বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : বর্তমান বিশ্বকাপ খেলায় অনেক ক্ষতির দিক রয়েছে, যা শরী‘আতে হারাম। (ক) ফরয ছালাত ছুটে যায় বা বিলম্বিত হয়। (খ) আল্লাহর যিকির ও দ্বীনি দায়িত্ব থেকে বিরত রাখে। (গ) নারী-পুরুষের নগ্ন দৃশ্য দেখা। (ঘ) জুয়া, বাজি বা হারাম উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। (ঙ) অন্ধ দলীয় পক্ষপাত, শত্রুতা ও ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয় । (চ) সময়ের অপচয় ও গুনাহের কারণ হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন, یٰۤاَیُّہَا  الَّذِیۡنَ  اٰمَنُوۡا  لَا تُلۡہِکُمۡ اَمۡوَالُکُمۡ  وَ لَاۤ  اَوۡلَادُکُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল না করে’ (সূরা আল-মুনাফিকূন : ৯)।

বিভিন্ন দলকে সমর্থন করা ও অন্ধ দলীয় পক্ষপাত (عصبية), বিদ্বেষ ও ঝগড়ার কারণ, এটা ইসলামে হারাম। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, دَعُوْهَا فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌ ‘এ ধরনের দলীয় পক্ষপাত পরিত্যাগ কর; কারণ এটি দুর্গন্ধময়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৯০৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮৪)। আরও বলেছেন, لَيْسَ مِنَّا مَنْ دَعَا إِلَى عَصَبِيَّةٍ ‘যে ব্যক্তি আছাবিয়্যাতের (অন্ধ দলীয় পক্ষপাতের) দিকে আহ্বান করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’ (আবূ দাউদ, হা/ ৫১২১, সনদ হাসান)।

এছাড়া বিভিন্ন দেশের বা দলের পতাকা বাড়ির ছাদে লাগানো। এটা অন্ধ ভালোবাসা, যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, لَا تَتَّخِذُوا الۡیَہُوۡدَ وَ النَّصٰرٰۤی اَوۡلِیَآءَ ‘তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে অন্তরঙ্গ অভিভাবক (বন্ধু-সহায়ক) হিসাবে গ্রহণ কর না’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫১)। বিভিন্ন দলের জার্সি পরা যেখানে ক্রুশচিহ্ন, ধর্মীয় প্রতীক বা হারাম বিষয় রয়েছে, যা পরা হারাম। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’ (আবূ দাউদ, হা/৪০৩১, সনদ ছহীহ)।

পঞ্চমতঃ খেলা নিয়ে মিছিল, মিটিং ও উন্মাদনা ঝগড়া, বিদ্বেষ ছড়ায়, ফরয ইবাদতও নষ্টের কারণ হয়। এগুলো শরী‘আতে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لَا  تَنَازَعُوۡا فَتَفۡشَلُوۡا  وَ تَذۡہَبَ رِیۡحُکُمۡ  ‘তোমরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না; তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে’ (সূরা আল-আনফাল : ৪৬)। অন্যত্র তিনি বলেন, وَ لَا تُسۡرِفُوۡا ؕ اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ ‘তোমরা অপচয় কর না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে ভালোবাসেন না’ (সূরা আল-আন‘আম : ১৪১)।


প্রশ্নকারী : মোস্তফা মনোয়ার, হারাগাছ, রংপুর।





প্রশ্ন (২) : ছিয়াম অবস্থায় সাইনোসাইটিস রোগীর পেটের ভেতরে নাকের শ্লেষ্মা চলে গেলে তার ছিয়ামের হুকুম কী? একই রোগী যদি নাকে রক্তসহ ঘুম থেকে জেগে উঠে এবং তার মুখে রক্তের স্বাদ পায় সেক্ষেত্রে হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ছালাতে রুকূ থেকে উঠে দুই হাত উত্তোলন করার পর হাত ছেড়ে দিতে হবে, না-কি আবার বুকে হাত বাঁধতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ওযূ করার সময় মুখে ও নাকে পানি দেয়ার সঠিক পদ্ধতি কোনটি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : প্রত্যেক মানুষ যদি ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে, তাহলে নবী-রাসূলগণকে প্রেরণের প্রয়োজনীয়তা কী ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আমি একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী করি। সেখানে ভ্যান, রিকশা অথবা অটোতে করে মাল ডেলিভারী দেয়। কোম্পানী আমাকে ভ্যান ভাড়ার জন্য ১৫০ টাকা আর রিকশা ভাড়ার জন্য ৫০ টাকা দেয়। কোম্পানী কিন্তু আমার কাজের জন্য বেতনও প্রদান করে। তাহলে কি আমি ঐ টাকার থেকে কম খরচ করে অবশিষ্ট টাকা আমি নিতে পারবো কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ছাগীরা গুনাহের পরিচয় ও পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সহশিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষকতা করে জীবিকা নির্বাহ কি হালাল? এই রকম শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জনৈক আলেম বলেন, যে ব্যক্তি বিড়ি-সিগারেট, গুল, জর্দা পান করবে তার চল্লিশ দিনের ছালাত কবুল হবে না। তিনি দলীল হিসাবে ইবনু মাজাহর ৩৩৭৭ নং হাদীছ পেশ করেছেন। উপরিউক্ত নেশাদার দ্রবগুলোর প্রেক্ষিতে উক্ত দলীল পেশ করা যুক্তিযুক্ত হয়েছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক বক্তা বলেন, ক্বদরের রাতে মানুষের বার্ষিক রিযিক, হায়াত, মউত ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : আদম এবং হাওয়া (আলাইহিমাস সালাম)-এর বিয়ে কে পড়িয়েছেন এবং তাদের বিয়ের মোহর কত ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ইমাম ক্বিরায়াত উচ্চৈঃস্বরে পড়বে এবং মুক্তাদিরা আস্তে পড়বে তার দলীল কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : আমাদের পূর্ব পুরুষ (তিন পুরুষ আগে) ৪ শতক জমি মসজিদের নামে দান করেছিলেন। আর এই ৪ শতক জমির ৩ শতকের উপর তারা মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। বাকি ১ শতক জমি ফাঁকা পড়েছিল। আমরা একপুরুষ ধরে এই ফাঁকা জায়গাটা (মসজিদের সামনে) পারিবারিক কবরস্থান হিসাবে ব্যবহার করছি। এখন আমরা এই জমির জন্য, আমাদের নিজের জমি থেকে মসজিদকে ১ শতক জমি দান করতে পারব কি? আর কবরস্থান কি এভাবেই চালু রাখব, না-কি তা বন্ধ করে দেবো? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ