বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : এটা তাদের ইসলাম ও শরী‘আতের ব্যাপারে চরম মূর্খতা। তাদের উচিত শরী‘আতের জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করা। তবে যে কুরআন ও ছহীহ হাদীছকে অবমাননা করে নিশ্চিতরূপে কাফির। এ ব্যাপারে সবাই একমত (কাযী আয়ায, আশ-শিফা বি তা‘রীফি হুকুক্বিল মুছত্বাফা, ২/১১০১-১১০৫; আত-তামহীদ, ৪/২৭৮-২৭৯)।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছে, তারাই জাহান্নামবাসী’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ১০, ৮৬)‌। আরো বলেন, ‘আর তিনি ফুরক্বান নাযিল করেছেন। নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। আর আল্লাহ মহা-পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী’ (সূরা আলে ইমরান : ৪)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, ‘কুরআন সম্বন্ধে সন্দেহ পোষণ কুফরী’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৩)।

এমতাবস্থায় আক্বীদাগত কোন বিষয় প্রকাশ্যে অস্বীকার করলে সে কাফির হয়ে যাবে এবং তাওবাহ না করা পর্যন্ত তাকে কাফির বলা যাবে। যেমন আল্লাহর সাথে প্রকাশ্যে শিরক করা, প্রকাশ্যে কোন ফরয বিধানকে অস্বীকার করা, হারামকে হালাল মনে করা ইত্যাদি। অনুরূপভাবে আল্লাহ রাসূল বা দ্বীনকে গালি দেয়া। যেমন শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের কাফির বলেছেন, যারা বলে যে, কুরআন পরিবর্তিত হয়েছে, অথবা যারা বলে কুরআনের কিছু অংশ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে (আস-সারিমুল মাসলূল, ১/৫৯০ পৃ.)।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সর্বসম্মত মতানুযায়ী হাদীছ অস্বীকারকারীরা কাফির। যেমন-
(১) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হাদীছ অস্বীকারকারীদের ধ্বংস অনিবার্য’ (শারহু উছূলি ই’তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল-জামা‘আতি, ৩/৪৭৮ পৃ.)।
(২) ইমাম ইসহাক্ব বিন রাহওয়াইহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যার কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোন একটি ছহীহ হাদীছ পৌঁছেছে, অতঃপর সে কোন ভয়ের আশঙ্কা ছাড়াই তাকে অস্বীকার করেছে, তবে সে নিশ্চিতরূপে কাফির’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ৪/১৯ পৃ., ফৎওয়া নং-১১৫১২৫)।
(৩) শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা মনে করে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আনুগত্য করা অপরিহার্য নয়, তারা কাফির, তাদের হত্যা করা অপরিহার্য’ (আল-ওয়াছিয়্যাতুল কুবরা লি ইবনি তাইমিয়্যাহ, ১/৩১৫ পৃ.)।
(৪) ইমাম সুয়ূত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা নবী (ﷺ)-এর হাদীছকে অস্বীকার করে তারা কাফির এবং তারা ইসলামের গণ্ডি ও চৌহদ্দি থেকে নিষ্কাশিত হয়ে ইয়াহুদী, খ্রিস্টান অথবা অন্য কোন বিধর্মী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে’ (মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ, পৃ. ১৪)।
(৫) ইমাম ইবনে হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি বলে, আমরা শুধু কুরআনের বিধানই মানব, হাদীছ মানব না, তবে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির’ (আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ২/৮০ পৃ.)।
(৬) শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা সুন্নাতকে অস্বীকার করে তারা কাফির ও স্বধর্মত্যাগী। কেননা সুন্নাতকে অস্বীকার করা কুরআনকে অস্বীকার করার নামান্তর। যে কিতাব ও সুন্নাতকে অথবা এর কোন একটিকে অস্বীকার করে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির। অবশ্যই তাকে এ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করা দরকার’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২/৪০৩ ও ৯/১৭৬-১৭৮ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : মোস্তফা মনোয়ার, হারাগাছ, রংপুর।





প্রশ্ন (২৭) : ঈদের ছালাতের খুত্ববাহ শেষে দানকৃত অর্থ দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমামকে দেয়া কতটুকু শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আক্বীদা, আচরণ ও আমলের ক্ষেত্রে তাওহীদের হাক্বীক্বাত বা প্রকৃতি জানার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : টিকটিকি মারার ফযীলত সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। অনেকেই বলে, তা টিকটিকি নয়, বরং তা গিরগিটি কিংবা কাঁকলাস মারতে হবে। এর সঠিক অর্থ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : অফিস চলাকালীন জামা‘আত ছুটে গেলে, পরবর্তীতে ছোট ছোট জামা‘আত হয়। এমন সময় যে ব্যক্তি টাখনুর নিচে প্যান্ট ঝুলিয়ে পরে কিন্তু ছালাতে গুটিয়ে নেয়, এমন ব্যক্তি ইমামতিতে দাঁড়িয়ে গেলে সে জামা‘আতে অংশগ্রহণ করা কি ঠিক হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : বিবাহের আগে যদি কোন পুরুষ কোন মেয়েকে বলে, অমুক মেয়েকে বিবাহ করলে ত্বালাক্ব। অতঃপর তারা বিবাহ করলে কি তাদের মধ্যে ত্বালাক্ব সংগঠিত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : সমাজে যুলুমকারী বা অত্যাচারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বদ দু‘আ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : জনৈক মুছল্লী ১ম জামা‘আত শেষ হওয়ার পর মসজিদে যায় এবং সুন্নাত শুরু করে। পরক্ষণেই বুঝতে পারে যে, মসজিদের অপর কোণে ২য় জামা‘আত হচ্ছে। এখন কি সে সুন্নাত ছেড়ে দিয়ে জামা‘আতে অংশগ্রহণ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : হ্যাচারিতে মাছের কৃত্রিম প্রজননের জন্য ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে বিভিন্ন হরমোন প্রবেশ করানো হয়। বর্তমানে প্রাকৃতিক উৎস হতে মাছের পোনার পরিমাণ ক্রমশঃ কম হওয়ার কারণে এ পদ্ধতির কদর বাড়ছে। এভাবে অপ্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পোনা উৎপাদন কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : মাছ মরে পানির উপরে ভেসে উঠলে তা খাওয়া বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : চর্মরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কি তায়াম্মুম করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কোন মহিলা তার স্বামীর কাছ থেকে খোলা ত্বালাক্ব নিলে বা বিবাহ বিচ্ছিন্ন করলে কতদিন ইদ্দত পালন করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : বাচ্চাদের আশেপাশে জিন পরী বা শয়তান যেন আসতে না পারে, সে জন্য তাদের তারকাটা, রসুন, ম্যাচের কাঠি ইত্যাদি রাখা হয়। এগুলো কি শিরক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ