রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ন
উত্তর : ছালাত ক্বছর এবং জমা সফরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই যতদিন সফরে অবস্থান করবে, স্থায়ী না হওয়া পর্যন্ত ততদিন ছালাত ক্বছর ও জমা করবে (ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ্ দায়িমাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪০৬-৪০৭)।  নবী (ﷺ) এক অনির্দিষ্টকালের সফরে ১৯ দিন পর্যন্ত ক্বছর করেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/১০৮০; তিরমিযী, হা/৫৪৯)। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) শাম দেশে যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে ২ বছর ছিলেন এবং ২ বছরই ছালাত ক্বছর করেছিলেন (মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালিক, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৮৮; ফিকহুস সুন্নাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৮৬)। আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পথে বরফ থাকার ফলে আজারবাইজানে ৬ মাস আটক ছিলেন এবং তাতে তিনি ক্বছর করেছিলেন (মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৩৩৯; বায়হাক্বী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৫২)।

ইমাম ইবনে হাযম্ (রাহিমাহুল্লাহ), ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ), শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ), ইমাম ইবনে ক্বুদামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ), ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ), ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ), আল্লামাহ্ শানক্বিত্বী (রাহিমাহুল্লাহ), শায়খ ছালিহ আল-উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ আল্লামা নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী যে কোন ধরনের সফরে ক্বছর করা জায়েয, যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে সফর বলা হবে, চাই সে সফর দীর্ঘায়িত হোক বা সংক্ষিপ্ত, এর কোন নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। কেননা কুরআন ও ছহীহ হাদীছের মধ্যে সফরের কোন নির্দিষ্ট দূরত্ব ও সময় নির্ধারণ করা হয়নি। তাই এ ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রথার উপরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রচলিত প্রথায় একজন মানুষ যতদূর গমন করলে সফর হিসাবে বিবেচনা করা হয় সেটাই সফর হিসাবে বিবেচিত হবে। যার উপর ভিত্তি করে একজন মুসাফিরের জন্য দুই ছালাত জমা ও ক্বছর করবে (আল-মাহাল্লা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ১৬-২১; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৬৮; আল-মাজমূঊ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩২৫; মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৪তম খণ্ড, পৃ. ১৫, ৩৫, ৪৮, ৪৯; আল-ইখতিয়ারাতুল ফিক্বহিয়্যাহ, পৃ. ৪৩৪; আল-মুগনী, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৯০; যাদুল মা‘আদ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৬৩; আস-সাইলুল জারার, পৃ. ১৮৮; আযওয়াউল বায়ান, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৭৩; আশ-শারহুল মুমতি‘, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৫১-৩৫৩; সিলসিলা ছহীহাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩১১)।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা যখন দেশ-বিদেশে সফর করবে, তখন যদি তোমাদের আশংকা হয় যে, কাফিররা তোমাদেরকে বিপন্ন করবে, সেক্ষেত্রে ছালাত ক্বছর করাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। নিশ্চয় কাফিররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু (সূরা আন-নিসা : ১০১)।

ঈসা বিন হাফস বিন ‘আসিম (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম, তিনি সফরে দু’ রাক‘আতের অধিক আদায় করতেন না। আবূ বাকর, ‘উমার ও ‘উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর একই রীতি ছিল (ছহীহ বুখারী, হা/১১০২; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৮৯)।

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে সফরকে কোন নির্দিষ্ট দূরত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়নি। বরং সাধারণ সফরের কথা বলা হয়েছে (আল-মাজমূঊ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩২৬)। শায়খ ছালিহ আল-উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কুরআন ও ছহীহ হাদীছের কোথাও সফরের কোন নির্দিষ্ট পরিমাপ বা দূরত্ব উল্লেখিত হয়নি। এই জন্য সঠিক মতানুযায়ী, পরিভাষায় বা প্রচলিত অর্থে যাকে সফর বলা হয়, সেই সফরে ছালাত ক্বছর করা চলবে (আশ-শারহুল মুমতি‘, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৯৭-৪৯৮)। ইমাম ইবনে ক্বুদামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিন দিনের কম দূরত্বে ক্বছর করা যাবে না মর্মে কোন তথ্য প্রমাণিত নয় (আল-মুগনী, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৮৯)। অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতানুযায়ী সফরকে ৪৮ মাইল বা প্রায় ৮৮  কিলোমিটারের সঙ্গে শর্তযুক্ত করা অনুচিত (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৪তম খণ্ড, পৃ. ১০৬)।

শায়খ ছালিহ আল-উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ছালাত ক্বছর করার দূরত্বকে কিছু আলিম প্রায় ৮৩ কিলোমিটারের সঙ্গে শর্তযুক্ত করেছেন। আবার কিছু আলিম বর্তমান অবস্থার উপর ছেড়ে দিয়েছেন। সফরের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার না হলেও মানুষ যদি এটাকে সফর গণ্য করে তাহলে সেটা সফর। আর মানুষ যেটাকে সফর হিসাবে গণ্য করে না সেটা ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে হলেও সফর নয়। শেষের এই মতটি শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বেছে নিয়েছেন। কেননা আল্লাহ্ তা‘আলা ছালাত ক্বছর করা বৈধ হওয়ার জন্য কোন নির্দিষ্ট দূরত্ব নির্ধারণ করেননি। একইভাবে নবী (ﷺ)ও কোন নির্দিষ্ট দূরত্ব নির্ধারণ করেননি। আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا خَرَجَ مَسِيْرَةَ ثَلَاثَةِ أَمْيَالٍ أَوْ ثَلَاثَةِ فَرَاسِخَ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ

‘রাসূল (ﷺ) তিন মাইল অথবা তিন ফারসাখ (অর্থাৎ ৯ মাইল) দূরত্বের পথে বাহির হলে ছালাত দুই রাকা‘আত আদায় করতেন অর্থাৎ ক্বছর করতেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৯১; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ৩৮১; ইসলাম সাওয়াল জাওয়াব, ফাতাওয়া নং-৩৮০৭৯)।


প্রশ্নকারী : শামীম, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৫) : হজ্জ বা উমরাহ পালনোত্তর নারীদের চুল কাটার পদ্ধতি কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : বিয়ের সময় মোহরানা আদায় করেননি। পরবর্তীতে স্ত্রীও স্বামীর কাছে মোহরানা চাইনি। এমন অবস্থায় স্বামী মারা গেলে কি মোহরানা আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জনৈক ব্যক্তি ২০-২৫ বৎসর যাবৎ জুয়া খেলে তার সমস্ত হালাল উপার্জন নষ্ট করেছে। অতঃপর জুয়ার মাধ্যমে ৩০-৩৫ লাখ টাকা আয় করে সে ঐ হারাম পথ থেকে আল্লাহর পথে ফিরে আসতে চায়। কিন্তু জুয়া খেলার কারণে নিজেই যেমন ধ্বংস হয়ে গেছে, তেমনি নিজের কোন ঘর নেই, ঘর ভেঙে গেছে, দুই বোনের বিয়ে দিতে পারছে না পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকে। প্রশ্ন হল- আল্লাহর রাস্তায় ফিরে আসার পর জুয়ার মাধ্যমে উপার্জিত ৩০-৩৫ লাখ টাকা দিয়ে কি ঐ ব্যক্তি নিজের ঘর তৈরি করতে পারবে, বোনদের বিয়ে দিতে পারবে কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইসলামী শরী‘আত ছবি তোলার বিষয়ে কী নির্দেশনা দিয়েছে? ছবি তুলার পর তা edit বা আকর্ষণীয় করার জন্য কোন এপপ্স বা সফটওয়্যার ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : আহলে কুরআনদের দাবী হল, আল্লাহ কেবল কুরআন হেফাযতের দায়িত্ব নিয়েছেন, হাদীছের হেফাযতের দায়িত্ব নেননি। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : যে দেশে একাধিক ইসলামী সংগঠন এবং ধর্মীয় নেতা আছেন, কিন্তু তাদের প্রশাসনিক কোন কর্তৃত্ব নেই, তারা কি উক্ত সংগঠনের কর্মীদের থেকে বাই‘আত নিতে পারবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : জনৈক বক্তা বলেন, রাসূল (ﷺ) নবজাতক অবস্থায় একদিন তাঁর মা বাড়ীর আঙ্গিনায় শুইয়ে রেখেছিলেন। অন্যদিকে তাঁর জন্মের পূর্বে তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইন্তিকাল করাই মা আমিনার মন খারাপ ছিল। এমতাবস্থায় চাচা আবূ তালিব বলেন, আমি ঐ অবস্থায় লক্ষ্য করলাম যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) যখন তার হাত ডানদিকে নিচ্ছে তখন চন্দ্র ডান দিকে যাচ্ছে, আর যখন হাত বাম দিকে যাচ্ছে তখন চন্দ্র বাম দিকে যাচ্ছে। আর যখন উভয় হাত নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে, তখন চন্দ্রও তাঁর নিকটবর্তী হচ্ছে। নবুওয়াত প্রাপ্তির পর চাচা আবূ তালিব এ সম্পর্কে রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, জন্মের পূর্বে আমার পিতা মারা যাওয়ায় আমার মায়ের মন খারাপ ছিল। তাই ঐ সময়ের জন্য আল্লাহ তা‘আলা চন্দ্রকে আমার খেলনাস্বরূপ বানিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে আমার আনন্দের কোন ঘাটতি না পড়ে’। উক্ত ঘটনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : কতটুকু পরিমাণ পেশাব লাগলে কাপড় ধুতে হবে? কাপড়টা কি পুরোটাই ধুতে হবে, না-কি যতটা লেগেছে ততটা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : জনৈক বক্তা বলেন, আশূরার দিনেই ক্বিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ওযূ করার পর ছালাত চলাকালীন যদি জানতে পারি যে, আমার দাঁতে সামান্য খাবার অবশিষ্ট আছে। এখন উক্ত ছালাত কি ওযূ করে আবার পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ঋণগ্রহীতা ও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি মুক্তির জন্য কী করতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : হাদীছে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কুরআনে নিজের মত পেশ করবে সে জাহান্নামে যাবে। যুগ যুগ ধরে মুফাসসিরগণ কুরআনের তাফসীর করতে কুরআন, হাদীছ, ছাহাবী, তাবেঈদের উক্তির পাশাপাশি নিজ চিন্তা, গবেষণা ও মত প্রকাশ করেন। তাহলে হাদীছে নিজ মত প্রকাশ করা বলতে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ