রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন
উত্তর : আক্বীদা ও দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের মূলনীতি হল, আল্লাহর কিতাব, রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাত এবং ছাহাবায়ে কিরামের আদর্শ, বিশেষ করে খুলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ ও সুন্নাতকে পরিপূর্ণরূপে আঁকড়ে ধরা। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে নবী! আপনি বলুন যে, তোমরা যদি আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চাও, তাহলে আমার অনুসরণ কর। তবেই আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন’ (সূরা আলে ইমরান: ৩১)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূলের অনুসরণ করল সে স্বয়ং আল্লাহর অনুসরণ করল’ (সূরা আস-নিসা ৮০)। রাসূল (ﷺ) জুমু‘আর খুত্ববায় বলতেন, ‘অতঃপর সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম নির্দেশনা হচ্ছে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর  নির্দেশনা। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হচ্ছে দ্বীনের ভিতরে নতুন বিষয় আবিষ্কার করা। প্রতিটি বিদ‘আতই গোমরাহী। আর প্রতিটি গোমরাহীর পরিণাম জাহান্নাম’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮৬৭)। অনুরূপভাবে তিনি  বলেছেন, فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّيْنَ الرَّاشِدِيْنَ ‘সুতরাং তোমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হল: আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের ‍সুন্নাতের উপর অবিচল থাক’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৭)। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জন্য ছাহাবীদের ঈমান ও আক্বীদাকে মানদণ্ড হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘অতঃপর তোমরা যেরূপ ঈমান এনেছো তারাও যদি সেরূপ ঈমান আনে, তবে নিশ্চয় তারা হেদায়াত পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা বিরোধিতায় লিপ্ত থাকবে (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৩৭)। সুতরাং নিশ্চিতরূপে আমরা একথা বলতে পারি যে, আক্বীদা, আচরণ ও আমলের ক্ষেত্রে তাওহীদের প্রকৃতি জানতে হলে আল্লাহর কিতাব, রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাত এবং ছাহাবায়ে কিরামের আদর্শ, বিশেষ করে খুলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ ও সুন্নাতকে দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধরতে হবে। অর্থাৎ সালাফে ছালিহীনের মানহাজকে আঁকড়ে ধরতে হবে। প্রকৃত মানহাজ থেকে বিচ্যুত হলেই ভ্রষ্টতা অনিবার্য।

প্রকৃতপক্ষে সালাফী মানহাজের অনুসারী আহলেহাদীছ বা আহলেসুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পথই হল, আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা এবং ছাহাবায়ে কিরামগণ, তাবিঈগণ ও তাবি‘ তাবিঈগণের দেখানো পথ ও পদ্ধতি অনুসারে তার উপর আমল করা। কারণ, আজ মুসলিম বিশ্বে যতগুলো ভ্রান্ত মতবাদ বা দল আছে, প্রত্যেকেই কিন্তু নিজেদের অবস্থানের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য কুরআন ও হাদীছ থেকেই দলীল দিয়ে থাকে। তার পরও তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, কেন? কারণ, তারা ছাহাবাদের তথা সালাফে ছালিহীনের বুঝ ও মূলনীতিকে অবজ্ঞা করে কুরআন ও হাদীছের দলীলগুলোকে নিজেদের স্বার্থে নিজেদের বুঝ অনুযায়ী ব্যবহার করছে। স্বাভাবিকভাবেই যত মত তত পথ তৈরি হয়েছে। অতএব, প্রযুক্তি বিদ্যার সীমাহীন উন্নতির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শী‘আ, রাফিযী, খারিজী, আহলুল কুরআন, ক্বাদারিয়্যাহ, মুরজি‘আহ, জাবারিয়্যাহ, জাহমিয়্যাহ, মু‘তাযিলাহ, কারামিয়্যাহ সহ অসংখ্য ভ্রান্ত মতবাদ ও সম্প্রদায়ের জন্ম হয়েছে। এই ভ্রান্ত মতবাদগুলোই সমাজে প্রচলিত। তাই কম হলেও সালাফী মানহাজের আলিম, বক্তা ও লেখকদের কাছ থেকেই জ্ঞানার্জন করা উচিত এবং তাঁদের-ই লেখা বই-পুস্তক পড়া উচিত। কেননা জ্ঞানের গভীরতা না থাকাটা মোটেও দোষণীয় নয়, কিন্তু ভুল ও ভ্রান্ত জ্ঞানার্জন খুবই হানিকর৷ ঈমানচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে দাঁড়াবে৷ সুতরাং ধর্মীয় জ্ঞানার্জন করার লক্ষে পড়াশোনার আগে মানহাজ দেখে নেয়াটাও অতীব যরূরী। এজন্যই শায়খ ছালিহ আল-ফাওযান বলেন, ‘একজন মুসলিমের জীবনের সর্বক্ষেত্রেই যথা, আক্বীদা-বিশ্বাস, ইবাদাত-বন্দেগি, চালচলন, আচার-ব্যবহার ও লেন-দেন ইত্যাদিতে সকল ক্ষেত্রেই মানহাজের অনুরণ আবশ্যক’ (আল আজওয়াবাতুল মুফীদাহ ‘আন আস-ইলাতিল মানাহিজিল জাদীদাহ  লিশ শায়খ ড. ছালিহ‌ ইবনু ফাওযান আল ফাওযান, প্রশ্ন নং- ৪৪)।


প্রশ্নকারী : মামুন বিন হাশমত, কুষ্টিয়া।





প্রশ্ন (১) : কেউ না জেনে বিদ‘আতী প্রতিষ্ঠানে বা বিদ‘আতী কাজে দান করলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : এক ভাই সূদের ব্যবসা করেন। তিনি প্রতিবেশি এক ভাইকে ব্যবসার জন্য কিছু টাকা ধার দিবেন এবং এই টাকার বিনিময়ে তিনি কোন প্রকার সূদ নিবেন না, শুধু আসল টাকাই নিবেন। এখন ওই টাকা নিয়ে ব্যবসা করা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জনৈক খতীব বলেছেন, খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ইন্তেকাল হলে তার কবরের জবাব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দিতে চাইলে না-কি স্বয়ং আল্লাহ নিজেই তার কবরের জবাব দিয়েছেন। উক্ত ঘটনাটা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : মুসলিম নারী কি বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : সন্তান-সন্ততি এবং অর্থ-সম্পদ তোমাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ (আনফাল ২৮; তাগাবুন ১৫)। এ কথার সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : প্রতিদিন রাতে সূরা মুলক পড়া সুন্নাহ। প্রশ্ন হল- যদি কেউ মাগরিবের ছালাত অথবা এশার ছালাতের পর সময়ের ব্যস্ততার কারণে মসজিদ থেকে বের হয়ে কর্মস্থানে যেতে যেতে সূরা মুলক পাঠ করে, তাহলে কি ছওয়াব পাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : কুরআন তেলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত আসলে কিভাবে সিজদা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ইমামের সূরা ফাতিহা পড়ার সাথে সাথে মুছল্লীগণও তা পড়বে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : সরকারী ভ্যাট বা কর হিসাবে যাকাতের টাকা প্রদান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ‘আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঈমানের সাথে সমস্ত মানুষের ঈমান ওযন করলে তাঁর ঈমানের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে’-এই হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : হাদীছে বলা হয়েছে যে, খারিজীরা জাহান্নামের কুকুর (ইবনু মাজাহ, হা/১৭৬; সনদ ছহীহ)। কুকুর বলে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ‘আমি তখনও ছিলাম নবী; আদম (আলাইহিস সালাম) যখন রূহ এবং দেহের মধ্যে ছিলেন’ (আহমাদ, হা/১৭১৬৩; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩৭৩) মর্মে হাদীছটি কি ছহীহ? এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ