উত্তর : বর্তমান বিশ্বকাপ খেলায় অনেক ক্ষতির দিক রয়েছে, যা শরী‘আতে হারাম। (ক) ফরয ছালাত ছুটে যায় বা বিলম্বিত হয়। (খ) আল্লাহর যিকির ও দ্বীনি দায়িত্ব থেকে বিরত রাখে। (গ) নারী-পুরুষের নগ্ন দৃশ্য দেখা। (ঘ) জুয়া, বাজি বা হারাম উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। (ঙ) অন্ধ দলীয় পক্ষপাত, শত্রুতা ও ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয় । (চ) সময়ের অপচয় ও গুনাহের কারণ হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন, یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُلۡہِکُمۡ اَمۡوَالُکُمۡ وَ لَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল না করে’ (সূরা আল-মুনাফিকূন : ৯)।
বিভিন্ন দলকে সমর্থন করা ও অন্ধ দলীয় পক্ষপাত (عصبية), বিদ্বেষ ও ঝগড়ার কারণ, এটা ইসলামে হারাম। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, دَعُوْهَا فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌ ‘এ ধরনের দলীয় পক্ষপাত পরিত্যাগ কর; কারণ এটি দুর্গন্ধময়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৯০৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮৪)। আরও বলেছেন, لَيْسَ مِنَّا مَنْ دَعَا إِلَى عَصَبِيَّةٍ ‘যে ব্যক্তি আছাবিয়্যাতের (অন্ধ দলীয় পক্ষপাতের) দিকে আহ্বান করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’ (আবূ দাউদ, হা/ ৫১২১, সনদ হাসান)।
এছাড়া বিভিন্ন দেশের বা দলের পতাকা বাড়ির ছাদে লাগানো। এটা অন্ধ ভালোবাসা, যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, لَا تَتَّخِذُوا الۡیَہُوۡدَ وَ النَّصٰرٰۤی اَوۡلِیَآءَ ‘তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে অন্তরঙ্গ অভিভাবক (বন্ধু-সহায়ক) হিসাবে গ্রহণ কর না’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫১)। বিভিন্ন দলের জার্সি পরা যেখানে ক্রুশচিহ্ন, ধর্মীয় প্রতীক বা হারাম বিষয় রয়েছে, যা পরা হারাম। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’ (আবূ দাউদ, হা/৪০৩১, সনদ ছহীহ)।
পঞ্চমতঃ খেলা নিয়ে মিছিল, মিটিং ও উন্মাদনা ঝগড়া, বিদ্বেষ ছড়ায়, ফরয ইবাদতও নষ্টের কারণ হয়। এগুলো শরী‘আতে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لَا تَنَازَعُوۡا فَتَفۡشَلُوۡا وَ تَذۡہَبَ رِیۡحُکُمۡ ‘তোমরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না; তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে’ (সূরা আল-আনফাল : ৪৬)। অন্যত্র তিনি বলেন, وَ لَا تُسۡرِفُوۡا ؕ اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ ‘তোমরা অপচয় কর না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে ভালোবাসেন না’ (সূরা আল-আন‘আম : ১৪১)।
প্রশ্নকারী : মোস্তফা মনোয়ার, হারাগাছ, রংপুর।