রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
উত্তর : আক্বীদা ও দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের মূলনীতি হল, আল্লাহর কিতাব, রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাত এবং ছাহাবায়ে কিরামের আদর্শ, বিশেষ করে খুলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ ও সুন্নাতকে পরিপূর্ণরূপে আঁকড়ে ধরা। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে নবী! আপনি বলুন যে, তোমরা যদি আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চাও, তাহলে আমার অনুসরণ কর। তবেই আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন’ (সূরা আলে ইমরান: ৩১)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূলের অনুসরণ করল সে স্বয়ং আল্লাহর অনুসরণ করল’ (সূরা আস-নিসা ৮০)। রাসূল (ﷺ) জুমু‘আর খুত্ববায় বলতেন, ‘অতঃপর সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম নির্দেশনা হচ্ছে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর  নির্দেশনা। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হচ্ছে দ্বীনের ভিতরে নতুন বিষয় আবিষ্কার করা। প্রতিটি বিদ‘আতই গোমরাহী। আর প্রতিটি গোমরাহীর পরিণাম জাহান্নাম’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮৬৭)। অনুরূপভাবে তিনি  বলেছেন, فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّيْنَ الرَّاشِدِيْنَ ‘সুতরাং তোমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হল: আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের ‍সুন্নাতের উপর অবিচল থাক’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৭)। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জন্য ছাহাবীদের ঈমান ও আক্বীদাকে মানদণ্ড হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘অতঃপর তোমরা যেরূপ ঈমান এনেছো তারাও যদি সেরূপ ঈমান আনে, তবে নিশ্চয় তারা হেদায়াত পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা বিরোধিতায় লিপ্ত থাকবে (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৩৭)। সুতরাং নিশ্চিতরূপে আমরা একথা বলতে পারি যে, আক্বীদা, আচরণ ও আমলের ক্ষেত্রে তাওহীদের প্রকৃতি জানতে হলে আল্লাহর কিতাব, রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাত এবং ছাহাবায়ে কিরামের আদর্শ, বিশেষ করে খুলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ ও সুন্নাতকে দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধরতে হবে। অর্থাৎ সালাফে ছালিহীনের মানহাজকে আঁকড়ে ধরতে হবে। প্রকৃত মানহাজ থেকে বিচ্যুত হলেই ভ্রষ্টতা অনিবার্য।

প্রকৃতপক্ষে সালাফী মানহাজের অনুসারী আহলেহাদীছ বা আহলেসুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পথই হল, আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা এবং ছাহাবায়ে কিরামগণ, তাবিঈগণ ও তাবি‘ তাবিঈগণের দেখানো পথ ও পদ্ধতি অনুসারে তার উপর আমল করা। কারণ, আজ মুসলিম বিশ্বে যতগুলো ভ্রান্ত মতবাদ বা দল আছে, প্রত্যেকেই কিন্তু নিজেদের অবস্থানের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য কুরআন ও হাদীছ থেকেই দলীল দিয়ে থাকে। তার পরও তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, কেন? কারণ, তারা ছাহাবাদের তথা সালাফে ছালিহীনের বুঝ ও মূলনীতিকে অবজ্ঞা করে কুরআন ও হাদীছের দলীলগুলোকে নিজেদের স্বার্থে নিজেদের বুঝ অনুযায়ী ব্যবহার করছে। স্বাভাবিকভাবেই যত মত তত পথ তৈরি হয়েছে। অতএব, প্রযুক্তি বিদ্যার সীমাহীন উন্নতির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শী‘আ, রাফিযী, খারিজী, আহলুল কুরআন, ক্বাদারিয়্যাহ, মুরজি‘আহ, জাবারিয়্যাহ, জাহমিয়্যাহ, মু‘তাযিলাহ, কারামিয়্যাহ সহ অসংখ্য ভ্রান্ত মতবাদ ও সম্প্রদায়ের জন্ম হয়েছে। এই ভ্রান্ত মতবাদগুলোই সমাজে প্রচলিত। তাই কম হলেও সালাফী মানহাজের আলিম, বক্তা ও লেখকদের কাছ থেকেই জ্ঞানার্জন করা উচিত এবং তাঁদের-ই লেখা বই-পুস্তক পড়া উচিত। কেননা জ্ঞানের গভীরতা না থাকাটা মোটেও দোষণীয় নয়, কিন্তু ভুল ও ভ্রান্ত জ্ঞানার্জন খুবই হানিকর৷ ঈমানচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে দাঁড়াবে৷ সুতরাং ধর্মীয় জ্ঞানার্জন করার লক্ষে পড়াশোনার আগে মানহাজ দেখে নেয়াটাও অতীব যরূরী। এজন্যই শায়খ ছালিহ আল-ফাওযান বলেন, ‘একজন মুসলিমের জীবনের সর্বক্ষেত্রেই যথা, আক্বীদা-বিশ্বাস, ইবাদাত-বন্দেগি, চালচলন, আচার-ব্যবহার ও লেন-দেন ইত্যাদিতে সকল ক্ষেত্রেই মানহাজের অনুরণ আবশ্যক’ (আল আজওয়াবাতুল মুফীদাহ ‘আন আস-ইলাতিল মানাহিজিল জাদীদাহ  লিশ শায়খ ড. ছালিহ‌ ইবনু ফাওযান আল ফাওযান, প্রশ্ন নং- ৪৪)।


প্রশ্নকারী : মামুন বিন হাশমত, কুষ্টিয়া।





প্রশ্ন (৩২) : পাশাপাশি দু’টি মাসজিদ আছে। একটি জুমু‘আহ মসজিদ অপরটি ওয়াক্তিয়া। জুমু‘আহ মসজিদের আযানেই উভয় মসজিদে পৃথক পৃথক ইক্বামতে জামা‘আত অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্ন হল- জুমু‘আহ মসজিদের আযানে পাঞ্জেগানা মসজিদে আযানবিহীন শুধু পৃথক ইক্বামতে জামা‘আতের সাথে পাঁচ ওয়াক্তের ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : এমন আত্মীয়-স্বজন, যারা কুফরি কালাম বা যাদু-টোনার মাধ্যমে সংসার ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করে, সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে, সংসারের সদস্যদের শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন করে। এ ধরণের আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে এবং যোগাযোগ না করলে গুনাহ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যদি পাপ মুক্তের জন্য বিয়ে করে এবং বিয়ের পর স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে থেকে দুইজন পৃথকভাবে লেখাপড়া করে, তাহলে কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : একইসাথে টয়লেট ও গোসল খানা। সে ক্ষেত্রে টয়লেটের ভিতরে বসে ওযূ করলে বসা অবস্থায় ওযূর দু‘আ সমূহ পাঠ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : চরমপন্থা সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : জুমু‘আর দিন কিছু শর্ত মেনে আগে আগে উপস্থিত হলে প্রতি কদমে যে এক বছরের নফল ক্বিয়াম ও ছিয়ামের ফযীলত বর্ণিত আছে, তা অর্জন করতে হলে খুত্ববা শুরুর কমপক্ষে কতক্ষণ আগে উপস্থিত থাকতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : জিনেরা কি মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে? যদি করে তাহলে জিনে ধরা রোগীর বাঁচার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আমাদের মসজিদের ইমাম ছাহেব বলেছেন, ‘কুরআনের হাফেযদের পিতা-মাতাকে ক্বিয়ামতের দিন নূরের তাজ পরিধান করানো হবে’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : মাঝে মাঝে কেউ যদি ছালাতে রাফ‘ঊল ইয়াদায়েন না করে, তাহলে তার ছালাত বাতিল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : খারেজী, শী‘আ ও কাদিয়ানীরা কি কালেমা পড়া মুসলিম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : একজন স্বামী রাগের মাথায় বলে- ‘তোমাকে ডিভোর্স, তোমার ১৪ গুষ্টিকে ডিভোর্স’। কিন্তু স্বামীর ত্বালাক্ব দেয়ার কোন নিয়ত (ইচ্ছা) ছিল না। সে কথাগুলো শুধু রাগ ও গালির ভাষায়, ত্বালাক্বের উদ্দেশ্য ছাড়া উচ্চারণ করেছে। স্বামী জানে যে, ‘তোমাকে ত্বালাক্ব দিলাম’- এই কথা নিয়তসহ বললে তবেই ত্বালাক্ব হয়। ইংরেজিতে ডিভোর্স, বললে হয় না। এখন প্রশ্ন হলো- এই অবস্থায় স্বামীর উক্তি ‘তোমাকে ডিভোর্স, তোমার ১৪ গুষ্টিকে ডিভোর্স’। বলার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ত্বালাক্ব সংঘটিত হয়েছে কি না? যদি হয়, তাহলে কয়টা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : রিযিক্বের সন্ধানে কি ফজরের ছালাতের পরেই বেরিয়ে পড়তে হবে? অনেকের দোকান কিংবা চাকুরিতে যাওয়ায় বিলম্ব হয়। এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ