উত্তর : সৌন্দর্যবর্ধক পাখি বা অনুরূপ পাখিকে তাদের সৌন্দর্য বা সুমধুর আওয়াজের কারণে বিশেষ খাঁচায় রাখা জায়েয, তবে শর্ত হলো তাদের যথাযথ খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাতৃসূত্রে ভাই আবু উমাইর নামে এক ছোট ছেলে ছিল। তার একটি পাখি ছিল, যার নাম ছিল নুগাইর। পাখিটি মারা গেলে সে খুব দুঃখিত হয়। তখন নবী (ﷺ) তাকে সান্ত্বনা ও মজার ছলে বলেছিলেন, يَا أَبَا عُمَيْرٍ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ؟ ‘হে আবু উমাইর! তোমার নুগাইর পাখিটির কী হলো?’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬১২৯)। নুগাইর একটি ছোট পাখি, যা চড়ুইয়ের মত; কেউ কেউ বলেছেন, এটি বুলবুল জাতীয় পাখি। উলামায়ে কেরাম এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণ গ্রহণ করেছেন যে, পাখি খাঁচায় রাখা বৈধ। কারণ নবী (ﷺ) আবু উমাইরকে এ ব্যাপারে নিষেধ করেননি (ফাৎহুল বারী শারহু ছহীহিল বুখারী, ১০/৫৪৮ পৃ.)।
শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘যে ব্যক্তি তার সন্তানদের আনন্দ দেয়ার জন্য পাখি সংগ্রহ করে খাঁচায় রাখে, তার হুকুম কী?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘এতে কোন অসুবিধা নেই, যদি তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা হয়। কারণ এ ধরনের বিষয়ে মূলনীতি হল বৈধতা এবং এর বিপরীত কোন দলীল আমাদের জানা নেই’ (ফাতাওয়া উলামা আল-বালাদিল হারাম, পৃ. ১৭৯৩)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেছেন, ‘তোতা, বর্ণিল পাখি, বুলবুল ইত্যাদি সৌন্দর্যবর্ধক পাখি তাদের সৌন্দর্য বা সুমধুর কণ্ঠের কারণে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয। কারণ এগুলো দেখা ও তাদের আওয়াজ শোনা একটি বৈধ উপকার। শরী‘আতে এগুলো বিক্রি বা পালন নিষিদ্ধ হওয়ার কোন প্রমাণ নেই। বরং হাদীছ থেকে বোঝা যায় যে, পাখিকে খাঁচায় রাখা বৈধ, যদি তার খাদ্য-পানীয় ও প্রয়োজনীয় যত্ন নেয়া হয়। তারা আরও দলীল হিসাবে নবী (ﷺ)-এর সেই হাদীছ উল্লেখ করেন, যেখানে এক নারী একটি বিড়ালকে বন্দি করে রেখেছিল,
دَخَلَتِ امْرَأَةٌ النَّارَ فِي هِرَّةٍ حَبَسَتْهَا، لَا هِيَ أَطْعَمَتْهَا وَلَا سَقَتْهَا، وَلَا هِيَ تَرَكَتْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ
‘এক নারী একটি বিড়ালকে বন্দি করে রাখার কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। সে তাকে খাবার-পানীয় দেয়নি এবং তাকে ছেড়েও দেয়নি যাতে সে নিজে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৮২; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমাহ, ১৩/৯৩ পৃ., ফৎওয়া নং- ১৮৮০৭)।
আলেমগণ বলেন, যদি বিড়ালকে বন্দি রাখা নিজে নিষিদ্ধ না হয়ে থাকে, বরং নিষিদ্ধ হয় তার অধিকার নষ্ট করা, তাহলে পাখির ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। উল্লেখ্য, কিছু আলেম পাখি খাঁচায় রাখাকে মাকরূহ বলেছেন এবং কেউ কেউ নিরুৎসাহিত করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, শুধু আওয়াজ শোনা বা সৌন্দর্য উপভোগ করা যরূরী প্রয়োজন নয়; বরং এটি বিলাসিতা ও আরামপ্রিয়তার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, যদি পাখির প্রতি কোন যুল্ম না করা হয়, যথাযথ খাদ্য, পানি, পরিচর্যা ও পর্যাপ্ত জায়গা দেয়া হয়, তাহলে খাঁচায় পাখি পালন জায়েয (ফাতাওয়া সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং ৪৮০০৮)।
প্রশ্নকারী : আব্দুর রহমান, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।