বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত কথা মিথ্যা। এর সত্যতা নেই। এমন কথা বলা বা বিশ্বাস করা যাবে না। তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলার হস্ত বা অন্য যেকোন ছিফাতের সাথে কোন কিছুকে তুলনা করা হারাম। তাঁর ছিফাতকে ‘তাক‌য়ীফ’ (تَكْيِيف) অর্থাৎ রূপদান করা, আকৃতি প্রদান করা, সামঞ্জস্যবিধান করা অথবা ‘তাম‌ছীল’ (تَمْثِيل) অর্থাৎ উদাহরণ, দৃষ্টান্ত অথবা সাদৃশ্য স্থাপন করা নিষিদ্ধ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, لَیۡسَ کَمِثۡلِہٖ  شَیۡءٌ ۚ وَ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ ‘কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা’ (সূরা আশ-শূরা: ১১)। অন্যত্র তিনি বলেন, فَلَا تَضۡرِبُوۡا لِلّٰہِ الۡاَمۡثَالَ ‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর সদৃশাবলী স্থির করো না’ (সূরা আন-নাহল: ৭৪)। এ সম্পর্কে ইমাম আবূ হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وله يد ووجه و نفس ... فهو له صفات بلا كيف... وغضبه ورضاه صفتان من صفاته بلا كيف

‘আল্লাহ তা‘আলার হস্ত, মুখমণ্ডল ও আত্মা ... গুণাবলী রয়েছে, তবে এর ধরণ নির্ধারণ করা যাবে না। আর তাঁর গুনাবলী সমূহের মধ্যে দু’টি গুণাবলী হল- ক্রোধ এবং সন্তুষ্টি, তবে এগুলোর ধরণ ও প্রকৃতির কোন বর্ণনা দেয়া যাবে না’ (আল-ফিকহুল আকবার’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা হিসাবে লিখিত মুল্লা আলী ক্বারী আল-হানাফী এর ‘শারহু কিতাবিল ফিক্বহিল আকবার, পৃ. ৫৮-৫৯)।

ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-কে আল্লাহর বাণী- اَلرَّحۡمٰنُ  عَلَی الۡعَرۡشِ  اسۡتَوٰی ‘রহমান আরশের উপর ইসতাওয়া করেন। (আরোহণ করা, সমাসীন হওয়া, উপবেশন করা) এ আয়াতে বর্ণিত ‘ইসতাওয়া’ শব্দের অর্থ সম্পর্কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলে তিনি অপর কোন প্রতিশব্দ দিয়ে এ শব্দের ব্যাখ্যা না করে বলেন,

الاستواء معلوم والكيف مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة

‘ইসতাওয়ার অর্থ বোধগম্য, এর প্রকৃতি অজ্ঞাত, এর প্রতি ঈমান আনয়ন ওয়াজিব, এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ‘আত’ (শারহুল আক্বীদাতিত ত্বাহাবিয়্যাহ, পৃ. ১২৮; তাফসীরুল খাযিন, ১/১০০ পৃ.)।

ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেন, ‘আল্লাহর গুণাবলী সমূহের প্রতি আমি ঈমান আনয়ন করি, এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করি। তবে এগুলোর আকৃতি-প্রকৃতি জানি না, এর কোন কিছুকে আমি প্রত্যাখ্যানও করি না’ (আব্দুল আযীয আল-মুহাম্মাদ আস-সালমান, পৃ. ২৪)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ রনি ইসলাম, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২) : দেশের অধিকাংশ মসজিদের মেহরাবের দক্ষিণ দেয়ালে থুথু ফেলার জন্য ছোট্ট একটি জানালা রাখা হয়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : পিরিয়ড হওয়ার দু’একদিন আগে থেকে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এজন্য দাঁড়িয়ে, বসে এমনকি শুয়ে থাকলেও খুব যন্ত্রণা হয়। এজন্য ছালাত আদায় কর সম্ভব হয় না। এভাবে ছালাত ছেড়ে দিলে পাপ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : ছালাতে একাকী কাতারের পিছনে দাঁড়ানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জান্নাতের রক্ষক ‘রিযওয়ান’ কি বিশুদ্ধ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কোনটা নফসের ধোঁকা আর কোনটা শয়তানের ধোঁকা এটা কিভাবে বুঝা যাবে? নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার পথ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : বর্তমানে বহু ঈদগাহে ছালাতের পূর্বেই মুছল্লীদের নিকট হতে ছাদাক্বাহ ও দানের টাকা কালেকশন করা হয়। এটা শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : শিরকের স্বরূপ ও এর প্রকারগুলো কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : আমার এলাকার বাসিন্দারা মাযহাবের অনুসারী এবং তারা খুবই কট্টরপন্থী। বাপ-দাদার আমলকেই তারা ইসলাম মনে করে। কুরআন-হাদীছ অনুযায়ী আমল করার কথা বললে তারা ফিতনা মনে করে। তারা বুঝে না বুঝতেও চায় না; বরং হাসি-ঠাট্টা, গালাগালি করে এবং নানা যুক্তি দেখিয়ে ছহীহ হাদীছ অস্বীকার করে। এক্ষণে গ্রামবাসীকে কিভাবে বুঝানো যাবে? এভাবে শরী‘আতকে অস্বীকার করলে তার বিধান কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : হাদীছে এসেছে, ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তার মধ্যে একটা হল- তারা ঝাড়-ফুঁকের আশ্রয় নিবে না। অথচ হাদীছ থেকে আমরা জানতে পারি, ঝাড়-ফুঁক বৈধ। যেমন সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করা। প্রশ্ন হল-ঝাড়-ফুঁক না করলে বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে, তাহলে সেটা কী ধরনের ঝাড়-ফুঁক?- - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে সিরামিক ইট ব্যবহার করে সুন্দর করা হচ্ছে। এটা দেখে এলাকার লোকেরা ঠাট্টা করে বলাবলি করছে এখান থেকেই ক্বিয়ামত শুরু হবে। এভাবে বলা কি জায়েয?   - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জুম‘আর খুতবা ও ছালাতের সময় এবং অন্যান্য ছালাতের সময় সামনে, পিছনে কিংবা উপর থেকে ভিডিও করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : জনৈক বক্তা বলেন, মহিলারা সারাক্ষণ তাদের চুল বেঁধে রাখবে। এমনকি বাসার মধ্যে একাকী থাকলেও। কারণ চুল বাঁধা না থাকলে শয়তান তার চুল নিয়ে তামাশা করে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ