উত্তর : কুরবানী একটি মহান ইবাদত। তবে ইসলামে ইবাদত আদায়ের পাশাপাশি জীবন, সম্পদ ও সামগ্রিক ক্ষতি এড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই কোন স্থানে যদি গরু কুরবানী আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হয় বা তা করলে নিজের বা অন্য মুসলিমদের জান-মাল, নিরাপত্তা বা সাম্প্রদায়িক অশান্তির বাস্তব আশঙ্কা থাকে, তাহলে গোপনে গরু কুরবানী করা উচিত নয়। এ অবস্থায় যদি অন্য বৈধ কুরবানীর পশুÑ যেমন ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা পাওয়া যায়, তাহলে সেগুলো দিয়েই কুরবানী আদায় করা উচিত। কারণ শরী‘আতের উদ্দেশ্য হল ইবাদত আদায় করা, নিজের বা অন্যের জন্য অযথা ক্ষতি ডেকে আনা নয়। তবে যদি কোন ব্যক্তি গোপনে গরু কুরবানী করেন এবং কুরবানীর সব শরঈ শর্ত পূরণ হয়, তাহলে কুরবানী ছহীহ হওয়ার বিষয়টি এক প্রশ্ন; আর আইন ভঙ্গ করা বা নিজের ও অন্যের জন্য বিপদ সৃষ্টি করা আরেক প্রশ্ন। কুরবানী ইবাদত হিসাবে ছহীহ হতে পারে, কিন্তু অকারণে এমন কাজ করা, যা বড় ধরনের ক্ষতি, ফিতনা বা নির্যাতনের কারণ হয়, শরী‘আতের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لَا تُلۡقُوۡا بِاَیۡدِیۡکُمۡ اِلَی التَّہۡلُکَۃِ ‘তোমরা নিজেদেরকে নিজেদের হাতে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৯৫)।
অন্যত্র তিনি বলেন,
یُرِیۡدُ اللّٰہُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَ لَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান, তিনি তোমাদের জন্য কঠিনতা চান না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৫)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ ‘ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির প্রতিশোধে ক্ষতি করাও যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪০; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/১৪৬১; সনদ ছহীহ)।
গোপনে গরু কুরবানী করলে শারঈ শর্ত পূরণ হলে কুরবানী ছহীহ হবে কিন্তু যদি এর ফলে নিজের বা মুসলিমদের জান-মাল, নিরাপত্তা বা দ্বীনি স্বার্থের বড় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে এমন কাজ করা উচিত নয়। সে ক্ষেত্রে ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দিয়ে কুরবানী আদায় করাই শরী‘আতের অধিকতর প্রজ্ঞাপূর্ণ ও নিরাপদ পন্থা।
প্রশ্নকারী : আব্দুল আলীম, কালিয়াচক, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।