বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২৩ অপরাহ্ন
উত্তর : বিশেষ প্রয়োজনে এমন করা দোষনীয় নয়। বরং করাটাই অপরিহার্য। শরী‘আতসম্মত কারণে সাময়িক গর্ভনিরোধক মাধ্যম গ্রহণ করা জায়েয। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ ‘নিজের কোন অনিষ্টতা বা ক্ষতি এবং পরস্পরে কারোর ক্ষতি করা যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪০-২৩৪১; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫০; ইবনু বায, মাজমূউ ফাতাওয়া, ২১তম খণ্ড, পৃ. ১৯৭-১৯৮, ৯ম খণ্ড, পৃ. ৪৩৪)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ডাক্তার বিপদের আশঙ্কা করেন, তবে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী এবং স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা দোষনীয় নয় (ফাতাওয়া আল-মার’আতুল মুসলিমাহ, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৯৭৮)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটিকে একই প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তাঁরা বলেন, ‘প্রশ্নে উল্লেখিত বর্ণনা অনুযায়ী ঝুঁকি প্রতিরোধে ও আগত বিপদ দূরীকরণার্থে জরায়ু অপসারণ করা বা বন্ধ্যাত্বকরণ অনুমোদিত। আল্লাহই সর্ব শক্তিমান ও সাফল্য দানকারী’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমাহ, ১৯তম খণ্ড, পৃ. ৩১৬-৩১৭)। ‘ইসলাম ওয়েব’-এর আলেমগণ বলেন, ‘বিশেষ প্রয়োজন ও শরী‘আতসম্মত কারণ ব্যতীত অপারেশনের মাধ্যমে চিরতরের জন্য সন্তান ধারণের ক্ষমতা বিনষ্ট করা বা বন্ধ্যাত্বকরণ হারাম। ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলে এবং জরায়ু অপসারণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে চিকিৎসা সম্ভবপর না হলে বিশ্বস্ত ও ঈমানদার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জরায়ু অপসারণ করা বৈধ’ (মাজাল্লাতুল মাজমা‘আ, সমাবেশ নং-৪, ১ম খণ্ড, পৃ. ৭৩; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৫৪৫৭৩, ৩৬৭৬৮, ১৭৫৫৩)।

দ্বিতীয়তঃ এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করা উচিত। আমরা যেন বৈধতার অন্তরালে নিজেদের মনস্কামনাকে চরিতার্থ না করি। ব্যক্তি তার নিজস্ব স্থানে কতটা অসহায় নিশ্চয় সে সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা সর্বাধিক জ্ঞাত। তাই এক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের অন্তরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ কেটে ফেলে দেয়া বা ফেলে দিতে বাধ্য করা কোন সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা কর না, কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হলে তার উত্তরাধিকারীকে তো আমি প্রতিশোধ গ্রহণের অধিকার দিয়েছি। সুতরাং হত্যার ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে, নিশ্চয় সে সাহায্যপ্রাপ্ত’ (সূরা বানী ইসরাঈল : ৩৩)। অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা যথার্থ ও সংগত কারণ ছাড়া সন্তান হত্যার ব্যাপারে কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এখন কেউ যদি সামান্য কারণে বা বাহানায় সন্তান প্রজননের ক্ষমতাই চিরতরে নষ্ট করে দেয়, তাহলে তা কত বড় অপরাধ হবে! একবার তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রহমান, মোল্লাহাট, বাগেরহাট।





প্রশ্ন (১২) : ছালাত আদায় করার সময় কারো জামায় যদি প্রাণীর ছবি থাকে তাহলে কি তার ছালাত আদায় হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : জনৈক ব্যক্তি সোমবার ও বৃহস্পতিবার নফল ছিয়াম পালন করে। কিন্তু কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে আবার কখনো স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে উক্ত ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলে। এমতাবস্থায় সে কি গুনাহগার হবে কিংবা এ জন্য কি কাফফারা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : নারীদের টিপ পরার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : সুন্নাত ছালাত সমূহ দুই দুই রাক‘আত করে পড়তে হবে, না-কি এক সালামে চার রাক‘আত পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : বাড়ির চাকর থেকে কি পর্দা করতে হবে? কেউ কেউ বলে, মাথায় কাপড় থাকলে সমস্যা নেই। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : বর্তমান সময়ে খুবই প্রচলিত একটা ব্যাবসা হচ্ছে, কম মূল্যে পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রেতার নিকট থেকে আগেই পণ্যের টাকা নিয়ে নেয়। অতঃপর ২/৩ মাস বা আরো বেশি সময়ের পর পণ্য দেয়। মানুষের প্রয়োজনীয় যত পণ্য আছে প্রায় সবই দিয়ে থাকে বিভিন্ন অফারে। যেমন ৫০%, ১০০%, কোন কোনটা ১৫০% ছাড়। যেমন : ২৫ হাজার টাকার ফ্রীজ ১২ হাজার টাকায়- ডেলিভারি দিবে ২/৩ মাস পর। এভাবে মোবাইল, মোটর সাইকেল ইত্যাদি। এই ব্যবসা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইসলামে হালাল ও হারাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ‘তাওহীদে আসমা ওয়াছ ছিফাত’ কাকে বলে এবং এর দাবি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আল্লাহর ওলী কারা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : পিঁপড়া, আরশোলা, ছারপোকা ইত্যাদি হত্যা করা বৈধ কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ছালাতে প্রথম ও তৃতীয় রাক‘আত শেষে না বসে সরাসরি উঠে যাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ছালাত আদায় না করার শাস্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ