বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

উত্তর : শরী‘আতের দৃষ্টিতে বর্ণিত কথা ও মানতের বিধান কয়েকটি ধাপে বিশ্লেষণযোগ্য। যেমন:

(১) মানত কেবল নিজের মালিকানাধীন সম্পদের ওপর কার্যকর হয়, অন্যের সম্পদের ওপর হয় না। স্বামীদের ওপর স্ত্রীর ধার্যকৃত দেনমোহর পরিশোধ করা আবশ্যক এবং তা স্ত্রীর একক অধিকার (সূরা আন-নিসা : ৪)। সুতরাং কোন নারী যদি মানত করে যে, ‘অন্য কেউ অমুক কাজ করলে সে তার দেনমোহরের টাকা দান করবে’, তবে প্রথমত অন্যের কৃতকর্মের শর্তে ইবাদতহীন সাধারণ বিষয়ে এমন মানত করা ‘নযরে লাজাজ ও গযব’ (রাগ বা ঝগড়াজনিত শপথতুল্য মানত) হিসাবে গণ্য হয়। দ্বিতীয়তঃ যদি দেনমোহরের টাকা ইতিমধ্যে স্বামীর নিকট থেকে স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেয়া হয়ে থাকে, তবে শর্ত বাস্তবায়িত হলে উক্ত টাকা দান করা বা ক্বাফফারা দেয়া আবশ্যক হবে। কিন্তু যদি দেনমোহরের টাকা এখনো স্বামীর কাছে বাকী থাকে বা স্ত্রী হস্তগত না করে থাকে, তবে অপ্রাপ্ত বা নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না থাকা সম্পদের ওপর মানত কার্যকর হয় না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আদম সন্তানের মালিকানায় যা নেই, তাতে কোন মানত কার্যকর হয় না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৪১; তিরমিযী, হা/১৫২৪, সনদ ছহীহ)।

(২) ‘দেনমোহর দান না করা পর্যন্ত স্বামীকে স্পর্শ করতে দেব না’ বলার বিধান: স্ত্রী কর্তৃক বিনা কারণে স্বামীকে তার বৈবাহিক অধিকার (সহবাস বা স্পর্শ) থেকে বঞ্চিত করার কসম বা মানত করা সম্পূর্ণ বাতিল ও গুণাহের কাজ। শরী‘আতে স্ত্রীর ওপর স্বামীর বৈবাহিক অধিকার আদায় করা ওয়াজিব (ছহীহ বুখারী, হা/৫১৯৩)। কোন ব্যক্তি যদি শরী‘আতবিরোধী বা হারাম কাজের মানত করে, তবে তা পূরণ করা হারাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মানত করে সে যেন তা পূরণ করে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানির মানত করে, সে যেন তা না করে (ভাঙন করে)’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৬৯৬)। অতএব, এ ধরনের শর্তের কারণে স্বামীকে স্পর্শ করতে না দেয়া শরী‘আতসম্মত নয়। তাকে অবশ্যই স্বামীর অধিকার আদায় করতে দিতে হবে এবং অন্যায্য কসম বা মানত করার জন্য কাফফারা দিতে হবে।

(৩) মনে মনে মানত করার বিধান: মানত বা কসম কার্যকর হওয়ার জন্য মুখে উচ্চারণ করা শর্ত। কেবল মনে মনে বা অন্তরে কোন মানত বা কসমের সংকল্প করলে তা শরী‘আতের দৃষ্টিতে মানত হিসাবে গণ্যই হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মতের অন্তরের কুচিন্তা ও খেয়ালকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা মুখে উচ্চারণ করে বা কার্যে পরিণত করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৫২৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৭)।

অতএব, মেয়েটি যদি বিষয়টি কেবল মনে মনে ভেবে থাকে এবং মুখে উচ্চারণ না করে থাকে, তবে তার ওপর কোন দান-ছাদাক্বাহ, ক্বাফফারা বা বাধ্যবাধকতা বর্তাবে না। আর যদি মুখে উচ্চারণ করে থাকে, তবে অনতিবিলম্বে স্বামীকে তার বৈবাহিক অধিকার প্রদান করতে হবে এবং রাগের মাথায় কৃত কসম বা মানতের কাফফারা (১০ জন মিসকীনকে খাবার দান/পোশাক দান অথবা ৩ দিন ছিয়াম পালন) আদায় করতে হবে (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ৩৩/৪৪-৪৫ পৃ.; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমা, ২৩/২০৩ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : আমিরুল ইসলাম, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।





প্রশ্ন (২২) : মাগরিবের আযানের পর সুন্নাত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : যারা ছিয়াম পালন করে না তাদেরকে ফিতরা আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : জানাযার ছালাতে এক সালামে ছালাত শেষ করা যায়। প্রশ্ন হলো, অন্যান্য যে কোন ছালাতেও কি এক সালামে ছালাত শেষ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : লালন তথা বাউল গোষ্ঠীর উৎপত্তি ও আক্বীদা সম্পর্কে জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : একজনের বসতবাড়ীসহ ৭৮ শতক জমি রয়েছে। তার এক মেয়ে এক ছেলে ও দু’জন স্ত্রী রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে সন্তান নেই। তবে তার বড় এক ভাই এক বোন রয়েছে। মৃত ব্যক্তির উক্ত সম্পত্তি কিভাবে বণ্টন হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : অনেক মসজিদ বা বাড়ীতে রং-বেরংয়ের জায়নামায দেখা যায়।সেগুলোতে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : কুরবানীর পরে আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন কারা ছিয়াম রাখতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ইসলামের সর্বোত্তম  কাজ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ইমাম দু‘আ কুনূত পাঠ করার সময় মুক্তাদীগণ শুধু আমীন আমীন বলবেন, না-কি ইমামের সাথে দু‘আ কুনূতও পাঠ করবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : জনৈক বক্তা বলেন, ইসলাম ধর্মে এমন একটি নফল ছালাত আছে যা সফর মাসের শেষ বুধবার পূর্বাহ্নের প্রথম প্রহরে এক সালামে চার রাক‘আত আদায় করা খুবই ফযীলতপূর্ণ। পদ্ধতি হল, প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে ১৭ বার সূরা কাওছার, ৫০ বার সূরাহ ইখলাছ এবং একবার করে সূরা নাস ও ফালাক্ব পাঠ করে। সালাম ফিরানোর পর সূরা ইউসুফের ২১ নং আয়াতের শেষাংশ ৩৬০ বার পাঠ করবে। শেষে সূরা আস-সাফফাতের ১৮০-১৮২ নং আয়াত পাঠ করে শেষ করবে। অতঃপর ফক্বীর মিসকীনদের মাঝে কিছু রুটি ছাদাক্বাহ করবে। এর মাধ্যমে বুধবার নাযিল হওয়া সমস্ত বিপদ থেকে মুক্তি লাভ করবে। কারণ প্রত্যেক বছর এই দিন ২০ হাজার ৩০০ শত বালা-মুছীবত নাযিল হয়। প্রশ্ন হল, উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৫) : সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর স্ত্রী কতজন ছিলেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ওযূ করার সময় মুখে ও নাকে পানি দেয়ার সঠিক পদ্ধতি কোনটি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ