মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কুরবানী একটি মহান ইবাদত। তবে ইসলামে ইবাদত আদায়ের পাশাপাশি জীবন, সম্পদ ও সামগ্রিক ক্ষতি এড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই কোন স্থানে যদি গরু কুরবানী আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হয় বা তা করলে নিজের বা অন্য মুসলিমদের জান-মাল, নিরাপত্তা বা সাম্প্রদায়িক অশান্তির বাস্তব আশঙ্কা থাকে, তাহলে গোপনে গরু কুরবানী করা উচিত নয়। এ অবস্থায় যদি অন্য বৈধ কুরবানীর পশুÑ যেমন ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা পাওয়া যায়, তাহলে সেগুলো দিয়েই কুরবানী আদায় করা উচিত। কারণ শরী‘আতের উদ্দেশ্য হল ইবাদত আদায় করা, নিজের বা অন্যের জন্য অযথা ক্ষতি ডেকে আনা নয়। তবে যদি কোন ব্যক্তি গোপনে গরু কুরবানী করেন এবং কুরবানীর সব শরঈ শর্ত পূরণ হয়, তাহলে কুরবানী ছহীহ হওয়ার বিষয়টি এক প্রশ্ন; আর আইন ভঙ্গ করা বা নিজের ও অন্যের জন্য বিপদ সৃষ্টি করা আরেক প্রশ্ন। কুরবানী ইবাদত হিসাবে ছহীহ হতে পারে, কিন্তু অকারণে এমন কাজ করা, যা বড় ধরনের ক্ষতি, ফিতনা বা নির্যাতনের কারণ হয়, শরী‘আতের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لَا تُلۡقُوۡا بِاَیۡدِیۡکُمۡ  اِلَی التَّہۡلُکَۃِ ‘তোমরা নিজেদেরকে নিজেদের হাতে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৯৫)।

অন্যত্র তিনি বলেন,
 یُرِیۡدُ اللّٰہُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَ لَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান, তিনি তোমাদের জন্য কঠিনতা চান না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৫)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ ‘ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির প্রতিশোধে ক্ষতি করাও যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪০; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/১৪৬১; সনদ ছহীহ)।

গোপনে গরু কুরবানী করলে শারঈ শর্ত পূরণ হলে কুরবানী ছহীহ হবে কিন্তু যদি এর ফলে নিজের বা মুসলিমদের জান-মাল, নিরাপত্তা বা দ্বীনি স্বার্থের বড় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে এমন কাজ করা উচিত নয়। সে ক্ষেত্রে ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দিয়ে কুরবানী আদায় করাই শরী‘আতের অধিকতর প্রজ্ঞাপূর্ণ ও নিরাপদ পন্থা।


প্রশ্নকারী : আব্দুল আলীম, কালিয়াচক, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।





প্রশ্ন (১০) : রামাযান মাসে প্রতিদিন মসজিদে মুছল্লীদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : খাৎনা করার সময় মুখে মিষ্টি দেয়া হয়, অনুষ্ঠান করা, গানবাজনা করা এবং গোসল দেয়ার সময় বিভিন্ন নিয়ম পালন করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : সূদ খাওয়া ও যিনার মধ্যে কোনটি বড় অপরাধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : পৃথিবীতে যেখানে যারা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা জীবন পরিচালিত করে তারাই আহলেহাদীছ। প্রশ্ন হল- ‘আহলেহাদীছ’ নাম না দিয়ে ‘আহলুস সুন্নাত’ নাম দেয়া যাবে কি? কারণ হাদীছের মধ্যে জাল-যঈফ আছে কিন্তু নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর মধ্যে জাল-যঈফ নেই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : একই আমল একাধিক নিয়তে করা যাবে কি? যেমন আইয়ামে বীযের ছিয়ামের তারিখে মাঝেমধ্যে সোম বা বৃহস্পতিবার পড়ে, এছাড়াও অন্যান্য অনেক আমল রয়েছে, যা আমল দেখতে একই কিন্তু তার ফযীলাত ভিন্ন ভিন্ন। তাহলে  সেই আমল একাধিক ফযীলত লাভের নিয়তে করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : অনৈসলামিক উপন্যাসের বই বিক্রি করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : কুরআন তেলাওয়াতের সময় মহিলাদের মাথায় কাপড় দেয়া কি আবশ্যক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : জনৈক আলেম বলেছেন, জান্নাতে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মারইয়াম, মূসার বোন কুলছূম এবং ফেরাঊনের স্ত্রী আসিয়ার বিবাহ হবে। কথাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জনৈক বক্তা বলেন, হাদীছে এসেছে, যে ব্যক্তি ১০ মুহাররম আশূরার দিন গোসল করবে, সারা বছর তার কোন রোগ হবে না। উক্ত বক্তব্য সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মৃতের গোসল করানোর ছহীহ পদ্ধতি কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ঝাড়ফুঁক বৈধ হওয়ার জন্য শরী‘আতে কী কী শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা‘আলা যমীন সৃষ্টি করলেন তখন তা দুলতে লাগল। অতঃপর পাহাড়গুলো সৃষ্টি করে সেগুলো পৃথিবীর উপর স্থীর করেন। অতঃপর পৃথিবী স্থীর হয়ে গেল। ফেরেশতাগণ পাহাড়ের এ শক্তি দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পাহাড় অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ; আর সেটা লোহা। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল, হে প্রভু! আপনার সৃষ্টির মধ্যে লোহা অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগুন। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আগুন অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; পানি। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পানি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; বাতাস। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে বাতাস অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আদম সন্তান। যে তার ডান হাতে দান করে আর দানকে বাম হাত হতে গোপন রাখে। এ ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ