উত্তর : জানানো উচিত নয়। কোন ব্যক্তির জন্য দু‘আ করার কারণে যে ছাওয়াব পাওয়া যায় এবং ফেরেশতা দু‘আকারীর জন্য বলেন, ‘তোমার জন্যও অনুরূপ হোক’- এই ছাওয়াব ও দু‘আ লাভের জন্য শর্ত হল- যার জন্য দু‘আ করা হয়েছে সে যেন দু‘আকারীর দু‘আর কথা না জানে। দু‘আকারীর উচিত এই অবস্থার উপর অবিচল থাকা। অর্থাৎ, কারও অনুপস্থিতিতে তার জন্য দু‘আ করবে, কিন্তু তার মনে এমন কোন উদ্দেশ্য থাকা উচিত নয় যে, পরে সে তার ভাইকে জানিয়ে দেবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ও শরী‘আতসম্মত কোন বিশেষ পরিস্থিতির কারণে যদি তার ভাইকে ওই দু‘আর কথা জানাতে বাধ্য হয়, তবে সমস্যা নেই। এতে তার ইখলাছ নষ্ট হবে না কারণ দু‘আটি ইখলাছের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছিল। আর যদি সে উপস্থিত থাকে, তবে মনে মনে দু‘আ করবে, যাতে সে শুনতে না পায় (আল-আদাবুশ শারইয়্যাহ, ১/১৫৭ পৃ.)।
আবুদ দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দু‘আ করলে একজন ফেরেশতা তার জবাবে বলেন, ‘আর তোমার জন্যও অনুরূপ’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৯১২)। তবে একটি বিষয় থেকে বিরত থাকা উচিত, যার জন্য দু‘আ করা হয়েছে, তাকে ‘তুমিও আমার জন্য এমন দু‘আ করো’ এভাবে বলা উচিত নয়। অথবা সে যেভাবে তার জন্য গায়েবানা দু‘আ করেছে, তাকেও সেভাবে দু‘আ করতে বলা উচিত নয়। কারণ, বাহ্যিকভাবে মনে হয়, এটি নিজের নেক আমলের বিনিময়ে অন্যের কাছ থেকে প্রতিদান বা ছাওয়াব লাভের দাবি করার মত হয়ে যায় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩৩১২১৯)।
প্রশ্নকারী : রিয়াদ, ঢাকা।