উত্তর : কোন সমস্যা হবে না। কারণ রাসূল (ﷺ)-এর দেয়া একজন প্রিয় ছাহাবীর উপনাম। প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে, ‘আবূ হুরায়রা’ নামটি কোন ব্যক্তির আসল নাম নয়, বরং এটি একটি ‘কুনিয়াত’ বা উপনাম। আরবী সংস্কৃতিতে ‘কুনিয়াত’ হল সেই নাম, যা সম্মান, স্নেহ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য ‘আবূ’ (পিতা) বা ‘উম্মু’ (মাতা) শব্দ দিয়ে শুরু হয়। ইসলামের সবচেয়ে বেশি হাদীছ বর্ণনাকারী এই মহান ছাহাবীর আসল নাম ছিল আব্দুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসী। একটি বিড়ালছানাকে অত্যন্ত ভালোবাসার কারণে এবং সর্বদা সাথে রাখার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্নেহ করে তাঁকে এই উপনামে ডেকেছিলেন। ছাহাবীর এই উপনামটি যেহেতু নিন্দনীয় কোন অর্থ বহন করে না, বরং রাসূল (ﷺ) কর্তৃক প্রদত্ত এবং ইসলামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক, তাই এই নামে নাম বা উপনাম রাখলে শরী‘আতের দৃষ্টিতে কোন সমস্যা নেই, বরং তা জায়েয। এই বিষয়ে, বিশেষত কুনিয়াতকে আসল নাম হিসাবে ব্যবহার করার প্রসঙ্গে শাইখ মুহাম্মদ ইবনে ছালেহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য:
الألقاب التي لا تُذم لا بأس أن يُسمى الإنسان بها، ولكن أن يجعلها اسماً، أي: يُنادَى به بقطع النظر عن الاسم الأصلي فهذا هو محل النظر، وإن كان الأحسن أن يُسَمَّى باسمه الأصلي كـ عبد الرحمن، ثم يُكنَّى بعد ذلك بأبي هريرة أو غيره
‘যে উপাধি বা কুনিয়াতগুলো নিন্দনীয় নয়, সেগুলোতে মানুষের নাম রাখলে কোন অসুবিধা নেই। তবে যদি এটিকে আসল নাম হিসাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে আসল নাম থেকে দৃষ্টি সরিয়ে শুধু এটি দিয়েই ডাকা হয়, তবে এটি চিন্তার বিষয়। বরং উত্তম হলো: আসল নাম রাখা (যেমন: আব্দুর রহমান), অতঃপর তাকে ‘আবূ হুরায়রা’ বা অন্য কোন নামে কুনিয়াত দেয়া’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েল আল-উছাইমীন, ১০/৯৩ পৃ.)। অতএব, আবূ হুরায়রা কারো নাম হিসাবে রাখলে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে ছাহাবীর মত মূল নামের পাশাপাশি উপনাম হিসাবে ব্যবহার করাই হলো শ্রেষ্ঠ ও উত্তম পন্থা।
প্রশ্নকারী : সেলিম রানা, ডেমরা, ঢাকা।