ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেন, ‘আল্লাহর গুণাবলী সমূহের প্রতি আমি ঈমান আনয়ন করি, এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করি। তবে এগুলোর আকৃতি-প্রকৃতি জানি না, এর কোন কিছুকে আমি প্রত্যাখ্যানও করি না’ (আব্দুল আযীয আল-মুহাম্মাদ আস-সালমান, পৃ. ২৪)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ রনি ইসলাম, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১০) : যারা সমকামিতার সাথে জড়িত তাদের শারঈ হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ঈদ ও অনুরূপ সময়ে একজন ব্যক্তির নিজের ছবি তুলে পরিবারের কাছে পাঠানো কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আমরা যখনই কোন ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক আমল করতে যায়, তখনই এক শ্রেণির আলেম ছহীহ আমল করতে বাধা দেন আর বলেন ‘ফিতনা হত্যার চেয়েও জঘন্য’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৯১)। প্রশ্ন হল- ছহীহ আমল করা কি ফিতনা? আর যদি ফিতনাই হবে, তাহলে রাসূল (ﷺ) কি এমন ফিতনা সৃষ্টি করে গিয়েছেন (নাউজুবিল্লাহ)। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : জান্নাতের হূরগণ বলবে, نَحْنُ الْخَالِدَاتُ فَلَا نَبِيْدُ وَنَحْنُ النَّاعِمَاتُ فَلَا نَبْأَسُ وَنَحْنُ الرَّاضِيَاتُ فَلَا نَسْخَطُ طُوْبَى لِمَنْ كَانَ لَنَا وَكُنَّا لَهُ ‘আমরা চিরদিন থাকব, কখনও ধ্বংস হব না। আমরা হামেশা সুখে-সানন্দে থাকব, কখনও দুঃখ-দুশ্চিন্তায় পতিত হবে না। আমরা সর্বদা সন্তুষ্ট থাকব, কখনও নাখোশ হব না। সুতরাং তাকে ধন্যবাদ, যার জন্য আমরা এবং আমাদের জন্য যিনি’ (তিরমিযী, হা/২৫৬৪; মিশকাত, হা/৫৬৪৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/৫৪০৭, ১০/১৫০ পৃ.) মর্মে বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হাত তুলে দু‘আর শুরুতে হামদ ও দরূদ পাঠ করার কথা বলা হয়েছে। কোন্ বাক্য দ্বারা হামদ ও দরূদ পাঠ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কা‘বা ঘর ত্বাওয়াফের সময় নিম্নের দু‘আ পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মানুষের মৃত্যুর পর তাকে সামনে রেখে বলা হয় যে, মানুষটি ভাল ছিল, না-কি খারাপ ছিল? প্রচলিত পদ্ধতি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : সমাজে প্রচলিত রয়েছে যে, ‘আদম (আলাইহিস সালাম) হিন্দুস্তান থেকে পায়ে হেঁটে ১০০০ বার হজ্জ করেছেন’। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : গোপন পাপের পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : জনৈক আলেম বলেছেন, ছাগল জান্নাতের প্রাণী। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : যেকোন প্রয়োজনে যেকোন স্থানে দুই হাত তুলে দু‘আ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : দাড়ি একমুষ্টি রেখে বাকি অংশ কাটা যাবে কি? যেখানে ছহীহ বুখারীর ৫৮৯২ নম্বর হাদীছে এসেছে, ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহ আনহুমা) সূত্রে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে- দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহ আনহুমা) যখন হজ্জ বা ওমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন। এছাড়া আরো হাদীছ এসেছে। এই বিষয়ে সঠিক সমাধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ