উত্তর : ইসলামে রিযিক বলতে শুধু অর্থ-সম্পদ বোঝায় না; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দা যে উপকার, কল্যাণ ও জীবনধারণের উপকরণ লাভ করে, তা-ই রিযিকের অন্তর্ভুক্ত। রিযিকের প্রকৃত মালিক আল্লাহ তা‘আলা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَا مِنۡ دَآبَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ رِزۡقُہَا ‘পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই, যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই’ (সূরা হূদ : ৬)। আল-কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহতে রিযিককে নির্দিষ্ট সংখ্যায় ভাগ করে দেয়া হয়নি। তাই রিযিকের দুই প্রকার, চার প্রকার বা সাত প্রকার—এভাবে নির্দিষ্ট বিভাজন করা যাবে না। কিন্তু রিযিক নিয়ে এমন দুশ্চিন্তায় ডুবে যাওয়া, যাতে আল্লাহর প্রতি আস্থা নষ্ট হয়, হারাম উপার্জনের পথে যেতে হয় কিংবা ইবাদত ও দায়িত্ব অবহেলিত হয়—তা নিন্দনীয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ مَنۡ یَّتَّقِ اللّٰہَ یَجۡعَلۡ لَّہٗ مَخۡرَجًا- وَّ یَرۡزُقۡہُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ
‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করে না’ (সূরা আত-ত্বালাক্ব : ২-৩)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
لَوْ أَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُونَ عَلَى اللهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ
‘তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল করতে, তবে তিনি তোমাদের এমনভাবে রিযিক দিতেন, যেভাবে পাখিদের রিযিক দিয়ে থাকেন’ (তিরমিযী, হা/২৩৪৪, সনদ হাসান ছহীহ)।
লক্ষ করুন, পাখি সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পেট ভরে ফিরে আসে। অর্থাৎ, তাওয়াক্কুল মানে বসে থাকা নয়; বরং হালাল উপায়ে চেষ্টা করা এবং ফলাফলের ব্যাপারে আল্লাহ্র ওপর ভরসা রাখা। রিযিক নিয়ে দুশ্চিন্তা করার বিধান এককথায় হারাম নয়। স্বাভাবিক উদ্বেগ, পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে চিন্তা এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করা বৈধ। অনিচ্ছাকৃত দুশ্চিন্তা গুনাহ নয়।
প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বী, বরিশাল।