উত্তর : ছালাতের আগে মিসওয়াক করা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাত। তিনি বলেছেন, لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلَاةٍ ‘যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টকর না হত, তাহলে আমি তাদের প্রত্যেক ছালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/৮৮৭)। অন্য হাদীছে ওযূর সময়ে মিসওয়াক করার কথাও এসেছে (আহমাদ হা/৭৪০৬, সনদ ছহীহ)।
মিসওয়াক ব্যবহারের পর কুলি করা আবশ্যক নয়। ছালাতের আগে মিসওয়াক করার অর্থ এই নয় যে, মুখ অবশ্যই নোংরা ছিল। অনেক সময় এর উদ্দেশ্য মুখের দুর্গন্ধ দূর করা অথবা দাঁতের ওপর মিসওয়াক বুলিয়ে মুখকে আরও পরিচ্ছন্ন ও সতেজ করা। মিসওয়াক করতে গিয়ে যদি রক্ত বের হয়, যা সাধারণত খুব কম ঘটে; তাহলে তা ফেলে দেয়া এবং কুলি করা উচিত। আর যদি দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা কোন খাদ্যকণা বা ময়লা বের হয়ে আসে, তাহলে উত্তম হল তা টিস্যু বা অন্য কোন উপায়ে বাইরে ফেলে দেয়া; গিলে না ফেলা। তবে ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত গিলে ফেললে এতে কোন গুনাহ নেই। প্রশ্নকারীর উল্লেখিত কারণে ছালাতের আগে মেসওয়াক করা থেকে মানুষকে বিরত রাখা অতিরঞ্জন এবং সুন্নতের বিরোধিতা। একইভাবে মিসওয়াকের পর কুলি করাকে বাধ্যতামূলক মনে করা দ্বীনের মধ্যে বিদ‘আত (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-১২০১৬১)।
ইমাম ইবনু হাজার আল-আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ছালাতের জন্য দাঁড়ানোর সময় মিসওয়াক করার সুন্নাত হওয়ার হিকমত হল, এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি অবস্থা। তাই উপযুক্ত হল বান্দা যেন পূর্ণ পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যের অবস্থায় থাকে, যাতে ইবাদতের মর্যাদা প্রকাশ পায়’। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন যে, ‘কুরআন তিলাওয়াতকারী মুছল্লীর তিলাওয়াত শোনার জন্য ফেরেশতা তার নিকটবর্তী হন। তাই মেসওয়াকের সঙ্গে ফেরেশতাদের উপস্থিতিরও একটি সম্পর্ক রয়েছে’ (ফাৎহুল বারী শারহু ছহীহিল বুখারী, ২/৩৭৬ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : আব্দুল বাছীর, হড়গ্রাম, রাজশাহী।